প্রকাশিত: ০১ নভেম্বর, ২০২৬ ১৭:১২ (সোমবার)
জুড়ীতে গোবর থেকে গ্যাস ও জৈব সার উৎপাদন

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় গবাদিপশুর গোবর ব্যবহার করে বায়োগ্যাস ও জৈব সার উৎপাদন করে অর্থনৈতিক সাফল্যের নতুন দ্বার উন্মোচন করেছেন স্থানীয় উদ্যোক্তারা। এই উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন রান্নার গ্যাসের চাহিদা পূরণ হচ্ছে, অন্যদিকে জৈব সার বিক্রির মাধ্যমে মিলছে বাড়তি আয়।

জানা গেছে, জুড়ী উপজেলার সাগরনাল ইউনিয়নের টিলাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা জমির উদ্দিন ২০২৫ সালের জুন মাসে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে ৩ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে প্রথম এই বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করেন। তাঁর এই সফলতা দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে একই ইউনিয়নের বরইতলী, কলাবাড়ি বাজার ও দক্ষিণ সাগরনাল গ্রামের খসরু মিয়া, আপ্তাব আলী, বদরুল ইসলাম, আব্দুল কাদির, জামালুর রশিদ, সজল শর্মা, আব্দুল করিম, লুৎফুর রহমান, মুস্তাকিম হোসেন, আব্দুল মুহিত, সাহেদ আহমদ ও ফখর উদ্দিনসহ অনেকেই বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন।

উদ্যোক্তা জমির উদ্দিন জানান, নিজের খামারের পাশাপাশি বাইরে থেকেও গোবর সংগ্রহ করে প্লান্টটি পরিচালনা করা হয়। উৎপাদিত গ্যাসে তাঁর নিজের করাসহ তিনটি চুলা সচল থাকে। যার মধ্যে দুটি চুলায় গ্যাস বিক্রি করে তাঁর মাসে সাত হাজার টাকা আয় হয়। পাশাপাশি এই প্লান্ট থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৫ টন জৈব সার উৎপাদিত হয়, যা উপজেলা কৃষি অফিসসহ স্থানীয় কৃষকদের কাছে বিক্রি করে ভালো লাভ পাওয়া যাচ্ছে।

উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন জানান, জুড়ী উপজেলায় বায়োগ্যাস প্লান্ট কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ইতিমধ্যে সাগরনাল ইউনিয়নকে ‘বায়োগ্যাস পল্লী’ ঘোষণা করা হয়েছে এবং সেখানে ১৩টি প্লান্টের মাধ্যমে প্রায় ৮০টি পরিবার গ্যাসের সুফল ভোগ করছে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে অত্যন্ত সহজ শর্তে (প্রথম তিন মাস কিস্তি ছাড়া, মাত্র ২.৫০ শতাংশ সুদে ২৪ কিস্তিতে) এই ঋণের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম খান বলেন, পরিবেশবান্ধব কৃষিতে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় জৈব সারের বিকল্প নেই। বায়োগ্যাস প্লান্ট থেকে উদ্যোক্তারা একই সঙ্গে গ্যাস ও মানসম্মত জৈব সার পাচ্ছেন, যা কৃষি খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে রাব্বানী চৌধুরী আশা প্রকাশ করে বলেন, নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস হিসেবে বায়োগ্যাস অত্যন্ত উপকারী। জুড়ী উপজেলায় এই বায়োগ্যাস প্লান্টগুলো গ্রামীণ অর্থনীতিতে একটি ইতিবাচক বিপ্লব ঘটাতে সক্ষম হচ্ছে।