জীবন যুদ্ধে হার না মানা এক যুবকের নাম তাইজুল ইসলাম। পেশায় রাজমিস্ত্রির সহকারী (হেলপার) হলেও মনের কোণে লালন করতেন নিজ এলাকার মানুষের দুঃখ-দুর্দশা তুলে ধরার স্বপ্ন। অভাবের সংসারে হাড়ভাঙা খাটুনির ফাঁকে ফাঁকে মজার ছলে তৈরি করা সেই ভিডিওগুলোই আজ বদলে দিচ্ছে তার জীবনের গতিপথ। অবশেষে উপহাস আর দারিদ্র্যকে জয় করে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেতে যাচ্ছেন কুড়িগ্রামের সেই ‘ভাইরাল তাইজুল’।
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার প্রত্যন্ত চরাঞ্চল নারায়ণপুর ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে তাইজুল। ছয় ভাই-বোনের অভাবের সংসারে বড় ছেলে হিসেবে কাঁধে তুলে নিয়েছেন সংসারের জোয়াল। কাজের খোঁজে কখনো ঢাকা, কখনো বা দেশের অন্য প্রান্তে রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে ঘাম ঝরিয়েছেন। কিন্তু নিজের গ্রাম আর চরের মানুষের প্রতি ভালোবাসা থেকে তৈরি করতেন ভিডিও।
সম্প্রতি স্থানীয় একটি দোকানে গিয়ে জিলাপির দাম নিয়ে করা তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সরল ভাষায় দোকানিকে তার প্রশ্ন ছিল— “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে? যদি জনগণকে বলতেন তাহলে অনেক খুশি হইতাম।” তার এই উপস্থাপনা আর সহজ-সরল বাচনভঙ্গি নেটিজেনদের নজর কেড়েছে।
সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকের মাল্টিমিডিয়ায় তার সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি নজরে আসে পথশিশু ফাউন্ডেশনের। তার সরলতা এবং এলাকার প্রতি দায়বদ্ধতা দেখে সংগঠনের চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ নয়ন তাইজুলের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে তাইজুলকে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ঢাকডহর সরকারপাড়া গ্রামে একটি ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.