সিলেট নগরীতে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ টন বর্জ্য সৃষ্টি হচ্ছে, যার অধিকাংশই প্লাস্টিক ও পলিথিন। সিটি করপোরেশন (সিসিক) নিয়মিত পরিষ্কার করলেও ছড়া-খাল দ্রুতই পলিথিনে ভরে যাচ্ছে। ফলশ্রুতিতে বর্ষায় জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত সংকট ও ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে।
সিলেট নগরীতে বাস করেন প্রায় ১০ লাখ মানুষ। সিসিকের জরিপ অনুযায়ী, একজন নাগরিক প্রতিদিন গড়ে আধা কেজি বর্জ্য সৃষ্টি করছেন। সিসিক প্রতিদিন এই বর্জ্য অপসারণে কাজ করলেও অধিকাংশ বর্জ্য অপচনশীল না হওয়ায় ডাম্পিং স্টেশনে পচে মাটিতে না মিশে তা স্তূপাকারে জমা হচ্ছে। ফলে ডাম্পিং স্টেশনে প্লাস্টিকের স্তুপের পাহাড় তৈরি হচ্ছে।
এদিকে, সিলেট নগরীর ছড়া-খাল পরিষ্কারের এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই পলিথিন ব্যাগের বর্জ্যে আবার ভরাট হয়ে যাচ্ছে, যা আসছে বর্ষায় দুর্গতির একটি বড় কারণ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
সিসিক সূত্র জানায়, সিলেট মহানগরীতে প্রায় ৩০টি ছোট-বড় ছড়া রয়েছে, যেগুলোর অধিকাংশ অবৈধ দখল ও দূষণে অস্তিত্ব হারিয়ে ড্রেনে পরিণত হয়েছে। নগরীর উত্তর দিকের চা-বাগান ও টিলা থেকে উৎপন্ন এই ছড়াগুলো মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৩২ কিলোমিটার।
সিসিকের বর্জ্যশাখা সূত্রে জানা গেছে, সিলেট মহানগরীতে প্রায় ৩০টি ছড়া সক্রিয় বা মৃতপ্রায় অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান ছড়াÑ মঙ্গলীছড়া, গোয়ালীছড়া, মালনীছড়া, কুমারছড়া, বালুছড়া উল্লেখযোগ্য। অধিকাংশ ছড়া অবৈধ দখল, ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে ভরাট হয়ে গেছে, যা জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ হবে।
সিসিক জানায়, এসব ছড়ার তীরের বাসা-বাড়ি থেকে প্রতিদিন পলিথিন ব্যাগ, ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এতে ছড়া পরিষ্কার করেও সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। দেখা যাচ্ছে, সিসিক পরিষ্কার করে গেছে এক সপ্তাহ হয়নি, অথচ কিছুদিনের মধ্যেই আবারও ছড়াগুলোর পানির ওপরে ভাসছে পলিথিনের স্তূপ। এতে শুধু খরচ বাড়ছে না, প্রতিষ্ঠানের জনবলকে অতিরিক্ত শ্রমও দিতে হচ্ছে বর্জ্য নিষ্কাশনের কাজে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জল্লারপাড়ে প্রবাহিত তালতলা-তোপখানা ছড়ার পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে আছে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে, ছড়ায় পলিথিন ব্যাগের সয়লাব। ময়লাসহ পলিথিন ব্যাগ ফেলার কারণে ওজনে পানির প্রবাহ থমকে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলে পলিথিনের কারণেই পানি নামতে সময় নেবে এ ছড়া।
একই অবস্থা নগরীর ছড়ারপাড়ের প্রবাহিত ছড়ার। দুই তীরে একে তো অবৈধ দখল, তার ওপর সরু ছড়ার ওপর ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। সুরমা নদীতে পানি বাড়লে এ ছড়া উপচে তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত করবে।
সিসিকের পরিসংখ্যান আরও বলছে, সিসিক নগরীর মানুষ পচনশীল বর্জের চেয়ে অপচনশীল বর্জ্যরে দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। নগরবাসী প্লাস্টিক ও পলিথিন ব্যবহার বেশি করছে। এজন্য নগরবাসীর অভ্যাসকে দায়ি করছেন সিসিক।
সিসিক জানায়, দিনে দিনে প্লাস্টিক বা পলিথিনের বর্জ্য ডাম্পিংয়ে পাহাড়ের মতো উঁচু হয়ে স্তূপাকৃতি ধারণ করেছে। ফলে প্রতিদিনের বর্জ্য রাখার স্থান সংকুলান নিয়ে সিসিকের উদ্বেগ বাড়ছে।
সিসিক এ নিয়ে স্কুল-কলেজে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানিয়েছে।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকার বলেন, ‘সিসিকের বর্জ্য অপসারণ কাজ থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি, নগরীর একজন মানুষ প্রতিদিন আধা কেজি বর্জ্য উৎপাদন করেন। এসব বর্জ্যরে বেশিরভাগই প্লাস্টিক বা অপচনশীল জিনিস। আমরা বর্জ্য রাখার স্থান নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। আমরা নগরীতে প্লাস্টিক বর্জন এবং পলিথিন ছড়াতে না ফেলতে সচেতনতামূলক কর্মসূচি হাতে নিচ্ছি।’
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.