প্রকাশিত: ২৫ মে, ২০২৬ ১৬:৩৩ (বুধবার)
মেশিনে কুরবানির পশু জবাই করলে কি হালাল হবে

ফলে এখন কুরবানির পশু কেনা, জবাই ও গোশত প্রক্রিয়াজাত করার কাজও অনেক ক্ষেত্রে আধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অটোমেটিক স্লটার হাউস বা যান্ত্রিক ব্যবস্থায় পশু জবাইয়ের প্রচলন বাড়ছে। তবে প্রশ্ন উঠছে—ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে মেশিনে জবাই করা পশু কি হালাল হবে?

 

ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, যন্ত্র বা অটোমেটিক মেশিন ব্যবহার করে পশু জবাই করা বৈধ হতে পারে, তবে এর জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ করা আবশ্যক। এসব শর্তের কোনোটি লঙ্ঘিত হলে সেই জবাই সহিহ হবে না এবং ওই পশুর গোশত খাওয়াও জায়েজ হবে না।

মেশিনে জবাই করা পশু হালাল হওয়ার তিনটি শর্ত

১. জবাইকারীকে মুসলিম হতে হবে

জবাই প্রক্রিয়া চালু করার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি মুসলমান অথবা আহলে কিতাবভুক্ত হতে হবে। অর্থাৎ, যে ব্যক্তি মেশিনের সুইচ বা বাটন চাপ দিয়ে জবাই শুরু করবেন, তিনি যদি অমুসলিম বা নাস্তিক হন, তাহলে সেই জবাই শরিয়তসম্মত হবে না।

২. ‘বিসমিল্লাহ’ বলতে হবে

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো আল্লাহর নাম নেওয়া। যিনি মেশিনের সুইচে চাপ দেবেন, তাকে চাপ দেওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলতে হবে।

 

মেশিন চালুর সঙ্গে সঙ্গে পশুর নির্ধারিত জবাইয়ের স্থান—অর্থাৎ গলা বা কণ্ঠনালি কাটা পড়তে হবে। যদি মেশিনের আঘাতে আগে অন্য কোনো অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সেই কারণে পশুর মৃত্যু ঘটে, তাহলে ওই পশু হালাল হবে না।

এক সুইচে একাধিক পশু জবাইয়ের মাসআলা

আধুনিক অনেক জবাইখানায় একটি সুইচ চাপলে একসঙ্গে বহু পশু বা পাখি জবাই হওয়ার ব্যবস্থাও দেখা যায়। ফিকহবিদদের মতে, যদি বিসমিল্লাহ বলে সুইচ চাপার পর একই সময়ে একাধিক ছুরি একযোগে পশুগুলোর গলায় আঘাত করে, তাহলে সেই সব পশুর জবাই সহিহ হিসেবে গণ্য হবে।

ইসলামি শরিয়তে কুরবানির মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর নির্দেশ পালন করা। তাই প্রযুক্তি ব্যবহার করা গেলেও জবাইয়ের ক্ষেত্রে শরিয়তের নির্ধারিত বিধান ও শর্ত যথাযথভাবে মানা জরুরি।