প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:৫১ (রবিবার)
শুধু ভবন আর যন্ত্রপাতিতেই আধুনিক 

হবিগঞ্জের হাওরবেষ্টিত আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়ে চারতলা নতুন ভবন ও আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা পেলেও তীব্র জনবল সংকটের কারণে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় রোগীরা। ৩১ শয্যার সীমিত জনবল ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে হাসপাতালটি পরিচালিত হওয়ায় অপারেশন থিয়েটার ও এক্স-রে কক্ষের মতো গুরুত্বপূর্ণ সুবিধাগুলো এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি।


হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, মূল বাধা জনবলসংকট। ৫০ শয্যার হাসপাতালের অবকাঠামো তৈরি হলেও সে অনুযায়ী জনবল পদায়ন হয়নি। ফলে পুরোনো ৩১ শয্যার জনবল ও সীমিত সুযোগ-সুবিধা দিয়েই চলছে চিকিৎসাসেবা।


হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১৯ জন চিকিৎসকের পদের মধ্যে ১১টি এবং ২৫ জন সিনিয়র স্টাফ নার্সের মধ্যে ১৬টি পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে ছোটখাটো সমস্যা বাদ দিয়ে সামান্য জটিল রোগী এলেই তাদের বাধ্য হয়ে হবিগঞ্জ সদর বা অন্যত্র পাঠাতে হচ্ছে, যা হাওর অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য অতিরিক্ত অর্থ ও সময় ব্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীরা জানান, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ সীমিত। গুরুতর বা জটিল রোগী এলেই তাঁদের হবিগঞ্জ সদর কিংবা অন্যত্র পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এতে হাওর এলাকার মানুষের চিকিৎসার জন্য অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে একজন রোগী বলেন, হাসপাতালে রক্ত পরীক্ষা, ইসিজিসহ প্রয়োজনীয় অনেক পরীক্ষা করা যায় না। পেটে ব্যথার মতো সমস্যাও গুরুতর হলে রোগীকে হবিগঞ্জে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। চিকিৎসকও প্রয়োজনের তুলনায় কম। চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল বাড়ানো হলে রোগীদের জন্য বড় সুবিধা হতো।


আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন জানান, ৫০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ সেবা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও লজিস্টিক সুবিধা চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ান পদায়ন করে হাওরবাসীর দোরগোড়ায় আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।