প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:১৩ (মঙ্গলবার)
মৌলভীবাজারে এসপি-ওসি পরিচয়ে হোয়াটসঅ্যাপে চাঁদা দাবি

মৌলভীবাজারে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) ও বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিচয়ে হোয়াটসঅ্যাপে একটি চক্র চাঁদা দাবি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলার ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের কাছে পুলিশ বক্স স্থাপনে সহায়তার কথা বলে অর্থ চাওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

 
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়।

জেলা পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি জেলার একাধিক ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করে অর্থ দাবি করা হয়। কখনো পুলিশ বক্স স্থাপনে সহায়তা, কখনো পুলিশের নানা কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে টাকা চাওয়া হচ্ছে। 

সূত্র জানায়, বার্তা পাঠানোর ক্ষেত্রে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও থানার ওসিদের নাম, ছবি এবং পরিচয় ব্যবহার করা হচ্ছে।

 
পুলিশের ধারণা, সংঘবদ্ধ একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে কর্মকর্তাদের পরিচয় নকল করে প্রতারণা করছে। চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করতে এরই মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ সূত্র।

প্রতারণার ফাঁদ থেকে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের সতর্ক করতে জেলা পুলিশের বিশেষ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পুলিশ বা প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা পরিচয়ে হোয়াটসঅ্যাপ, ফোনকল কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ অর্থ বা চাঁদা দাবি করলে কোনোভাবেই অর্থ পাঠানো যাবে না।


এমন কোনো বার্তা বা কল পেলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি অথবা জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে।
নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, এ ধরনের প্রতারণামূলক বার্তা পেলে হোয়াটসঅ্যাপের স্ক্রিনশট, ব্যবহৃত ফোন নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করা জরুরি। কেউ ইতোমধ্যে প্রতারণার শিকার হয়ে থাকলে কিংবা এমন কোনো বার্তা পেয়ে থাকলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করে অভিযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

জেলা পুলিশ বলছে, কর্মকর্তাদের নাম, ছবি কিংবা পদবি ব্যবহার করলেই কোনো ব্যক্তিকে প্রকৃত কর্মকর্তা হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না। আর্থিক লেনদেনের আগে অবশ্যই পরিচয় ও দাবির সত্যতা যাচাই করতে হবে।


বিভ্রান্তিকর বার্তায় সাড়া না দিয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানায় মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ।