প্রকাশিত: ১০ মে, ২০২৬ ১৯:৫২ (রবিবার)
ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর কৃতজ্ঞতায় মা দিবস পালিত

আজ বিশ্ব মা দিবস। আজ সারা বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে মায়েদের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা নিবেদনের দিন। সন্তানের জীবনে যিনি প্রথম আশ্রয়, প্রথম ভরসা এবং নিঃস্বার্থ ভালোবাসার প্রতীক—সেই মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্যই এই বিশেষ দিনটি উদযাপন করা হয়।

মা মানে শুধু একটি শব্দ নয়, মা মানে পুরো একটি পৃথিবী। সন্তানের প্রতিটি হাসি, কান্না, ব্যথা আর স্বপ্নের সঙ্গে মায়ের ভালোবাসা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে থাকে। নিজের সুখ-দুঃখ ভুলে গিয়ে সন্তানকে আগলে রাখেন যিনি, তিনিই মা।

প্রাচীন গ্রিসে বিশ্ব মা দিবস পালন করা হলেও আধুনিককালে এর প্রবর্তন করেন এক মার্কিন নারী। ১৯০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আনা জারভিস নামের নারী মারা গেলে তার মেয়ে আনা মারিয়া রিভস জারভিস মায়ের কাজকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য সচেষ্ট হন।

ওই বছর তিনি তার সান ডে স্কুলে প্রথম এ দিনটি মাতৃদিবস হিসেবে পালন করেন। ১৯০৭ সালের এক রোববার আনা মারিয়া স্কুলের বক্তব্যে মায়ের জন্য একটি দিবসের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। এরপর ১৯১৪ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে মা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন ।

এই দিনে সন্তানরা মায়ের প্রতি তাদের ভালোবাসা জানাতে নানাভাবে চেষ্টা করছে। কেউ মাকে জড়িয়ে ধরছে, কেউ মায়ের জন্য উপহার দিচ্ছে, আবার কেউ স্মৃতিচারণ করছে শৈশবের সেই অগণিত মমতার মুহূর্তগুলো।

বাংলাদেশেও নানা আয়োজনে দিনটি উদযাপিত হচ্ছে। স্কুল-কলেজ, সামাজিক সংগঠন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মায়েদের সম্মানে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিশেষ আয়োজন করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, মা শুধু পরিবারের কেন্দ্রবিন্দুই নন, তিনি একজন সন্তানের জীবনের প্রথম শিক্ষক ও সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।

সমাজের নানা স্তরের মানুষ আজ এক কণ্ঠে স্বীকার করছে—মায়ের ভালোবাসার কোনো তুলনা হয় না। জীবনের প্রতিটি সাফল্যের পেছনে মায়ের ত্যাগ, পরিশ্রম আর নিরব প্রার্থনা লুকিয়ে থাকে।

মা দিবস তাই শুধু একটি দিন নয়, এটি মায়ের প্রতি আজীবন ভালোবাসা, সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এক অনন্য উপলক্ষ।

বিশ্বজুড়ে এই দিনটি মায়েদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

 

সি/মা/ডেস্ক/এসসিজে