রাতের অন্ধকারে যখন গ্রামের আকাশে নিঃশব্দে ভেসে আসে একটি কফিন, তখন সেই কাঠের বাক্সে লুকিয়ে থাকে এক পরিবারের ভাঙা স্বপ্ন, এক মায়ের নিঃশেষ কান্না। হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার পশ্চিম হরিতলা গ্রামের মৃত ধনু মিয়ার বড় ছেলে মো. মানিক মিয়া ওরফে জুয়েল, যিনি জীবিকার সন্ধানে পাড়ি দিয়েছিলেন মরুর দেশে, অবশেষে ফিরলেন নিথর দেহে।
মানিকের মৃত্যু হয়েছিল প্রবাসে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ শহরে। দুর্ঘটনার পরপরই তার পরিবারে নেমে আসে অন্ধকার। কিন্তু মৃত্যুর চেয়েও নির্মম হয়ে ওঠে তার দেশে ফেরার পথ। আইনি জটিলতা, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া আর কাগজপত্রের দীর্ঘসূত্রতায় প্রায় দুই মাস অপেক্ষা করতে হয়েছে তার স্বজনদের। অবশেষে বৃহস্পতিবার রাতে কফিন বন্দি হয়ে ফিরলেন মানিক।
২০২২ সালে জীবিকার তাগিদে মানিক মিয়া পাড়ি দেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে। ভিসার কাগজে লেখা ছিল ভ্রমণ ভিসা। অবৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশে যান তিনি। শারজাহ শহরে তিনি কাজ করতেন নির্মাণশ্রমিক হিসেবে। বাবার মৃত্যুর পর পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হয়ে ওঠেন মানিক। তার কাঁধেই ভরসা ছিল বৃদ্ধ মা, ছোট ভাই-বোনের।
দুর্ঘটনার পরপরই পরিবার মরদেহ ফেরানোর চেষ্টা শুরু করে। কিন্তু বৈধ প্রক্রিয়ায় না যাওয়ায় সরকারি সহায়তা মেলেনি। প্রবাসী কল্যাণ তহবিল থেকে কোনো অর্থ বা সুবিধা পায়নি পরিবার। ফলে মরদেহ দেশে আনতে সময় লেগেছে প্রায় দুই মাস।
বর্তমানে মানিকের পরিবারে রয়েছেন বৃদ্ধ মা ও দুই ছোট ভাই-বোন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে তারা পড়েছেন চরম আর্থিক সংকটে।
গ্রামের মানুষজন জানাচ্ছেন, মানিকের মা প্রতিদিন নিঃশব্দে বসে কাঁদেন। তার চোখে শুধু প্রশ্ন কেন তার ছেলেকে বৈধ পথে পাঠানো হলো না, কেন রাষ্ট্রের সহায়তা থেকে বঞ্চিত হতে হলো তাদের?
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশে গেলে কর্মীরা সরকারি সুযোগ-সুবিধা পান। দুর্ঘটনা বা মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। কিন্তু অবৈধ পথে গেলে সেই সুরক্ষা থাকে না। মানিকের মৃত্যু যেন সেই নির্মম বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.