স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে সুরমা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ এবং ‘ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন (দ্বিতীয় সংশোধিত)’ প্রকল্পে নিয়োজিত পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ভেরিয়েশন সংক্রান্ত পৃথক দুটি প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এতে মোট ব্যয় হবে ২৬৫ কোটি ৬৭ লাখ ২৪ হাজার ৯৮২ টাকা।
বুধবার (১৭ জুন) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সম্মেলন কক্ষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় প্রস্তাব দুটিতে অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় কমিটির সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভা সূত্রে জানা গেছে, ‘হাওর এলাকায় উড়াল সড়ক ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলায় সুরমা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের পূর্ত কাজের ক্রয় প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি।
প্রকল্পের আওতায় সিডব্লিউ-১৮ নম্বর প্যাকেজের পূর্ত কাজ ক্রয়ের জন্য এক ধাপ দুই খাম পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপ্রস্তাব জমা পড়ে।
এর মধ্যে মাত্র একটি প্রস্তাব কারিগরিভাবে রেসপনসিভ হয়।
দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক সুপারিশকৃত একমাত্র রেসপনসিভ দরদাতা প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে (১) হাবলাই ইন্ডাস্ট্রিয়াল কনস্ট্রাকশন গ্রুপ লি. (এইচআইসিজিএল) এবং (২) দি ইউনাইটেড কনস্ট্রাকশন কো. লি. (ইউসিসিএল) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
এতে ব্যয় হবে ২৬৪ কোটি টাকা।
সভায় ‘ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন (২য় সংশোধিত)’ প্রকল্পে নিয়োজিত পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ভেরিয়েশন প্রস্তাবেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
গত ২০১৮ সালের ২৭ অক্টোবর সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনক্রমে প্রকল্পে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে যৌথভাবে (১) নিপ্পন কোই কো. লি., জাপান, (২) ডেভেলপমেন্ট ডিজাইন কনসালট্যান্টস লি., বাংলাদেশ, (৩) রিসোর্স প্ল্যানিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্টস প্রা. লি., বাংলাদেশ এবং (৪) বিইটিএস কনসালটিং সার্ভিসেস লি.-এর সঙ্গে ১০৮ কোটি ৮৭ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকায় চুক্তি করা হয়।
চুক্তি অনুযায়ী পরামর্শক সেবা চলমান অবস্থায় দ্বিতীয় সংশোধিত ডিপিপির আলোকে প্রকল্পের মেয়াদ ৩ বছর ৬ মাস বৃদ্ধি পায়। বর্ধিত সময়ে প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে পরামর্শক সেবার মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য ভেরিয়েশন বাবদ অতিরিক্ত ১ কোটি ৬৭ লাখ ২৪ হাজার ৯৮২ টাকার প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
ভেরিয়েশনের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, প্রকল্পের মেয়াদ ৩ বছর ৬ মাস বৃদ্ধি পাওয়ায় অবশিষ্ট ১১৭টি উপ-প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা প্রদান, পূর্ত কাজের গুণগত মান নিশ্চিতকরণ, হস্তান্তরকৃত উপ-প্রকল্পগুলোর টেকসই পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ, সমাপ্ত উপ-প্রকল্পের প্রভাব মূল্যায়ন এবং পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজনীয়তা সৃষ্টি হয়েছে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.