প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:০৮ (মঙ্গলবার)
ঋণের কিস্তি স্থগিতের দাবি যুদ্ধে  ক্ষতিগ্রস্ত মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীদের

ইরানের সাথে ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের কারণে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যের লক্ষাধিক প্রবাসী।
বিপদগ্রস্ত এসব রেমিটেন্স যোদ্ধারা প্রতি মাসে বৈধপথে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতে বিশাল ভূমিকা পালন করে আসছেন।
মধ্যপ্রাচ্যসহ শ্রম বাজারে হঠাৎ করে যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ায় বিপদগ্রস্ত হয়েছেন তারা। বিপদগ্রস্ত এসব সিংহভাগ প্রবাসী ঘরবন্দী। চলমান যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বেশ কজন  প্রবাসী বাংলাদেশিদের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
প্রবাসে থাকা এসব রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অনেকেই দেশের  সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক,বিভিন্ন এনজিও সংস্থা থেকে প্রবাসী ঋণ নিয়েছেন। ঋণ নিয়ে  প্রবাসে পাড়ি জমানো অনেক প্রবাসী যুদ্ধের কারণে বিপদগ্রস্ত ও ঘরবন্দী হওয়ায় বর্তমানে বেকার হয়ে পড়েছেন।
যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সিংহভাগ রেমিটেন্স যোদ্ধা বেকার হয়ে পড়াতে কোম্পানি থেকে বেতন-ভতা সাময়িক বন্ধ থাকায় নিজের পাশাপাশি দেশে পরিবার-পরিজনের মাসিক ভরণ পোষণের টাকাও পাঠাতে পারছেন না।
এমতাবস্থায় তাদের উপরে মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে আসা যুদ্ধ চরম অর্থকষ্টের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। যে কারণে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক ও এনজিও সমূহ  থেকে নেয়া ঋণের মাসিক কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে পারাতে ব্যাংক ও এনজিও সংস্থাগুলো থেকে তাদের পরিবারে চাপ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে দেশে প্রবাসীদের পরিবার থেকে বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত,উদ্বিগ্ন প্রবাসী রেমিটেন্স যোদ্ধাদের বিষয়টি সাময়িক সময় মানবিক বিবেচনায় বিষয়টি দেখার জন্য( আগামী দুই তিন মাস) আহবান জানিয়েছে বিভিন্ন প্রবাসী সংগঠন। এসব সংগঠন থেকে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক ওপ্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক এবং বিভিন্ন এনজিও সংস্থা থেকে নেয়া রেমিটেন্স যোদ্ধাদের ঋনের মাসিক কিস্তি স্হগিত রাখার দাবি জানানো হয়েছে। এরই লক্ষে সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বরাবর লিখিতভাবে আবেদন করেছে মধ্যপ্রাচ্যে বসবাকারী গোয়াইনঘাটের প্রবাসীদের সংগঠন লামাকুটাপাড়া প্রবাসী ঐক্য পরিষদ।
৭ এপ্রিল ২০২৬ সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আলী আহমেদ স্বাক্ষরিত প্যাডে সরকারের কাছে যুদ্ধা এসব প্রবাসীদের বিষয়টি মানবিক বিবেচনায় গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে কথা হলে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে  অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদেরাই হলেন দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি।
আমাদের প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখা এবং জাতীয় উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছে।
কিন্তু বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাবে এই অঞ্চলের শ্রমবাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। যার ফলে হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি বর্তমানে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।
অনেকে নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন না, আবার কেউ কেউ আংশিক বেতন পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজের ন্যূনতম চাহিদা মিটিয়ে দেশে পরিবারের নিকট ঋণের কিস্তির টাকা পাঠানো অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এমতাবস্থায় আমরা  প্রবাসীদের একটি বৃহৎ অংশ যারা প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক ও সরকার অনুমোদিত বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ গ্রহণ করেছি,তারা মাসিক কিস্তি পরিশোধের চাপে চরম মানসিক ও অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছি।
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক এবং বিভিন্ন এনজিও থেকে নেয়া ঋনের টাকার মাসিক কিস্তি ২ থেকে ৩ মাস স্হগিত করে প্রবাসীদের এই দুর্দিনে রাষ্ট্র আমাদের অভিভাবক হিসেবে পাশে দাঁড়ালে আমরা এই সাময়িক সংকট কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবো।
আশাকরি বিষয়টি সরকার আমলে নিবেন  এজন্য আমরা সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বরাবরের একটি স্মারকলিপি পাঠিয়েছি।