প্রকাশিত: ০২ জুন, ২০২৬ ১৫:৫৪ (বুধবার)
“দেশ ভালো নেই”—সিলেটে ডা. শফিকুর রহমান

ছবি: সিলেটের মানচিত্র

সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিস্থিতি এগোচ্ছে না। তিনি বলেন, “যে পরিবর্তনের আশায় মানুষ জীবন দিয়েছে, সেই প্রত্যাশার বিপরীতে দেশ এখন চলছে।” তবে তিনি স্পষ্ট করেন, “যে স্রোতই আসুক না কেন, আমরা তার বিপরীতেই অবস্থান নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাবো।”

মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে সিলেট সফরে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি সম্প্রতি খুন হওয়া শিশু ফাহিমা আক্তারের বাড়িতে গিয়ে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। পরে গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে তিনি দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।

সরকারের ১০০ দিনের মূল্যায়ন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগামী সংসদ অধিবেশনেই তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেবেন। তবে সংক্ষেপে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতি ভালো নয়।”

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নেই এবং জনগণকে অন্ধকারে রেখে দফায় দফায় দাম বাড়ানো হচ্ছে। 

তিনি বলেন, “পার্লামেন্টে আলোচনা ছাড়াই জ্বালানির দাম বাড়ানো জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।” তাঁর মতে, এর সরাসরি প্রভাব পড়ে নিত্যপণ্যের বাজারে, যার চূড়ান্ত ভোগান্তি বহন করতে হয় সাধারণ মানুষকে।

হামে শিশু মৃত্যুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, বরং পুরো ব্যবস্থার ব্যর্থতা। তাঁর দাবি, টিকাদান কর্মসূচি ও প্রস্তুতিতে ঘাটতি থাকায় এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি সংসদে আরও বিস্তারিত আলোচনা করবেন বলেও জানান।

শিশু ফাহিমা হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে কঠোর মন্তব্য করে তিনি বলেন, একটি শিশুর নির্মম মৃত্যু জাতির জন্য লজ্জার। অভিযুক্ত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এমন অপরাধের পেছনে জড়িতদেরও আইনের আওতায় আনা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের ঘটনায় জড়ানোর সাহস না পায়।

তিনি আরও বলেন, মামলার বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে চার্জশিট দাখিল এবং বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। প্রয়োজনে প্রশাসনিক উদ্যোগ জোরদার করার কথাও উল্লেখ করেন।

সফরের এক পর্যায়ে শিশু ফাহিমার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “ফাহিমার ছবি দেখলে চোখের পানি আটকে রাখা যায় না”—এ কথা বলতে গিয়ে তিনি কিছুটা আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন।

স্থানীয় পর্যায়ে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিচার প্রক্রিয়া দ্রুততর করার দাবি আরও জোরালো হচ্ছে বলে জানা গেছে।

 

 

 

সি/মা/ডেস্ক/এসসিজে