দলীয় কার্যক্রম গতিশীল রাখা ও তৃণমূল পর্যায়ে তা জোরদার করতে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। এর অংশ হিসেবে জাতীয়তাবাদী যুবদলের নতুন কমিটি গঠন নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। বিএনপির ৮ম জাতীয় কাউন্সিলের আগেই কেন্দ্রীয় কমিটিসহ ঢাকা মহানগরের দুইটি কমিটি ঘোষণা করা হবে- এমন আলোচনা চলছে। কাঙ্ক্ষিত পদ পেতে ইতোমধ্যে তদবির শুরু করে দিয়েছেন পদপ্রত্যাশী নেতারা।
যুবদল নেতারা বলছেন, ২০২৪ সালের ৯ জুলাই যুবদলের ঘোষিত আংশিক কমিটিতে সভাপতি হন আব্দুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক হন নুরুল ইসলাম নয়ন। সাত সদস্যের এই কমিটিতে মুন্নার একক সিদ্ধান্তে সংগঠন পরিচালিত হচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নুরুল ইসলাম নয়ন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় এই প্রবণতা আরও বেড়েছে।
সংগঠনের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কমিটি পূর্ণাঙ্গ না করায় পদ প্রত্যাশী নেতারা শীর্ষ নেতার কাছে এক ধরনের জিম্মি হয়ে আছেন। কিছু হলেই পদ-পদবি থেকে ছিটকে পড়ার আশঙ্কায় সবকিছু মেনে চলেন তারা। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বাছ বিচার ছাড়াই সারাদেশে নেতাকর্মীদের বহিষ্কার, দলে ফিরিয়ে আনা, সংগঠনের সাবেক নেতাদের তোয়াক্কা না করা, সম্মান না দেওয়ার মতো অনেক বিব্রতকর ঘটনা ঘটছে যুবদলের ভেতরে।
অপরদিকে, যখন যুবদলের নতুন কমিটি গঠনের জোরালো দাবি উঠেছে, সেই সময়ে বর্তমান নেতৃত্ব কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। ইতোমধ্যে হাইকমান্ডের কাছে ১৫১ ও ২৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদনের জন্য জমা দিলেও, সেটিকে ‘মাইম্যান’ কমিটি হিসেবে উল্লেখ করছেন অনেকেই।
সেখানে অনেক ত্যাগী ও যোগ্যদের স্থান দেওয়া হয়নি- এমন অভিযোগ তুলে নতুন নেতৃত্বে যুবদলের পুনর্গঠনের দাবি জোরালো হয়েছে। নতুন কমিটি গঠিত হলে বর্তমান কমিটির ‘সুপার ফাইভে’ থাকা নেতাদের নতুন কমিটিতে থাকা, না থাকা নিয়েও গুঞ্জন রয়েছে।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার প্রস্তাব জমা দেওয়া হলেও তা স্থগিত করে রেখেছেন হাই কমান্ড। যোগ্য, ত্যাগী এবং তরুণদের হাতে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের দায়িত্ব দিতে চাচ্ছেন তিনি।
যুবদলের একাধিক নেতাকর্মী বলেন, ‘একসময়ের সবচেয়ে শক্তিশালী সংগঠন যুবদল এখন মৃত প্রায়। এই সংগঠনে এখন হেভিওয়েট কোনও নেতা নেই। নেই কোনও কমিটি ও কার্যক্রম। সংগঠনের সাংগঠনিক দুর্বলতা আগামীতে আরও প্রকট হতে পারে। যার নেতিবাচক প্রভাব পুরো বিএনপিকে বহন করতে হবে। এজন্য যত দ্রুত সম্ভব সংগঠনকে নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে ঢেলে সাজানোর বিকল্প নেই।’
গোলাম মাওলা শাহীন বলেন, ‘এখন দলের যেমন সুদিন এসেছে, তেমনই অনেক চ্যালেঞ্জও রয়েছে। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমাদের নেতা যার উপর ভরসা করবেন, তাকেই সামনে আনবেন। আমরা তার সিদ্ধান্তকেই যথার্থ মনে করে আগামী দিনে পথ চলতে চাই।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, ‘সারা দেশে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে, কোথাও সম্মেলনের প্রস্তুতি চলছে। যেসব কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে, সেগুলো এক এক করে দেওয়া হবে। সেখানে ত্যাগী ও পরীক্ষিতরা স্থান পাবেন। দলের আগামী কাউন্সিলের আগেই কমিটিগুলো পুনর্গঠন করা হবে।’
উল্লেখ্য, নতুন কমিটির শীর্ষ দুই পদে আলোচনায় আছেন, যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন হাসান, সাবেক ১ম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহীন, সাবেক সহ সভাপতি রুহুল আমিন আকিলসহ আরও কয়েকজন। অন্যদিকে, সংগঠনের সুপার টু পদে আলোচনায় আছেন সংগঠনের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহীন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক, দক্ষিণের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়নসহ আরও কিছু পরিচিত মুখ।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.