প্রকাশিত: ২৫ মার্চ, ২০২৬ ১৪:৪২ (মঙ্গলবার)
অপারেশন সার্চলাইট: ইতিহাসের বর্বরোচিত গণহত্যা

২৫ মার্চ, ১৯৭১ সালের কালো রাতে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী ট্যাংক, মেশিনগান নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল নিরীহ বাঙালিদের ওপর। পাকিস্তান আর্মির ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামীয় এ অভিযানটি ছিল বিশ্ব ইতিহাসের নৃশংসতম একটি গণহত্যা। এক রাতে এমন নারকীয় হত্যাকাণ্ড পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। 
একাত্তরের ৭ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের পরই বাঙালি চূড়ান্ত মুক্তিযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। তখনো আলোচনার নামে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে পাকিস্তানি শাসকচক্র। মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পরই প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান অপারেশন সার্চলাইটের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে গোপনে ঢাকা ত্যাগ করে করাচি চলে যান।


অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর টিক্কা খান বলেছিলেন, ‘আমি পূর্ব পাকিস্তানের মাটি চাই, মানুষ চাই না।’ তাঁর নির্দেশ পেয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মুক্তিকামী বাঙালিদের ওপর গণহত্যা শুরু করে। 
অপারেশন সার্চলাইট পরিচালনার জন্য পাকিস্তানি সেনারা রাত সাড়ে ১১ টায় সেনানিবাস থেকে বেরিয়ে প্রথম প্রতিরোধের মুখে পড়ে ফার্মগেটে। সেখানে মিছিলের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে অপারেশন সার্চলাইটের সূচনা করে। এরপর একযোগে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, পিলখানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও শাঁখারীবাজারে আক্রমণ চালায়।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল, ইকবাল হল (বর্তমানে জহুরুল হক হল), রোকেয়া হলে সকাল পর্যন্ত গণহত্যা চালিয়ে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করে। একই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পুরান ঢাকা, তেজগাঁও, ইন্দিরা রোড়, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, বিমানবন্দর, কলাবাগান, কাঁঠালবাগানসহ ঢাকা শহরের বহু জায়গায় হামলা চালায়। এ ছাড়া আন্দোলনে সমর্থনের কারণে ইত্তেফাক, সংবাদ ও দ্য পিপলস পত্রিকা অফিস আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়।


পরবর্তীকালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর তৎকালীন কর্মকর্তাদের বক্তব্যেই গণহত্যার ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। তৎকালীন জনসংযোগ কর্মকর্তা সিদ্দিক সালিক ‘উইটনেস টু সারেন্ডার’ বইয়ে অপারেশন সার্চলাইট নিয়ে লিখেছেন, জেনারেল রাও ফরমান আলী হালকা নীল কাগজের অফিশিয়াল প্যাডের ওপর একটি সাধারণ কাঠ পেন্সিল দিয়ে ওই পরিকল্পনা লিপিবদ্ধ করেছিলেন।

১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন, এরপরে ১৯৬৬ এর ছয় দফা, এছাড়াও এই অপারেশনের খুব কাছাকাছি সময়ে হওয়া ৭ই মার্চের ভাষণ লড়াকু বাঙালীর প্রতিবাদের ভাষা কতটা শক্তিশালী তারই ইঙ্গিত করে। পূর্বে ঘটে যাওয়া এসব প্রতিবাদের প্রতিটির বিন্দু একত্রে মিলে, এক কথায় পাকিস্তানের শাসকদের রাতের ঘুম উড়িয়ে দিয়েছিলো। শক্তিতে আর বুদ্ধিতে পূর্ব বাংলার কাছে হেরে যাওয়ার ভয়ে এমন নৃশংসতার পথ বেছে নিয়েছিলো তারা। রচনা করেছিলো ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়।


৭ই মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া সেই ঐতিহাসিক ভাষণের পর বেশ চাপা উত্তেজনায় কেটে যায় কয়েকদিন। আলোচনার নামে ১৫ই মার্চ জেনারেল ইয়াহিয়া খান পূর্ব পাকিস্তানে আসেন। বিমানবন্দরে জেনারেল টিক্কা খান ছাড়া আর কেউ তাকে অভ্যর্থনা জানাতে যায়নি সেদিন। অথচ অন্যান্যবার ফুলের তোড়া প্রদান থেকে শুরু করে সাংবাদিকের ভিড় কোনো কিছুরই কমতি থাকতো না।


সেদিন বঙ্গবন্ধুর সাথে আলোচনা নিজেদের পক্ষে না যাওয়ায় টিক্কা খান, মেজর জেনারেল ফরমাল আলী রাও এবং জেনারেল খাদিম হাসান রাজাকে মিলিটারি অ্যাকশনের প্রস্তুতি নিতে বলেন। এরপর ১৮ মার্চ ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের জিওসি অফিসে বসে বাঙালি নিধনের এই নীল নকশা তৈরির কাজ সম্পন্ন করা হয়।
মূলত পূর্ব বাংলার মানুষদের পুরোপুরিভাবে হতচকিত করে সমগ্র প্রদেশের দখল নেয়া এবং পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সহ কমিউনিস্ট নেতাকর্মীদের গ্রেফতার বা প্রয়োজনে হত্যা করাই ছিলো এই নীল নকশার মূল পরিকল্পনা। অপারেশন সার্চলাইটের পুরো পরিকল্পনা সম্পর্কে মেজর জেনারেল খাদিম হুসাইন রাজার লেখা ‘এ্য স্টেইনজার ইন মাই ওউন কান্ট্রি ইস্ট পাকিস্তান’ বইতে পাওয়া যায়,

১। যে কোন প্রকার প্রতিরোধ সরাসরি বিরোধিতা হিসেবে গণ্য করা হবে এবং তা কঠোর হাতে দমন করা হবে।
২। সফলতা নিশ্চিত করবার লক্ষ্যে বাঙালীকে অতর্কিত আক্রমনে হতচকিত করে দেয়া হবে। এই পরিকল্পনাটি ছিলো সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ন।


৩। বিদ্রোহীদের মধ্যে অস্ত্রশস্ত্র বন্টনের পূর্বেই চট্টগ্রামের বিশ হাজার রাইফেল বাজেয়াপ্ত করতে হবে। পিলখানা, রাজারবাগ-এ অবস্থানরত বাঙালী সৈনিক ও পুলিশদের নিরস্ত্র করতে হবে।
৪। অপারেশনের শুরুতেই সকল প্রকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করতে হবে। পরবর্তী সময়ে আমাদের নিয়ন্ত্রণে তা পুনরায় স্বল্পপরিসরে চালু করা হবে।
৫। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসগুলো ঘেরাও করতে হবে। চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও অস্ত্রশস্ত্রের খোঁজ চালাতে হবে।
৬। শেখ মুজিবকে জীবিত গ্রেফতার করতে হবে। ১৫ জন আওয়ামী লীগ ও কমিউনিস্ট নেতার বাড়ি তল্লাশী করা হবে, ধরা সম্ভব হলে তাদের প্রত্যেককে কাস্টডিতে নেয়া হবে।

১৯৭১ সালের সে স্মৃতিচারণা করে খাদিম হোসেন রাজা লিখেছেন, ‘১৭ মার্চ, সকাল প্রায় ১০টা বাজে। টিক্কা খান আমাকে ও মেজর জেনারেল ফরমানকে কমান্ড হাউসে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে খবর পাঠান। খবর পেয়ে আমরা দুজন টিক্কা খানের সঙ্গে দেখা করি। গিয়ে দেখি, সেখানে জেনারেল আবদুল হামিদ খানও রয়েছেন। টিক্কা খান আমাদের বলেন, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে শেখ মুজিবের সমঝোতা আলোচনা ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে না।
প্রেসিডেন্ট চান আমরা যেন সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিই এবং সে অনুযায়ী একটা পরিকল্পনা তৈরি করি। এ ছাড়া আর কোনো মৌখিক বা লিখিত নির্দেশনা আমরা পাইনি। আমাদের বলা হয়, পরদিন ১৮ মার্চ বিকেলে আমরা দুজন যেন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে ওই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করি।’
তিনি আরো জানান, ‘জেনারেল রাও ফরমান আলী হালকা নীল কাগজের অফিসিয়াল প্যাডের ওপর একটি সাধারণ কাঠ পেন্সিল দিয়ে ওই পরিকল্পনা লিপিবদ্ধ করেছিলেন। অপারেশন সার্চলাইট নামে পরিকল্পনা ছিল ১৬টি প্যারা সংবলিত এবং পাঁচ পৃষ্ঠা দীর্ঘ। পরিকল্পনা অনুমোদিত হলেও কবে সামরিক অপারেশন চালানো হবে সেই দিনক্ষণ নির্ধারিত ছিল না।
সময় জানিয়ে মেজর জেনারেল খাদিম হুসাইনের কাছে লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খানের কাছ থেকে ফোনটি এসেছিল ২৫ মার্চ সকাল ১১টায়। সংক্ষেপে বলা হয়েছিল, ‘খাদিম, আজ রাতেই’। সময় নির্দিষ্ট হয়েছিল রাত একটা। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের হিসেবে অবশ্য তখন ২৬ মার্চ। হিসাব করা হয়েছিল প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ততক্ষণে নিরাপদে করাচি পৌঁছে যাবেন।’

২৫ মার্চের দিন সকাল থেকেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের নতুন পুরানো সব অস্ত্র নিয়ে তৈরি হতে শুরু করে। প্ল্যান করা হয় সেদিন রাত ১টায় অর্থাৎ ২৬ শে মার্চের প্রথম প্রহরে তারা আক্রমণ শুরু করবে। ঠিক হয়, ঢাকায় বিগ্রেডিয়ার আরবাবের ৫৭ বিগ্রেড নিয়ে জেনারেল ফরমান এবং বাকি প্রদেশে আক্রমণের দায়িত্বে থাকবেন জেনারেল খাদিম। অন্যদিকে হানাদার বাহিনীর আক্রমণের পূর্বাভাস পেয়ে বাঙালী সৈন্য, ছাত্র, পুলিশ- সকলে মিলে রাস্তায় গাছের গুড়ি, পুরানো গাড়ি ইত্যাদি দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করে। রাত ১১টায় মিলিটারি সৈন্যরা ফার্মগেটে বাধা পেয়ে রাগে ফেটে পড়ে। সাথে সাথেই তারা ব্যারিকেড এবং বিদ্রোহী দমনে গুলি চালাতে শুরু করে। পরিকল্পনার বাইরে গিয়ে এভাবেই পূর্ব নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই অপারেশন সার্চলাইট শুরু হয়ে যায়।


মৃতদেহ চাপা দেবার উদ্দেশ্যে গর্ত খুঁড়ে রেখে যারা আক্রমন শুরু করেছে তাদের নৃশংসতা কি সহজে থামার কথা?
আক্রমনের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে পড়তে থাকে একের পর এক লাশ। টেনে গর্তে নামিয়ে দেওয়া হয় সেগুলো। পাকিস্তানী মিলিটারিদের প্রথম নিশানা ছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল ও জগন্নাথ হল। নির্বিচারে একের পর এক গুলি চালিয়ে সেখানে ছাত্রদের বুক ঝাঝড়া করা হয়। এরপর তাদের খোঁড়া গর্ত ছাত্রদের লাশ দিয়ে ভরাট করে মাটি চাপা দেয়া হয়।
সে রাতে বাদ যায়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলও। পরপর আক্রমণ করা হয় রোকেয়া হলে। সেখান থেকে ছাত্রীদের ধরে নিয়ে আসা হয় ক্যান্টনমেন্টে। চালানো হয় পাশবিক নির্যাতন। জি সি দেব, ড. ফজলুর রহমান খান সহ আরো বেশ কয়জন শিক্ষককে চোখের পলকে হত্যা করা হয়। সে রাতে এভাবে ৯ জন শিক্ষকসহ বহু ছাত্রকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়।
পরিকল্পনা মাফিক পুরনো ঢাকা, তেজগাঁও, ইন্দিরা রোড, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ঢাকা বিমানবন্দর, গণকটুলী, ধানমন্ডি, কলাবাগান, কাঁঠালবাগান প্রভৃতি স্থানে আক্রমণ চালানো হয়েছিলো সে রাতে। বাঙালির মুক্তির আন্দোলনে সমর্থনের কারণে ইত্তেফাক, সংবাদ ও দি পিপলস সহ আরো কিছু পত্রিকা অফিসে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিলো। এতে বহু সংবাদকর্মী আগুনে পুড়ে মারা গিয়েছিলো।
শুধু ঢাকা নয়, সে রাতে সামরিক যান আক্রমণ চালানো হয়েছিলো চট্টগ্রাম, যশোর, খুলনা, রংপুর, সৈয়দপুর, রাজশাহী, কুমিল্লা ও সিলেটে বসবাসকারী বাঙালিদের ওপরও।
সেই দুর্বিষহ দুস্বপ্নের রাতের বর্ননা দিয়েছেন জেনারেল নিয়াজি তার ‘দ্য বিট্রেয়েল অব ইস্ট পাকিস্তান’ বইতেÑ ‘একটি শান্তিপূর্ণ রাত পরিণত হয় দুঃস্বপ্নে। চারিদকে আর্তনাদ ও অগ্নিসংযোগ। জেনারেল টিক্কা তার সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন যেন তিনি তার নিজের বিপথগামী লোকের সঙ্গে নয়; একটি শত্রুর সঙ্গে লড়াই করছেন। ২৫ মার্চের সেই সামরিক অভিযানের হিংস্রতা ও নৃশংসতা বুখারায় চেঙ্গিস খান, বাগদাদে হালাকু খান এবং জালিয়ানওয়ালাবাগের ব্রিটিশ জেনারেল ডায়ারের নিষ্ঠুরতাকে ছাড়িয়ে যায়।’
২৫ মার্চ রাতের হত্যাকান্ডের পরদিন ঢাকা ছাড়ার মুহুর্তে পাকিস্তান পিপলস পার্টির সভাপতি জুলফিকার আলী ভূট্টো পাক বাহিনীর আগের রাতের কাজের বেশ প্রশংসা করেছিলেন। গদগদ হয়ে মন্তব্য করেছিলেন, ‘আল্লাহকে অশেষ ধন্যবাদ যে পাকিস্তানকে রক্ষা করা গেছে।’
পরবর্তীতে মার্চ মাসের শেষের দিকে অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনায় সেনানিবাসকে কেন্দ্র করে পাকবাহিনী তান্ডব চালায়।
এমনকি ৫ আগস্ট পাকিস্তান সরকার ২৫ মার্চের সামরিক অভিযানকে ‘অত্যাবশ্যকীয়’ হিসেবে চিহ্নিত করে একটি ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশ করেন।

জাতিসংঘ ৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস পালন করে। ১৯৪৮ সালের এই দিন ‘জেনোসাইড কনভেনশন’ বা গণহত্যা সনদ গৃহীত হয়। জাতিসংঘ ২০১৫ সাল থেকে প্রথম দিবসটি পালন করে। ২০১৭ সালে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে ২৫ মার্চকে জাতীয় গণহত্যা দিবস পালনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে গণহত্যা দিবস পালনের জন্য জাতিসংঘে আবেদন করে সরকার।
১৯৪৮ সালে গৃহীত জাতিসংঘের ‘কনভেনশন অন দ্য প্রিভেনশন অ্যান্ড পানিশমেন্ট অব দ্য ক্রাইম অব জেনোসাইড’-এ গণহত্যার পাঁচটি বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়েছে। ১. কোনো গোষ্ঠীর মানুষকে হত্যা; ২. তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম ক্ষতিসাধন; ৩. জীবনমানের প্রতি আঘাত ও শারীরিক ক্ষতিসাধন; ৪. জন্মদান বাধাগ্রস্ত করা এবং ৫. শিশুদের অন্য গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়া। এই পাঁচটি বৈশিষ্ট্যের যেকোনো একটি ঘটলেই তাকে গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। বাংলাদেশের গণহত্যায় চারটি বৈশিষ্ট্য থাকার পরও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে সংঘটিত গণহত্যা কানাডা ও আর্জেন্টিনাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাঠ্যসূচিতে পড়ানো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল ও ডিপল ইউনিভার্সিটি, অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব ম্যাকোরি, ইউনিভার্সিটি অব হংকং, পোল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব লজেসহ বিশ্বের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হচ্ছে। 
জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘মানবসভ্যতার ইতিহাসে বিশ্বে যত গণহত্যা হয়েছে, তাতে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশে অল্প সময়ের মধ্যে বেশিসংখ্যক মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।’ 

২৫ মার্চ দিবাগত রাতে বাঙালি অতিবাহিত করে এমন ভয়ানক রাত যা আগে কখনও আসেনি। সেই রাতে শুরু হয়েছিল বাঙালি জাতিসত্তাকে নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পিত সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সার্চলাইট’ বাস্তবায়ন। কিন্তু হানাদার পাকিস্তান সেনাবাহিনী তখন জানতো না যে এর ফলে একইসঙ্গে সূচনা হতে যাচ্ছে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ, প্রতিরোধের শেষ ধাপ।