প্রকাশিত: ১৫ মে, ২০২৬ ১৭:৩২ (রবিবার)
হাওরের তিন বিদ্যালয়ে শিক্ষকশূন্য শ্রেণিকক্ষ

সকাল সাড়ে নয়টা। মধ্যনগরের হাওরপাড়ে তখনও ভোরের আবেশ কাটেনি। শিশুরা ছোট ছোট ব্যাগ কাঁধে নিয়ে ছুটে যাচ্ছে বিদ্যালয়ের দিকে। তাদের চোখে উচ্ছ্বাস, মুখে কৌতূহল। কিন্তু সেই উচ্ছ্বাসের মাঝেই লুকিয়ে আছে এক অদৃশ্য শূন্যতাÑ যা চোখে পড়লো সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের আকস্মিক সফরে। 


তিনি একে একে পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখলেন। মাছিমপুর, মধ্যনগর, আবিদনগর, দুগনই ও কায়েতকান্দা। শিক্ষার্থীরা উপস্থিত, শ্রেণিকক্ষ ভরা কোলাহলে। কিন্তু তিনটি বিদ্যালয়ে শিক্ষক নেই। খালি টেবিল-চেয়ার যেন সাক্ষ্য দিচ্ছিল শিক্ষকের দায়িত্বহীনতার। 


আবিদনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকাল সাড়ে নয়টায় প্রবেশ করলেন এমপি কামরুল। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা শিশুরা তাকে দেখে উচ্ছ্বসিত। কিন্তু ভেতরে প্রবেশ করতেই নীরবতা। শিক্ষক নেই, পাঠ নেই। শুধু অপেক্ষারত চোখ। 


দুগনই বিদ্যালয়ে পৌনে দশটায় একই দৃশ্য। কায়েতকান্দায় সকাল দশটায় গিয়ে পেলেন একই দৃশ্য। যেন হাওরের নীরব জলরাশির মতো নিস্তব্ধ হয়ে আছে শিক্ষা। 


হাওরাঞ্চলের শিক্ষার এমন অবস্থা দেখে তিনি ফোন করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে। পরিস্থিতি জানিয়ে নির্দেশ দিলেন দ্রুত ব্যবস্থা নিতে। 


বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে তিনি বললেন, ‘হাওরাঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। শিক্ষকরা দায়িত্বশীল না হলে শিশুরা পিছিয়ে পড়বে। সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে পাঠদান নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে হবে, পিছিয়ে থাকতে দেওয়া যাবে না।’ 


তিনি আরও বললেন, শিক্ষক ও অভিভাবককে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। শিশুরা পড়াশোনায় মনোযোগী হলে ফলাফল ভালো আসবে। হাওরের শিশুরা যেন পিছিয়ে না পড়ে, সেই দায়িত্ব সবার। 


মধ্যনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. দেলওয়ার হোসেন জানান, এমপির মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর অভিযুক্ত ১২ জন শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় নিয়ম অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।