প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৪০ (শনিবার)
তাহসিফের মৃত্যুর তদন্তে নতুন মোড়, পিবিআই হেফাজতে দীপ

নিহত তাহসিফ সৌরি (ছবি: সংগৃহীত)

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। নিখোঁজ হওয়ার আগে দীর্ঘ সময় তার সঙ্গে থাকা বন্ধু দীপকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের একটি বাসা থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়।

তবে তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় দীপের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, কিংবা কী কারণে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি তদন্তকারী সংস্থা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে দীপকে পিবিআইয়ের হেফাজতে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, মোহাম্মদপুর থানার বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাসার তৃতীয় তলা থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। দীপ ওই এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়ার আগে তাহসিফের সঙ্গে দীপের সাক্ষাতের বিষয়টি তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজেও তাদের একসঙ্গে দেখা গেছে। পরিবারের সদস্যরা ফুটেজে থাকা ব্যক্তিকে দীপ হিসেবে শনাক্ত করেছেন।

ফুটেজে দেখা যায়, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের একটি গ্যারেজের সামনে তাহসিফের সঙ্গে দেখা হয় দীপের। সেখানে দুজন হাত মেলানোর পর আলাদা দুটি মোটরসাইকেলে করে স্থান ত্যাগ করেন।

পরিবারের দাবি, দীপের ডাকেই সেদিন বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তাহসিফ। পরে দীপ তাদের জানিয়েছিলেন, তাহসিফের মোটরসাইকেলে যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেওয়ায় দুজন একটি ওয়ার্কশপে যান। মেরামত শেষে তারা একসঙ্গে বাসায় ফিরে খাবার খান। এরপর দীপ চলে যান বলে জানান তিনি।

নিখোঁজ হওয়ার আগে তাহসিফের সঙ্গে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন দীপ। ফলে তাদের ওই দিনের সাক্ষাৎ, চলাফেরা এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে এসব বিষয়ে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কারও সম্পৃক্ততা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

এর আগে বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে টঙ্গী নদী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন। হাতঘড়ি ও পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে মরদেহটি তাহসিফ সৌরির বলে শনাক্ত করা হয়।

বৃহস্পতিবার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। একই দিন বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জানাজা শেষে উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম ছেলের মৃত্যুকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নিতে পারছেন না। তিনি হত্যার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

এদিকে মরদেহ উদ্ধারের পর তাহসিফের নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়া এবং পেট ফোলা থাকার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে এসব শারীরিক লক্ষণ এককভাবে মৃত্যুর কারণ প্রমাণ করে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ফলাফল পাওয়া গেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা মিলতে পারে।

উল্লেখ্য, ‘আমার দেশ’ পত্রিকায় বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর তাহসিফকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল। সম্প্রতি বিভিন্ন পডকাস্টে দেওয়া তার খোলামেলা বক্তব্য নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়। তার রহস্যজনক মৃত্যুর পর এসব বিষয় ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা ও জল্পনা ছড়িয়েছে। তবে এসব আলোচনার সঙ্গে মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো প্রমাণিত নয়।

 

সি/মা/ডেস্ক/এসসিজে