প্রকাশিত: ১৭ জুন, ২০২৫ ১৩:০২ (বুধবার)
‘জাতীয় ঐক্যের অগ্রদূত হতে পারেন রবীন্দ্রনাথ-নজরুল’

রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল এ দেশের সংস্কৃতির চূড়ায় অবস্থান করছেন। জাতীয় ঐক্যের প্রসঙ্গ এলে এই দুজন হতে পারেন অগ্রদূত। তাদের মানলে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি হতে পারে এবং দেশ একটি কল্যাণকর জায়গায় পৌঁছতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক। 

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৪তম ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

 
শুক্রবার (৩০ মে) সন্ধ্যায় বাংলামোটরের বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে একক আলোচক ছিলেন অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক। অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়।‌ রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন ফারজানা আক্তার পপি। নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী সুস্মিতা দেবনাথ শুচি।

ছিল নৃত্যশিল্পী ওয়ার্দা রিহাবের দলের নৃত্য পরিবেশনা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পরিচালক শামীম আল মামুন। 
আরো পড়ুন

দীর্ঘ আলোচনার শেষে অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক বলেন, 'আমাদের সংস্কৃতির চূড়ায় অবস্থান করছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম। আমাদের জাতীয় ঐক্যের প্রসঙ্গে এই দুজন অগ্রদূত হতে পারেন।

আমরা যদি এ দুজনকে মান্য করি, আমাদের মধ্যে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি হতে পারে এবং আমাদের দেশ একটি কল্যাণকর জায়গায় পৌঁছতে পারে। আমাদের বিভেদ-বিচ্ছিন্নতাই আমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু। এ কথা রবীন্দ্রনাথ সেই ১৯০৫/৭ সালে বলে গেছেন। পরবর্তীতেও বারবার বলেছেন। নজরুলও এ কথা তার সমগ্র জীবন দিয়ে উচ্চারণ করে গেছেন।
এর মাঝেই আমাদের কল্যাণ রয়েছে।'  
এর আগে তিনি আরো বলেন, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের দুজনই মানবধর্মের অনুসারী ছিলেন। তাদের দুজনের কারো মধ্যেই খন্ডিত চিন্তা ছিল না। নজরুলের জন্ম বিদ্বেষ ও দ্বন্দ্বমূলক পরিবেশে। কিন্তু তাকে এসব স্পর্শ করেনি। বরং তিনি এর বিরোধিতা করেছেন। বাংলা সাহিত্যে কল্যাণকর এবং আশাবাদের জায়গা নজরুল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'পায়ে চলার পথ' আবৃত্তি করেন জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়। রবীন্দ্রনাথের 'প্রাণ' কবিতা থেকে আবৃত্তি করেন তার বিখ্যাত পংক্তি 'মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে'। এরপর তিনি বলিষ্ঠ কণ্ঠে আবৃত্তি করেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতাটি। 'আকাশভরা সূর্য-তারা, বিশ্বভরা প্রাণ' গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করে ওয়ার্দা রিহাবের দল। 
রবীন্দ্রনাথের প্রেম ও পূজা পর্যায়ের কয়েকটি গান পরিবেশন করেন ফারজানা আক্তার পপি। তার গাওয়া গানের মধ্যে ছিল 'কে গো অন্তরতর সে', 'দীপ নিভে গেছে মম', 'তোমার দেখা পাবো বলে এসেছি যে সখা', 'আমি কান পেতে রই'। শিল্পী সুস্মিতা দেবনাথ শুচি পরিবেশন শুরু করেন নজরুলের জনপ্রিয় কাব্যগীতি 'মনে পড়ে আজ সে কোন্‌ জনমে বিদায় সন্ধ্যাবেলা' দিয়ে। 'শাওন আসিল ফিরে, সে ফিরে এলো না', 'উচাটন মন ঘরে রয় না', 'আমার আপনার চেয়ে আপন যে জন' গানগুলো পরিবেশন করেন সুস্মিতা দেবনাথ শুচি।