প্রকাশিত: ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১৫:০৫ (সোমবার)
আলোচনায় সিলেটের আট নারীনেত্রী 

জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নীরব দৌড়ঝাঁপ। সিলেট বিভাগ থেকে এবারও সংরক্ষিত নারী আসনে দুইজন এমপি নির্বাচিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রচলিত বণ্টন অনুযায়ী, সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলা থেকে একজন এবং হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলা থেকে একজন। এ নিয়ে তৈরি হয়েছে বহুমাত্রিক রাজনৈতিক সমীকরণ। সম্ভাব্য আট নারী নেত্রীর নাম আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত দলীয় হাইকমান্ডের কৌশলগত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে কারা যাচ্ছেন জাতীয় সংসদে।


জানাগেছে, সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যেই এসব আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে প্রস্তুতি কার্যক্রম শুরু করেছে। চলতি বছরের মে মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন।


সংবিধান অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিরা সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন না; বরং নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। ফলে দলীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও রাজনৈতিক সমীকরণ এখানে বড় ভূমিকা রাখে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত সদস্যদের ভোটেই নির্ধারিত হবে সংরক্ষিত নারী এমপিদের ভাগ্য।


সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে সিলেট বিভাগে বিশেষ করে বাংলাদেশ বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে জোর আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে দলীয় তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত চলছে হিসাব-নিকাশ।


শাম্মী আক্তার:
আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শাম্মী আক্তার। তিনি হবিগঞ্জ-৪ আসনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। দীর্ঘদিন জেলা রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং নারী নেতৃত্ব বিকাশে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে সংরক্ষিত আসনের দৌড়ে এগিয়ে রেখেছে।


ব্যারিস্টার সামিরা তানজিন চৌধুরী:
সিলেট-৫ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন ব্যারিস্টার সামিরা তানজিন চৌধুরী। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর কন্যা। পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য, পেশাগত যোগ্যতা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যোগাযোগ, সব মিলিয়ে তিনিও সংরক্ষিত আসনের আলোচনায় শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।


সৈয়দা আদিবা হোসেন:
সিলেট-৬ আসনের সাবেক এমপি মরহুম ড. সৈয়দ মকবুল হোসেনের (লেচু মিয়া) কন্যা সৈয়দা আদিবা হোসেন স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয়। পিতার রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও নিজস্ব সাংগঠনিক সম্পৃক্ততায় তিনি তৃণমূলে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছেন। সংরক্ষিত আসন পেতে আলোচনায় রয়েছেন।


সাবিনা খান পপি:
একই আসনের যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রয়াত কমর উদ্দিনের কন্যা সাবিনা খান পপি নারী নেতৃত্বের সেতুবন্ধন তৈরি করে আলোচনায় আসেন। প্রবাসী কমিউনিটি ও স্থানীয় সংগঠনে সক্রিয়তা তাকে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রেখেছে। পপি দুজনই মাঠপর্যায়ে গ্রহণযোগ্য নারী নেতৃত্বের প্রতীক হয়ে উঠছেন। তিনিও এবার সংরক্ষিত আসনের আলোচনায় অবস্থান সৃষ্টি করেছেন।


হাদিয়া চৌধুরী মুন্নি:
সংরক্ষিত আসনের আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাদিয়া চৌধুরী মুন্নি। তিনি সিলেট জেলা বারের সিনিয়র আইনজীবী হিসেবেও পরিচিত। আইন, মানবাধিকার ও সাংগঠনিক রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা তাকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।
নারী সংগঠন থেকে উঠে আসা নেতৃত্ব দলীয় নারী সংগঠনের রাজনীতি থেকেও কয়েকজন শক্ত প্রার্থী আলোচনায় আছেন।

সামিয়া বেগম চৌধুরী:
মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক ভিপি সামিয়া বেগম চৌধুরী দীর্ঘদিন ছাত্ররাজনীতি ও নারী সংগঠনে কাজ করেছেন। সাংগঠনিক দক্ষতা ও শিক্ষা অঙ্গনে সম্পৃক্ততা তার পক্ষে কাজ করছে।


তাহসিন শারমিন তামান্না:
সিলেট জেলা মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তাহসিন শারমিন তামান্নাও আলোচনায় রয়েছেন। তিনি গুম হওয়া ছাত্রদল নেতা ইফতেখার হোসেন দিনারের বোন, এই রাজনৈতিক ও পারিবারিক প্রেক্ষাপট তাকে সহানুভূতি ও গ্রহণযোগ্যতা দুটোই দিয়েছে।


অ্যাডভোকেট জেবুন নাহার সেলিম:
সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম দিলদার হোসেন সেলিমের স্ত্রী জেবুন নাহার সেলিম জেলা মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। দলীয় রাজনীতিতে দীর্ঘ সম্পৃক্ততা ও পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য তাকে দৌঁড়ে রেখেছে।


উল্লেখ্য, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকে এই চার জেলা মিলিয়েই দুইজন নারী সংরক্ষিত এমপি হয়ে আসছেন। যদিও জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনের সংখ্যা বাড়িয়ে ৫০টি করা হয়েছে, সিলেট বিভাগের বরাদ্দ বাড়েনি। 


জাতীয় সংসদের প্রতি ৬টি সাধারণ আসনের বিপরীতে একটি সংরক্ষিত আসন ধরলে, সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের জন্য তিনটি সংরক্ষিত এমপি হওয়া যৌক্তিক, এমন দাবি বিভিন্ন মহল থেকে উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে আঞ্চলিক রাজনৈতিক মহলে আলোচনা থাকলেও এখনো কাঠামোগত পরিবর্তনের কোনো আভাস নেই।