ছবি: সংগৃহীত
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। সোমবার সকাল থেকে কোনাবাড়ী, সফিপুর, মৌচাক ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ১০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করছেন বিজিবি সদস্যরা।
সোমবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নূরুল করিম ভূঁইয়া জানান, শিল্পাঞ্চলে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সদস্যরা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রীয় সম্পদ কিংবা সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি যেন না হয়, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক রয়েছে। অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও প্রস্তুত রয়েছেন।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের ভাষ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে বর্তমান মজুরির সামঞ্জস্য না থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। তাদের অভিযোগ, একটি গ্যাসের সিলিন্ডার কিনতেই প্রায় আড়াই হাজার টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় শুধু নতুন মজুরি বোর্ড গঠন নয়, দ্রুত ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে তা ঘোষণা করতে হবে।
শ্রমিকেরা দাবি করেছেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছেন। বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বহিরাগতরা জড়িত বলেও অভিযোগ তাদের। তাদের ভাষ্য, বহিরাগতরা শ্রমিকদের সঙ্গে মিশে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে।
এদিকে শ্রমিক অসন্তোষের প্রভাবে সোমবার সকাল ৮টা থেকে কোনাবাড়ী, সফিপুর, মৌচাক ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে এদিন ঠিক কতটি কারখানা বন্ধ রয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি শিল্প পুলিশ।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন জানান, শ্রমিক আন্দোলনের কারণে রোববার শতাধিক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। সোমবারও বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ চলছে। তবে নতুন করে কতটি কারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে, সেই হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি।
এর আগে রোববার সকাল থেকেই কোনাবাড়ী, কাশিমপুর, মৌচাক, সফিপুর, চন্দ্রা ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিভিন্ন স্থানে মহাসড়ক অবরোধের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। কয়েকটি স্থানে শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।
এ সময় কোনাবাড়ী এলাকায় একটি পুলিশ বক্সে এবং পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ভাঙচুর করা হয় যানবাহন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। পরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় শিল্পাঞ্চলে বিজিবি মোতায়েন করা হয়।
আন্দোলনকে ঘিরে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় শ্রমিক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করার খবরও পাওয়া গেছে।
সব মিলিয়ে শ্রমিক বিক্ষোভ, কারখানায় সাধারণ ছুটি এবং মহাসড়কে অবরোধকে কেন্দ্র করে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
সি/মা/ডেস্ক/এসসিজে
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.