মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের অফিসের বারান্দায় বস্তাভর্তি কয়েক হাজার উপকারভোগিদের স্বাস্থ্য কার্ড পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এতে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সীমা সিদ্দিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে সরকারের লাখ লাখ টাকা অপচয় ও দায়িত্বে অবহেলার।
মঙ্গলবার রাতে হাসপাতাল আগত রোগিদের স্বজনরা তালাবদ্ধ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের বারান্দায় একটি বস্তা ফেলে রাখা দেখে কৌতুহলী হয়ে ওঠেন। এগিয়ে গিয়ে তারা দেখতে পান ভিন্ন ভিন্ন নারি-পুরুষের নাম-ঠিকানা লেখা লেমিনেটেড স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্ডে ভর্তি বস্তাটি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এতে অন্তত ২০ হাজার উপকারভোগির কার্ড রয়েছে। যা কয়েক বছর আগেই উপকারভোগিদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। তারা প্রশ্ন তোলেন সরকারের লাখ লাখ টাকায় তৈরী স্বাস্থ্য কার্ডগুলো কার অবহেলায় উপকারভোগিদের হাতে পৌঁছেনি এবং উপকারভোগিরা সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হল কিনা, তদন্ত করে দোষিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তারা।
দীর্ঘ ৭ বছরেও কার্ডগুলি পৌঁছেনি সুবিধাভোগীদের হাতে। এতে বিভিন্ন মহলে চরমক্ষোভ ও তোলপাড় চলছে। পর্যবেক্ষণে দেখা যায় কার্ডগুলো প্রদানের তারিখ কোনোটিতে ২০১৩ সাল ও কোনোটি ২০১৯ সালের উল্লেখ রয়েছে। সরকারি দপ্তরের এমন উদাসীনতায় এলাকায় সমালোচনার ঝড় বইছে।
জানা গেছে, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের বিভিন্ন পদ্ধতি গ্রহণকারি নারি ও পুরুষের সরকারি ভাতা ও সুযোগ সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর নাম ঠিকানা ও গুরুত্বপুর্ণ তথ্য সম্বলিত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্ড তৈরী করে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসে পাঠিয়ে দেয়। মাঠকর্মীরা কার্ডগুলো উপকারভোগিদের হাতে পৌছে দেওয়ার কথা। ওই কার্ডের মাধ্যমে উপকারভোগিদের বিভিন্ন মেয়াদে সরকারিভাবে পরিবার পরিকল্পনা সেবা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়ে থাকে। কিন্তু সরকারি লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে অধিদপ্তরের তৈরী ও পাঠানো হাজার হাজার স্বাস্থ্য কার্ড উপকারভোগিদের হাতে না পৌছে বছরের পর বছর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের ষ্টোররুমে বস্তাবন্দি করে রাখা হয়েছে। এতে ভেস্তে গেছে সরকারের আসল উদ্দেশ্য।
এব্যাপারে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সীমা সিদ্দিকা জানান, তিনি ২০২৪ সালে এখানে যোগদান করেন। যোগাদানের পরই স্টোরে পূর্ব থেকে এই কার্ডগুলি সংরক্ষিত দেখতে পান। খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, সেবাগ্রহিতার তথ্য রেজিস্টার খাতায় বারবার লিপিবদ্ধ যাতে করতে না হয় এবং ট্যাবের মাধ্যমে যাতে সহজে তথ্য সংরক্ষণ করা যায় সে উদ্দেশ্যে কার্ডগুলো তৈরিকৃত ছিল। কিন্তু কার্ডগুলো ত্রুটিপূর্ণ থাকায় সেসময় বিতরন করা হয়নি। মঙ্গলবার অফিস ও ষ্টোররুমে পরিচ্ছন্নতাকালে এই কার্ডগুলো সাময়িক সময়ের জন্য বারান্দায় রাখা হয়। পরে তা ষ্টোররুমে পুনরায় সংরক্ষণ করেন।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.