প্রকাশিত: ০২ জুন, ২০২৬ ২৩:৩৫ (বুধবার)
বিদেশ পাঠানোর নামে প্রতারণা,আদালত প্রাঙ্গণে আটক মূল হোতা

ছবি : সংগৃহীত

সিলেটে বিদেশে পাঠানোর নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত ভিসা প্রতারক চক্রের অন্যতম সদস্য ইমন উদ্দিনকে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে জামিন নিতে সিলেট আদালতে হাজির হলে প্রতারণার শিকার কয়েকজন ব্যক্তি তাকে শনাক্ত করেন। পরে তারা ইমনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নগরীর উপশহর এলাকায় অবস্থিত ‘এমেক্স এসোসিয়েটস’ নামের একটি কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইমন উদ্দিন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপ ও কানাডায় পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।

তাদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাজানো ও ভুয়া ভিসা প্রাপ্তির ভিডিও প্রচার করে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করা হতো। বিশেষ করে মাত্র এক হাজার টাকায় কানাডার ভিসা এবং সহজ শর্তে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে শত শত তরুণ-যুবকের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করা হয়।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭০০ জনের কাছ থেকে জনপ্রতি ১ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। এভাবে চক্রটি অন্তত ৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রতারণার বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর গত ১৯ মে এমেক্স এসোসিয়েটসের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে আত্মগোপনে চলে যান ইমন ও তার সহযোগীরা। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজও বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীরা বিষয়টি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নজরে আনলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, চক্রের আরেক সদস্য জাবের আহমদসহ অন্য অভিযুক্তরা দেশত্যাগের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। তারা দ্রুত বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

শাহপরাণ (রহ.) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আহমদ বলেন, “এমেক্স এসোসিয়েটসের ইমন নামের একজনকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে। অভিযোগের অন্যান্য বিষয় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

 

সি/মা/ডেস্ক/এসসিজে