সুনামগঞ্জে হাওরের বোরো ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মোট ৫০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, অপরিকল্পিত ও নিম্নমানের বাঁধ নির্মাণ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না করা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের কারণে জেলার বিস্তীর্ণ বোরো ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে হাজারো কৃষক আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
রোববার (১০ মে) সুনামগঞ্জ শহরের পূর্ব তেঘরিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. মোছাদ্দেক আলী ডাকযোগে দুদকের সিলেট সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এ অভিযোগ পাঠান। অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন করা হয়েছে। অনেক প্রকল্পে কাজ সম্পন্ন না করেই টাকা উত্তোলনের অভিযোগও তোলা হয়েছে। কোথাও কোথাও প্রয়োজন না থাকলেও প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এছাড়া নির্ধারিত সময়সীমা ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অধিকাংশ কাজ শেষ না হওয়ায় পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে হাওরের ধান তলিয়ে গেছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। অনেক বাঁধে নিম্নমানের বালু ও কাদামাটি ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।
অভিযুক্তদের তালিকায় সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুই নির্বাহী প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নাম রয়েছে।
এ বিষয়ে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী-২ মো. ইমদাদুল হক বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগের একটি কপি তাদের নজরে এসেছে। তবে অভিযোগে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রকল্প বা কাজের তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। তার দাবি, হয়রানির উদ্দেশ্যে এমন অভিযোগ করা হয়ে থাকতে পারে।
অন্যদিকে অভিযোগে নাম থাকা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক ও পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী-১ মো. মামুন হাওলাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ভয়াবহ হাওরডুবির ঘটনার পরও সুনামগঞ্জের বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছিল, যা এখনো বিচারাধীন রয়েছে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.