প্রকাশিত: ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১৪:৫১ (সোমবার)
রোজা না রাখার ভয়াবহ শাস্তি

আজ শুক্রবার। রমজানের প্রথম জুমাবার আজ। আজ রহমতের দ্বিতীয় দিন। একদিকে রমজান মাস অপরদিকে দিনটি জুমাবার। আরবিতে বলা যায়, নূরুন আলা নূর। আলোর মধ্যে দ্বীগুন আলো। কুরআনের আলোয় উদ্ভাসিত হোক মুমিনের জীবন। জুমাবারকে হাদীসে সপ্তাহের সেরা দিন বলা হয়েছে। 
রমজান মাসের রোজা ফরয ইবাদাত। একে আবশ্যক বিধানরূপে পালন করা এবং বিশ্বাস করাও ফরয। শরয়ী ওযর ব্যতীত কেউ একে ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দিলে বড় পাপী ও জঘন্য অপরাধী বলে গণ্য হবেন।


অনেকেই শরিয়তসম্মত কারণ ছাড়াই হেলাফেলায় রোজা ভেঙে ফেলেন। যা নিঃসন্দেহে ভয়াবহ গুনাহের কাজ। বেরোজাদারের জন্য রমজান মাসে রেস্তোরাঁ ও রাস্তার পাশের খাবারের দোকানগুলো পর্দা দিয়ে ঘিরে রাখা হয়। সেখানে বাহারি পদের খাবার আর চা, সিগারেটের আড্ডায় মেতে ওঠেন। উদাসীনতায় পার করে দেন রমজান। বঞ্চিত হন অঢেল ফজিলত থেকে। মানুষের লজ্জায় উনারা পর্দার আড়ালে খাবার খান। কিন্তু যিনি সকল কিছুর সৃষ্টিকর্তা, রাজাধিরাজ, বিচার দিনের অধিপতি, তাঁর ভয় উনাদের  অন্তরে থাকে না। তারা ভুলে যান আল্লাহ তায়ালা সকল বিষয়ে অবগত। হোক তা পর্দার আড়ালে কিংবা প্রকাশ্যে। মহান আল্লাহ আমাদের সব বিষয় সম্পর্কে সম্যক অবগত।


ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ত্যাগকারী ও ভঙ্গকারীর শাস্তি কেমন হবে তা নিম্নোক্ত আলোচনা ও হাদিসগুলো দ্বারা প্রস্ফুটিত হয়।


(১)    রোজা পরিত্যাগকারীর শাস্তি: 
আমি ঘুমিয়ে ছিলাম,স্বপ্নে দেখলাম আমার নিকট দুই ব্যক্তি আগমন করল,তারা আমার বাহুদ্বয় ধরে আমাকে এক দুর্গম পাহাড়ে নিয়ে এল। তারপর আমাকে বলল,আপনি পাহাড়ের উপর উঠুন।


আমি বললাম, আমি তো উঠতে পারব না। তারা বলল, আমরা আপনাকে সহজ করে দিব। আমি উপরে উঠলাম। যখন পাহাড়ের সমতলে পৌঁছালাম, হঠাৎ ভয়ঙ্কর আওয়াজ শুনতে পেলাম। আমি বললাম,এসব কিসের আওয়াজ? তারা বলল, এটা জাহান্নামীদের আর্তনাদ।তারপর তারা আমাকে নিয়ে এগিয়ে চলল। হঠাৎ কিছু লোক দেখতে পেলাম, যাদেরকে তাদের পায়ের মাংসপেশী দ্বারা ঝুলিয়ে রাখা  হয়েছে।তাদের মুখের দুই প্রান্ত ছিড়ে ফেলা হয়েছে এবং তা থেকে রক্ত ঝরছে। আমি বললাম, এরা কারা? তারা বলল, যারা ইফতারের সময় হওয়ার আগেই রোজা ভেঙ্গে 
ফেলে।-সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস : ১৯৮৬


(২) রোজা পরিত্যাগ করা জাহান্নামীদের লক্ষণঃ
রোজা ফরয বিধান।পালন করা মহান আল্লাহর নির্দেশ। আল্লাহ তায়ালার আদেশ হলো, তোমাদের মধ্যে যারা রমজান  মাস পাবে তারা যেন এই মাসে রোজা পালন করে। কেউ অসুস্থ হলে বা সফরে থাকলে অন্য সময় এই সংখ্যা পূরণ করবে।-সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৫


উপরোক্ত আয়াত দ্বারা বুঝা যায়, যে ব্যক্তি শরিয়ত অনুমোদিত কারণ ছাড়া রোজা ত্যাগ করল সে ইসলামের রোকন ও ফরয বিধান ত্যাগ করল, সে কবিরা গুনাহ করল। একটি কবিরা গুনাহই মানুষের জাহান্নামি হওয়ার জন্য যথেষ্ট।


(২)    রোজা ত্যাগ কুফরিসদৃশ কাজ:
রোজা ইসলামের ভিত্তি। পঞ্চম স্তম্ভের একটি। শরিয়ত অনুমোদিত কারণ ছাড়া পরিত্যাগ করা মানে কুফরিসদৃশ কাজ করা ।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, রাসুল সা.বলেন, ‘ইসলামের হাতল ও দ্বিনের মূল বিষয় তিনটি; যার ওপর ইসলামের ভিত্তি। যে ব্যক্তি তার একটি ত্যাগ করল, সে এমন অবিশ্বাসীতে পরিণত হলো, যার রক্তপাত বৈধ। 


সেগুলো হচ্ছে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই বলে সাক্ষ্য দেওয়া, ফরজ নামাজ ও রমযানের রোজা। ’  -মাজমাউল জাওয়াইদ : ১/৪৮
(৪)রোজার ক্ষতি অপূরণীয়:
রমজান মাসের একদিন রোজা না রাখলে মানুষ  শুধু গুনাহগারই হয় না, ঐ রোজার পরিবর্তে  আজীবন রোজা রাখলেও রমযানের এক রোজার যে মর্যাদা ও বরকত তা কখনো লাভ করতে পারবেনা এবং কোনোভাবেই এর যথার্থ ক্ষতিপূরণ আদায় হবেনা।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, যে ব্যক্তি অসুস্থতা ও সফর ব্যতীত ইচ্ছাকৃতভাবে রমযানের একটি রোজাও ভঙ্গ করে, সে আজীবন রোজা রাখলেও ঐ রোজার হক আদায় হবে না।মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৯৮৯৩; মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, হাদীস : ৭৪৭৬; সহীহ বুখারী ৪/১৬০


(৫) রোজা ত্যাগ করা দূর্ভাগাদের কাজ:
নবিজি সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি রমজানের এ পবিত্র মাসে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করতে পারল না, সে বড়ই দুর্ভাগা।- ইবনে হিব্বান
অনেকেই  নানা অজুহাতে ও স্বেচ্ছায় পুরো মাহে রমযানের রোজা রাখেন না। এর শাস্তি কত যে ভয়াবহ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই এ বিষয়ে প্রত্যেক মুসলমানের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।