মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) সংসদীয় আসনে বরাবরই ভোটের ভাগ্য নির্ধারণ করেন চা শ্রমিকরা। বিশাল এই শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর ভোট যেদিকে যাবে, জয়ের পাল্লা সেদিকেই ভারি হবে। এমন সমীকরণ মাথায় রেখেই প্রার্থীরা চষে বেড়াচ্ছেন বিভিন্ন চা বাগান এলাকা।
মৌলভীবাজার-৪ আসন এলাকায় ফিনলে, ডানকান ব্রাদার্স, বাংলাদেশ টি বোর্ড, ন্যাশনাল টি কোম্পানি (এনটিসি) এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন ছোট-বড় বাগানে লক্ষাধিক চা শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্য ভোটার রয়েছেন। ফলে এ আসনের প্রার্থীদের প্রচারের মূল কেন্দ্র চা বাগান। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। প্রার্থীরা চা বাগান চষে বেড়াচ্ছেন এবং চা শ্রমিকদের নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
৪ লাখ ৮৩ হাজার ভোটারের এ আসনে বিএনপি প্রার্থী মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, ১১ দলীয় জোট মনোনীত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রীতম দাশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শেখ নুরে আলম হামিদী, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ জরিফ হোসেন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) মো. আবুল হাসান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহসিন মিয়া– প্রত্যেকেই শ্রমিকদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন।
স্বাধীনতার পর থেকে এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীই বেশির ভাগ সময়ে জয় পেয়েছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য, এবার আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে ভোটের মাঠে বিএনপি প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরী কিছুটা এগিয়ে আছেন। তবে বিএনপি প্রার্থীকে শক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছেন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী মহসিন মিয়া। বিএনপির ভোট দুই বাক্সে ভাগ হওয়ায় ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রীতম দাশ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শেখ নুরে আলম হামিদী জয় পেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
কয়েক দিন ধরে নির্বাচনী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রার্থীরা সাধারণ পথসভার চেয়ে বাগানভিত্তিক ‘উঠান বৈঠক’ ও শ্রমিক সমাবেশকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রার্থীদের প্রধান প্রধান প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে– বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মজুরি পুনঃনির্ধারণ, চা শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবি ‘ভূমি অধিকার’ নিশ্চিত করা এবং বাগান এলাকায় উন্নত স্কুল প্রতিষ্ঠা ও বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মনু-দলই ভ্যালির সভাপতি ধনা বাউরী বলেন, ‘আমাদের চা শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে রয়েছে– মজুরি বৃদ্ধি, আবাসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত। প্রার্থীরা প্রতিবারই ভোটের আগে এসে অনেক কথা বলেন। তবে এবার আমরা সচেতন। যে প্রার্থী আমাদের আবাসন ও রেশন সমস্যার স্থায়ী সমাধান করবে, তাঁকেই সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চাই।’
কানিহাটি চা বাগানের শ্রমিক নেতা সীতারাম বীন বলেন, আমাদের ভোটে যেহেতু জয়-পরাজয়, তাই এবার আমরা হিসাব করেই ভোট দেব। তবে চা বাগানের ভোটারদের হ্যাঁ বা না ভোট বিষয়ে কোনো ধারণা নেই। এ বিষয়ে কোনো প্রার্থীর পক্ষ থেকেও প্রচারণা নেই।
এদিকে নির্বাচনের দিন যতই এগিয়ে আসছে, বাগানগুলোতে প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের তৎপরতা তত বাড়ছে। সব মিলিয়ে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের প্রতিটি চা বাগানে এখন নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে। শেষ পর্যন্ত কার প্রতিশ্রুতির ওপর ভরসা রাখবেন চা শ্রমিকরা, তা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ব্যালটেই প্রমাণিত হবে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.