ছবি : সংগৃহীত
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় বিচার নিয়ে অনিশ্চয়তার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ন্যায্য বিচারের দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন তারা।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রশাসনিক ভবন-১ এর সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় তারা "আমার ভাইয়ের ওপর হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই", "খাইরুল আহত কেন, প্রশাসন জবাব চাই", "সন্ত্রাসীদের ঠিকানা এই ক্যাম্পাসে হবে না", "শিক্ষা ও সন্ত্রাস একসঙ্গে চলতে পারে না" এবং "সাস্টিয়ান, এক হও, লড়াই করো"সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে। তারা অভিযোগ করেন, ঘটনার পর বিভিন্ন মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া শিথিল হওয়ার আশঙ্কার কথা সামনে আসছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ইংরেজি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আদনান ফরহাদ বলেন, "কেবল ক্ষমা চেয়ে একটি হামলার ঘটনা শেষ হয়ে যেতে পারে না। আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছি না। একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর ওপর হামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার চাই।"
বিচার নিয়ে শঙ্কার বিষয়ে তিনি বলেন, "আমরা এখনো সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে অনড় রয়েছি। প্রত্যাশিত বিচার না হলে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।"
তিনি আরও জানান, আহত শিক্ষার্থী খাইরুল ইসলামের সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে। খাইরুলের বক্তব্য অনুযায়ী, তার ওপর হামলার বিচার না হলে ভবিষ্যতে অন্য শিক্ষার্থীরাও একই ধরনের ঘটনার শিকার হতে পারেন। তাই যেকোনো চাপ উপেক্ষা করে তিনি ন্যায্য বিচারের দাবিতে অটল থাকবেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ১৯ জুলাই ঘোষিত তিন দফা দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন। দাবিগুলো হলো— হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কার, শাহপরান আবাসিক হলের প্রভোস্টের পদত্যাগ ও তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আহত শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
উল্লেখ্য, শাহপরান আবাসিক হলের খাবারের মান নিয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে মন্তব্যকে কেন্দ্র করে গত শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এলাকায় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী খাইরুল ইসলাম মারধরের শিকার হন। এ ঘটনায় শাখা ছাত্রদলের দপ্তর যোগাযোগ সম্পাদক হাসিবুর রহমান ও সহ-দপ্তর সম্পাদক তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ওই দুই নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে।
সি/মা/ডেস্ক/এসসিজে
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.