প্রকাশিত: ০২ জুন, ২০২৬ ১৬:৩১ (বুধবার)
প্রকৃতির নীরব সৌন্দর্যে মুগ্ধতার এক অনন্য ঠিকানা

নগরজীবনের ব্যস্ততা ও কোলাহল থেকে দূরে শান্ত পরিবেশে কিছু সময় কাটাতে আগ্রহীদের জন্য উৎমা ছড়া হতে পারে আদর্শ ভ্রমণস্থল। ছড়ার স্বচ্ছ পানি, ধূসর পাথরের বিস্তৃতি, চারপাশের সবুজ প্রকৃতি এবং পাখির কলকাকলি দর্শনার্থীদের মনে এনে দেয় প্রশান্তির আবেশ।

ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় উৎমা ছড়ার রূপও। বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢল ও জলপ্রবাহে ছড়াটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত, আর শীত ও বসন্তে নির্মল প্রকৃতি ও সবুজের আবরণে স্থানটি ধারণ করে ভিন্ন সৌন্দর্য। এই বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক রূপ পর্যটকদের বারবার টেনে আনে এখানে।


সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভ্রমণপ্রেমীদের প্রচারণায় উৎমা ছড়ার পরিচিতি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিদিনই শত শত পর্যটক ছুটে আসছেন এই নয়নাভিরাম স্থানটি দেখতে। স্থানীয়দের মতে, প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে উৎমা ছড়া সিলেট অঞ্চলের অন্যতম জনপ্রিয় ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।


ঘুরতে আসা কয়েকজন পর্যটক জানান, পাহাড়, ঝর্ণা, পাথর ও নির্জন পরিবেশের সমন্বয়ে উৎমা ছড়া অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর। তবে স্পটে পৌঁছানোর রাস্তা ভাঙাচোরা হওয়ায় যাতায়াতে কিছুটা দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এছাড়া ওয়াশরুম ও চেঞ্জিং রুমের অভাবও পর্যটকদের ভোগান্তির অন্যতম কারণ।


স্থানীয় সাংবাদিক আলী হোসেন বলেন, “স্বচ্ছ পানি, পাথর, ঝুলন্ত সেতু এবং পাহাড় মিলিয়ে এখানে এক মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। প্রকৃতিপ্রেমী যে কাউকেই এই সৌন্দর্য মুগ্ধ করবে।”
পর্যটনকেন্দ্রে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করছেন স্থানীয় অনেক মানুষ। জাম বিক্রেতা মানিক মিয়া জানান, ঈদের পর থেকে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতিদিন ভালো বিক্রি হওয়ায় স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও উপকৃত হচ্ছেন।


কসমেটিকস বিক্রেতা ইব্রাহিম মিয়ার মতে, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হলে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আয়ও বৃদ্ধি পাবে।


নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা গ্রাম পুলিশ সদস্য বাবুল দেবনাথ জানান, ঈদের পরের দিন প্রায় ১০ হাজার পর্যটক উৎমা ছড়ায় ভ্রমণ করেছেন। বর্তমানে প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় হাজার পর্যটক সেখানে আসছেন। তবে মূল সড়ক থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা থাকায় দর্শনার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।


সীমান্ত নিরাপত্তায় নিয়োজিত বিজিবির উৎমা বিওপির হাবিলদার হানিফ মিয়া বলেন, সীমান্ত পাহারার পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও তারা সচেষ্ট। অনেক পর্যটক অসাবধানতাবশত সীমান্তের দিকে চলে গেলে তাদের সতর্ক করে ফিরিয়ে আনা হয়। তিনি জানান, সেখানে ট্যুরিস্ট পুলিশ মোতায়েন করা হলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হবে।


প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়-ঝর্ণা-অরণ্যের অপূর্ব সমন্বয় এবং নির্মল পরিবেশের কারণে উৎমা ছড়া এখন শুধু একটি দর্শনীয় স্থান নয়; বরং প্রকৃতির সান্নিধ্যে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের এক অনন্য ঠিকানা। যথাযথ পরিকল্পনা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে এটি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আরও বিকশিত হতে পারে।