প্রকাশিত: ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:১২ (শনিবার)
দাবি আদায় পর্যন্ত রাজপথে থাকব: জামায়াত আমির

সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে মন্তব্য করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকার জনগণের সঙ্গে ভাঁওতাবাজি করছে, প্রতারণা করছে। ওয়াদা দিয়ে তা লঙ্ঘন করছে।


জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না। জনগণের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথে থাকবেন।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা নগরীর পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এই রাস্তায় রক্ত ঢেলেছিলেন আপনাদের সঙ্গীরা।

তাদের সেই দাবি পূরণ হয়নি। সেই দাবি পূরণ করার জন্য আমরা রাস্তায় নেমেছি।
ইনশাআল্লাহ, দাবি পূরণ করে ঘরে ফিরব।


গণভোটের গণরায় ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের দাবি তুলে জামায়াতের আমির বলেন, আমরা রাস্তায় নেমেছি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করার জন্য। রাস্তায় নেমেছি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন করার জন্য। আমরা রাস্তায় নেমেছি আপনাদের ঘরে গ্যাস ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। রাস্তায় নেমেছি আপনাদের ঘরে বিদ্যুৎ ও বাতি জ্বালানোর ব্যবস্থা করার জন্য।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আপনারা কি ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পান, গ্যাস পান? চাঁদাবাজি হয় কি না? দেশ মাদকে ছেয়ে গেছে? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সব মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হয়ে বসে আছেন। কিন্তু নিজের বাড়ির পাশের খবর তিনি রাখেন না। সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছিল, মাদকের সবচেয়ে বড় চালান আসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়ির পাশ দিয়ে। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুরোপুরি ব্যর্থ।

তিনি বলেন, কুমিল্লা বিভাগের দাবি উঠেছিল ১৯৯৪ সালে। একই সময়ে সিলেট বিভাগ বাস্তবায়ন হলেও কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন হয়নি। কোনো ধানাইপানাই না করে কুমিল্লা বিভাগ দেন। নোয়াখালী চাইছে, তাদেরকেও দেন। তবে কুমিল্লাকে আগে দিতে হবে। কুমিল্লায় ইপিজেড আছে। প্রয়োজনীয় সম্ভাব্যতা যাচাই করে কুমিল্লা এয়ারপোর্টের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

পথসভায় জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরও বক্তব্য দেন। তিনি লংমার্চের ছয় দফা দাবি বাস্তবায়ন এবং গণভোটের গণরায় কার্যকর করার আহ্বান জানান।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের এসব মৌলিক দাবি পূরণ না হলে সরকার গদিতে থাকতে পারবে না। 

লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া রায় কার্যকর করতে হবে। এই রায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাস্তবায়িত না হলে সরকারকে ব্যর্থ করে দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন এবং দেশকে সঠিক গন্তব্যে এগিয়ে নিতে সামনে আরও কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। লংমার্চের মধ্য দিয়ে চলমান আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোট ছয় দফা দাবিতে শনিবার সকালে রাজধানী থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ শুরু হয়। নারায়ণগঞ্জের শিমরাইলসহ বিভিন্ন স্থানে পথসভা শেষে লংমার্চটি কুমিল্লায় পৌঁছে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে পথসভা করে। পরে চট্টগ্রামের উদ্দেশে লংমার্চটি যাত্রা করে।

পথসভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও কুমিল্লা মহানগরী আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ। সভা পরিচালনা করেন কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি মো. মাহবুবর রহমান। 

এ ছাড়া পথসভায় বাংলাদেশ লেবার পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব আলী হোসেন আকন্দ, আমার বাংলাদেশ পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট যোবায়েব আহমেদ ভূঁইয়া, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মো. আবদুস সাত্তার, কুমিল্লা জেলা দক্ষিণ জামায়াতের আমির মোহাম্মদ শাহজাহান অ্যাডভোকেট, কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবদুল মতিন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মজিবুর রহমান ভূঁইয়া এবং চাঁদপুর জেলা জামায়াতের আমির মো. বিল্লাল হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।