সিলেট

গভীর বিপর্যয়ে কৃষকরা

ফসল হারিয়ে কৃষকের কাঁধে ঋণের বোঝা

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ ১৪:২৫

সুনামগঞ্জের হাওরে বোরো ধান হারিয়ে কৃষকের জীবনে নেমে এসেছে এক গভীর বিপর্যয়। টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে তাদের একমাত্র ভরসার ফসল। যে ধান ঘরে তুলে ঋণ শোধের স্বপ্ন দেখছিলেন তারা, সেই ধান এখন অংকুর গজিয়ে পচে যাচ্ছে খলায়। 


ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা এনজিও, ব্যাংক কিংবা মহাজনের কাছ থেকে ধার করেছিলেন বীজ, সার, সেচ আর শ্রমিকের খরচ। কিন্তু ফসল ঘরে ওঠার আগেই পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এখন তারা ঋণের জ্বালায় অতিষ্ঠ। কেউ কেউ বাড়িছাড়া হয়ে পড়েছেন, কেউ আবার সংসারের খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। 


কৃষকদের ভাষ্যমতে, বোরো ধান ঘরে উঠবে, মহাজনের ঋণ শোধ হবে, ব্যাংকের কিস্তি মিটবে, সংসারে ফিরবে কিছুটা স্বস্তি। কিন্তু টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে সেই সব হিসেব এখন এলোমেলো। সুনামগঞ্জের হাওরের বিস্তীর্ণ মাঠ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এক মৌসুমেই স্বপ্ন হারিয়েছেন হাজারো কৃষক। ফসল হারিয়ে এখন ঋণের ভারে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা। 


কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন হাওরে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা। বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিক খরচের জন্য অনেকেই এনজিও, ব্যাংক কিংবা স্থানীয় মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। কিন্তু ফসল ঘরে তোলার আগেই পানিতে তলিয়ে গেছে সেই ধান। 


দেখার হাওরের কৃষক আবদুল হালিম কণ্ঠে হতাশা নিয়ে বলেন, ‘১২ কিয়ার জমিতে ধান করছিলাম। প্রায় দুই লাখ টাকা ঋণ নিয়েছি। ধান উঠলে শোধ করতাম। এখন জমির ধানই নাই, কিস্তি দিব কেমনে বুঝতেছি না।’ 


সাংহাই হাওরের কৃষাণী আইবুন বেগম বলেনÑ ‘সার, বীজ, শ্রমিক সব ধার কইরা করছি। এখন খলায় যে ধান আনছি, বৃষ্টির কারণে শুকাইতে না পাইরা অনেক ধান নষ্ট হইয়া গেছে। সংসার চালানোই কষ্ট হয়ে গেছে।’ 


শুধু মাঠ নয়, বিপর্যয়ের ছায়া নেমেছে পরিবারেও। সন্তানদের পড়াশোনা, চিকিৎসা আর নিত্যদিনের খাবার জোগাড় নিয়েও শঙ্কায় আছেন কৃষক পরিবারগুলো। গোলাঘর ফাঁকা পড়ে আছে, সংসারে নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা আর হতাশা। 


কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। সরকার ইতিমধ্যে তিন মাস মেয়াদী সহায়তা কার্যক্রম শুরু করেছে। পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত সকল কৃষককে সহায়তার আওতায় আনা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। 
 

সিলেট থেকে আরো পড়ুন


বিজ্ঞাপন