আগামী চারদিন পর ফুরিয়ে যেতে পারে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির (ইআরএল) অপরিশোধিত তেলের (ক্রুড অয়েল) মজুদ। ইরানে মার্কিন-ইসরায়েল আগ্রাসন শুরুর পর সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি বন্দর থেকে ক্রুড অয়েল ভর্তি দুটি জাহাজ আসতে পারেনি আর তাতেই প্রতিষ্ঠানটির এই দশা হয়েছে। ইআরএলের একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বাংলাদেশে বছরে জ্বালানি তেলের মোট চাহিদা ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন। এর মধ্যে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড পরিশোধন করে প্রায় ১৫ লাখ টন। অবশিষ্ট জ্বালানির সিংহভাগই বাংলাদেশে আমদানি করে থাকে।
ইআরএল সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ইআরএলে ক্রুড অয়েলের মজুদ ছিল ১৭ হাজার টন। তা থেকে গতকাল সাড়ে তিন হাজার টন পরিশোধনের পর অবশিষ্ট আছে সাড়ে ১৩ হাজার টন। আগামী চারদিন এই ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা যাবে। ইআরএল দৈনিক ৪ হাজার টন ক্রুড অয়েল পরিশোধন করতে পারে। কিন্তু তেলের সরবরাহ না থাকায় সাড়ে তিন হাজার টন করে পরিশোধন করছে।
প্রসঙ্গত, দেশে জ্বালানি তেলের দৈনিক চাহিদা ১৪ হাজার টন।
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাইলে ইআরএলের কেউ কথা বলতে সম্মত হননি। বিপিসির চেয়ারম্যান কিংবা সচিবও ফোন ধরেননি।
ইআরএলের একজন কর্মকর্তা বলেন, এই পরিস্থিতিতে আরও প্রায় ২৭ হাজার টন ক্রুড অয়েল জ্বালানি তেলবাহী বিভিন্ন ট্যাংকারের তলায় জমা আছে। ডেড স্টক নামে পরিচিত ওই তেল আহরণ করতে গেলে অনেক সমস্যা রয়েছে। ফলে বিপিসি এখনই ওই তেল নেওয়ার কথা চিন্তা করছে না। তিনি বলেন, এই তেল তোলার জন্য অতিরিক্ত পাইপলাইন দরকার। পাশাপাশি এটা নিয়ে নিলে ট্যাংকারগুলোর চলাচলে ভারসাম্যহীনতার শঙ্কাও আছে।
ইআরএল সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর অপরিশোধিত তেল বোঝাই করলেও সৌদি আরবের রাস্তানুরা বন্দর থেকে একটি অয়েল ট্যাংকার ভূমধ্যসাগর পার হতে পারেনি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেলধানা বন্দর থেকে অপরিশোধিত তেল নিয়ে আরও একটি ট্যাংকার চট্টগ্রাম বন্দরে আসার কথা ছিল। কিন্তু যুদ্ধ লেগে যাওয়ার পর ওই ট্যাংকার জেবেলধানা বন্দরেই পৌঁছিতে পারেনি।
ইআরএলের বছরে জ্বালানি তেল পরিশোধন সক্ষমতা প্রায় ১৫ লাখ টন। পরিশোধনের মাধ্যমে এখান থেকে পেট্রল, ন্যাফথা, ফার্নেস অয়েল ও ডিজেল উৎপাদন হয়। দেশের পেট্রলের চাহিদার বেশিরভাগই মেটানো হয় স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ‘কনডেনসেট’ থেকে, যা একটি সরকারি এবং তিনটি বেসরকারি শোধনাগারে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এই শোধনাগারগুলো পেট্রলের সঙ্গে ন্যাফথা মিশিয়ে অকটেনও তৈরি করে।
এখন ইআরএলের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে ন্যাফথার জোগান ব্যাহত হতে পারে, যা পেট্রল ও অকটেন তৈরির মিশ্রণ প্রক্রিয়াকেও ক্ষতিগ্রস্ত করবে। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে স্থানীয়ভাবে কনডেনসেট উৎপাদন স্বাভাবিক রয়েছে। আর দেশের ডিজেলের চাহিদার সিংহভাগই আমদানির মাধ্যমে মেটানো হয়।
জানা যায়, ইআরএলের অপরিশোধিত তেলের প্রধান জোগানদাতা দেশ হলো সৌদি আরব। এর বাইরে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত থেকেও বাংলাদেশ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল আমদানি কঠিন হয়ে পড়েছে।
এই অবস্থায় পরিশোধিত তেল আমাদানির ওপর নির্ভরতা আরও বাড়তে পারে। এ মুহূর্তে জ্বালানি তেলের আমদানি অব্যাহত রয়েছে। গত এক সপ্তাহে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া থেকে পরিশোধিত তেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে দুটি জাহাজ। পরিশোধিত তেল আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তে বিকল্প উৎস ব্যবহার করছে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.