প্রকাশিত: ১১ মে, ২০২৬ ১৮:১৮ (রবিবার)
অপরিপক্ক লেচুতে সয়লাভ দিরাই বাজার

মুখরোচক ও রসালো মৌসুমী ফলের মধ্যে অন্যতম হলো লিচু। শিশুসহ সকল বয়সী মানুষের চাহিদা রয়েছে এ রসালো ফলের প্রতি।

তবে মৌসুমের আগেই এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়িরা বেশি মুনাফার আশায় অপরিপক্ব লিচু বিক্রি করছে। প্রতি আঁটি লিচুর দাম হাঁকছেন একশ থেকে সাড়ে তিনশ টাকা।

এতে ৫০টি লিচুও থাকে না। ফলে স্বাস্থ্য সচেতন মহলের ধারণা, এসব লিছুতে ক্ষতিকারক কেমিক্যাল মেশানো থাকতে পারে। প্রায় একই বক্তব্য দিয়েছেন দিরাই হাসপাতালের একাধিক ডাক্তারও।


সরেজমিন বাজার ঘুরে দেখা যায়, মৌসুমী ফলের দোকানগুলোতে ঝুলছে লিচু। দেখেই মনে হচ্ছে অপরিপক্ব আর কেমিক্যাল মেশানো। লিচুর গায়ে অনেকটা কালছে ধরণের দাগও দেখা গেছে।

তবে সাধারণ মানুষ মৌসুমী ফল দেখেই বেশি দাম দিয়েও কিনে নিচ্ছেন এসব অপরিপক্ব লিচু। আবার অনেকেই সন্তানদেরকে মৌসুমী ফলের স্বাধ মেটাতে নিজের অজান্তেই কেমিক্যাল মিশ্রিত এসব ফল খাওয়াচ্ছেন।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাজারে আসা লিচুকে রাজশাহীর বলছেন অধিকাংশ ব্যবসায়ি। তবে একজন ব্যবসায়ি জানান, এসব লিচু রাজশাহীর না, তা হলো কিশোরগঞ্জের। দোকান ও সাইজভেদে দাম চাওয়া হচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন। বাজার ঘুরে দেখা গেছে ৫০টি লিচুর আঁটি সর্বনিম্ন একশ থেকে সাড়ে তিনশ টাকা দাম চাওয়া হচ্ছে।


দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আফজাল হোসেন বলেন, লিচুর সিজন মূলত মে মাসের মাঝামাঝি থেকে শুরু হয়। তাই কয়েকদিন অপেক্ষা করে পাকা লিচু খাওয়াই উত্তম।

সন্দেহ হলে পানিতে কমপক্ষে আধঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে খাওয়া ভালো। শক্ত খোসা হওয়ায় ভেতরে কেমিক্যাল কম যায়। তবে সচেতনতাই আমাদের নিরাপদ রাখতে পারে বলেও তিনি জানান।


দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. প্রশান্ত দাস তালুকদার জানান, যেহেতু মৌসুমের আগেই লিচু বাজারে চলে এসেছে, সেহেতু ধারণা করা হচ্ছে এসব ফলে ক্ষতিকারক কেমিক্যাল থাকতে পারে। তাই এগুলো না খাওয়াই ভালো। এসব ফল খেলে শিশুসহ সকলেরই পেটের সমস্যা হতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।


দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্জীব সরকার জানান, যেহেতু অবগত করেছেন, সেজন্য আমরা স্থানীয় কৃষি বিভাগ ও পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর সমন্বয়ে বাজার মনিটরিং করিয়ে দেখবো বাজারে আসা লিচুতে কোনো ধরণের কেমিক্যাল মেশানো আছে কি না।

তাছাড়া এসব ব্যাপারে জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। মৌসুম আসার আগেই যে কোনো ফল না খাওয়াই উত্তম।

জনগণের চাহিদা আছে বলেই এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়িরা অতি মুনাফার লোভে মৌসুমের আগেই বাজারে এসব অপপিক্ব লিচু বিক্রি করছে।