প্রকাশিত: ২২ মে, ২০২৬ ১৬:৫৫ (বুধবার)
ফিফার ভাবনায় এবার ৬৬ দলের বিশ্বকাপ

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় রচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে ফিফা। ২০২৬ সালের আসর এখনো শুরু না হলেও, এর পরের ২০৩০ বিশ্বকাপকে আরও বড় ও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নিয়ে ইতোমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। এবার ৪৮ দলের পরিবর্তে ৬৬ দল নিয়ে টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তাব সামনে এসেছে। এই প্রস্তাবটি প্রথমে দিয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনমেবল (CONMEBOL)। তাদের লক্ষ্য, বিশ্বকাপে আরও বেশি দেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, যাতে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরটি সত্যিকার অর্থে বৈশ্বিক রূপ পায়। ধীরে ধীরে এই ধারণা ফিফার ভেতরেও গুরুত্ব পাচ্ছে এবং এখন এটিকে আর কেবল কল্পনা হিসেবে দেখা হচ্ছে না।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো (জিয়ান্নি ইনফান্তিনো) বারবার বলেছেন, বিশ্বকাপকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে হবে। তার মতে, দল সংখ্যা বাড়লে এমন অনেক দেশও সুযোগ পাবে, যারা আগে কখনো বিশ্বকাপের মঞ্চে জায়গা পায়নি।

২০৩০ বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে ২০২৬ সালের টুর্নামেন্টের ওপর। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় আয়োজিত সেই আসর মাঠের লড়াই, দর্শক উপস্থিতি এবং আর্থিক দিক থেকে সফল হলে বড় ফরম্যাটের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা আরও জোরালো হবে।

২০৩০ বিশ্বকাপের প্রধান আয়োজক দেশ হিসেবে রয়েছে স্পেন (স্পেন), পর্তুগাল (পর্তুগাল) এবং মরক্কো (মরক্কো)। পাশাপাশি আর্জেন্টিনা (আর্জেন্টিনা), উরুগুয়ে (উরুগুয়ে) এবং প্যারাগুয়ে (প্যারাগুয়ে)-তে কিছু বিশেষ ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

তবে দল সংখ্যা ৬৬ হলে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে স্টেডিয়াম, অবকাঠামো এবং ম্যাচ সূচি নিয়ে। এত বড় আয়োজন পরিচালনা করা ফিফার জন্য জটিল হয়ে উঠতে পারে।

সমালোচকদের মতে, দল বাড়ালে প্রতিযোগিতার মান কমে যেতে পারে এবং খেলোয়াড়দের ওপর চাপ আরও বেড়ে যাবে। তবে ফিফার যুক্তি হলো, এতে বিশ্বব্যাপী অংশগ্রহণ বাড়বে, ম্যাচের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং বাণিজ্যিক ও দর্শকভিত্তিও আরও প্রসারিত হবে।

এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ফিফার ভেতরে আলোচনা চলছে এবং আগামী ২০২৬ বিশ্বকাপের ফলাফলই নির্ধারণ করবে, ফুটবল বিশ্বকাপ ভবিষ্যতে কতটা বড় রূপ নিতে যাচ্ছে।