প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১৯:৫১ (শনিবার)
সংস্কারে ব্যর্থতা, আইএমএফের ঋণের কিস্তি স্থগিত

রাজস্ব ও ব্যাংকিং খাতে সংস্কার বাস্তবায়নে ব্যর্থতার কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান ঋণ কর্মসূচির পরবর্তী কিস্তি স্থগিত করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। জুনের মধ্যে এই কিস্তি ছাড় করার কথা থাকলেও সংস্থাটি এখন অতিরিক্ত শর্তসহ একটি নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করার প্রস্তাব দিয়েছে।

 

ওয়াশিংটন ডিসিতে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের চলমান বসন্তকালীন বৈঠকে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের এক সদস্য এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ওই প্রতিনিধিদল বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছে। প্রতিনিধিদলের ওই কর্মকর্তা জানান, আইএমএফ স্পষ্ট করেছে যে রাজস্ব খাত সংস্কার, ব্যাংক খাত সংস্কার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে ভর্তুকি প্রত্যাহার এবং বাজারভিত্তিক বিনিময় হার নিশ্চিত করার শর্তগুলো বাংলাদেশ পূরণ করেনি। এ অবস্থায় ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় চলতি জুনের মধ্যে ১.৩ বিলিয়ন ডলার ছাড় করা হবে না। বর্তমান কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ এখনো মোট ১.৮৬ বিলিয়ন ডলার পাওনা থাকলেও তার ভাগ্য এখন অনিশ্চিত।

 

বৈঠকে আইএমএফ জানিয়েছে, বর্তমান ব্যবস্থা সংশোধন করে নতুন শর্তে ঋণ দিতে তারা বেশি আগ্রহী। এছাড়া সম্প্রতি সংসদে পাস হওয়া ব্যাংক রেজ্যুলেশন বিলে ১৮ক ধারা যুক্ত করে পুরনো মালিকদের ফিরে আসার সুযোগ দেওয়া এবং সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের আমানতকারীদের ক্ষতিপূরণ দিতে বাজেটের অর্থ ব্যবহারের সরকারি পরিকল্পনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। তাদের মতে, বাজেটের পরিবর্তে ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স স্কিমের মাধ্যমে এই পাওনা মেটানো উচিত।

 

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানি আমদানির উচ্চ ব্যয় মেটাতে অতিরিক্ত সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। আইএমএফের কঠোর অবস্থানের কারণে প্রতিনিধিদল এখন বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বিকল্প আলোচনার চেষ্টা করছে।

 

আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন বলেন, শক্তিশালী সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নতুন সরকার ক্ষমতায় থাকায় এখনই উচ্চাকাঙ্ক্ষী সংস্কারের উপযুক্ত সময়। তিনি জানান, গত তিন বছরে বাংলাদেশের রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি আরও নিচে নেমেছে।

 

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সংস্কার উদ্যোগ স্থবির হয়ে পড়েছিল। এখন সরকারকে হয় সব শর্ত মানতে হবে, নতুবা চুক্তি থেকে সরে আসতে হবে। অর্থ বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ মনে করেন, পুরো অর্থ তুলতে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।