মেসিকে ছাড়িয়ে গেলেন এমবাপে!
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬ ১৪:৫৬
ট্রফি জয়ের লড়াই থেকে ছিটকে যাওয়ার ক্ষতটা তখনো দগদগে। দুই দলের ফুটবলারদের চোখমুখেই লেগে ছিল সেই ‘হৃদয়ভাঙার’ বেদনা। কিন্তু মাঠের লড়াই যখন শুরু হলো, তখন আর বিষাদের কোনো ছাপ রইল না।
এক প্রকার রোমাঞ্চ, একের পর এক গোল আর নাটকীয়তার পসরা সাজিয়ে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি রূপ নিল এক মহাকাব্যিক লড়াইয়ে। মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে গোলবন্যার ম্যাচে ফ্রান্সকে ৬-৪ ব্যবধানে হারিয়ে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে থমাস টুখেলের ইংল্যান্ড।
এ যেন এক অন্য ইংল্যান্ড! নকআউট পর্বের সেই রক্ষণাত্মক খোলস ভেঙে এদিন প্রথমার্ধেই ফরাসি রক্ষণকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয় থ্রি লায়ন্সরা। ম্যাচের বয়স তখন মাত্র ৩ মিনিট, এজ ওলিসের পাস থেকে ফ্রান্সের জালে বল জড়ান ডেক্লান রাইস। শুরুর ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ১৯ মিনিটে ইজরি কোনসার গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইংলিশরা।
এর কিছুক্ষণ পর বুকায়ো সাকার গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। ৩৭ মিনিটে দারুণ এক আক্রমণে স্কোরলাইন ৩-০ করেন সেই সাকাই। আর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে (৪৫+১ মিনিটে) ফরাসি ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের চতুর্থ গোলটি করেন এই আর্সেনাল তারকা। প্রথমার্ধেই ৪-০ গোলে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচটি একপেশে করে ফেলার আভাস দিয়েছিল ইংল্যান্ড।
তবে বিরতির পর দৃশ্যপট বদলে যায় পুরোপুরি। ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম দ্বিতীয়ার্ধে একসাথে চারজন খেলোয়াড় পরিবর্তন করে দলে গতি ফেরান। ফল মিলতেও সময় লাগেনি। ৪৮ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপে গোল করে ব্যবধান ৪-১ করেন। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির মোট গোলসংখ্যাকে স্পর্শ করেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।
ঠিক ৬ মিনিট পর (৫৪ মিনিটে) ব্র্যাডলি বারকোলার চোখধাঁধানো গোলে ম্যাচে ফেরে ফ্রান্স। এরপর ৬৭ মিনিটে মায়ামির গ্যালারিকে স্তব্ধ করে দিয়ে ওলিসের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন এমবাপে।
এই গোলে তিনি টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় নিজের নাম আরও উঁচুতে তুলে নেন। অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে ওলটপালট করে দেন বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের ইতিহাস। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে লিওনেল মেসিকে টপকে এককভাবে এখন বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।
জোড়া গোলে মেসিকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনে বসলেন এমবাপে (২২ গোল)। একই সঙ্গে চলমান বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের দৌড়েও মেসিকে (৮ গোল) টপকে গেলেন তিনি। টুর্নামেন্টে এমবাপের গোলসংখ্যা এখন ১০!
ফ্রান্স তখন ম্যাচ সমতায় আনার জন্য মরিয়া। ৪-০ থেকে স্কোরলাইন তখন ৪-৩! টুখেলের কপালে তখন চিন্তার ভাঁজ, আর গ্যালারিতে ফরাসি সমর্থকদের উল্লাস।
কিন্তু নাটকের শেষ অঙ্ক তখনও বাকি ছিল। ৮৫ মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর ইংলিশ ডিফেন্ডার ডিজেড স্পেন্সকে ফাউল করে বসেন ফ্রান্সের মালো গুস্তো। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজাতে দ্বিধা করেননি। জুড বেলিংহাম শট নেওয়ার জন্য এগিয়ে এলেও শেষ পর্যন্ত বল তুলে দেওয়া হয় সাকার হাতে। ৮৬ মিনিটে পেনাল্টি থেকে নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন বুকায়ো সাকা।
ম্যাচ তখন কার্যত শেষ মনে হলেও যোগ করা সময়ে আরও গোল পায় ফ্রান্স। অতিরিক্ত সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে দেম্বেলের গোলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৫-৪। তবে দুই মিনিট বাদে বেলিংহামের গোলে ৬-৪ গোলের লিড পায় ইংল্যান্ড।
ফাইনালে উঠতে না পারার আক্ষেপ হয়তো চিরকালই পোড়াবে এই দুই পরাশক্তিকে। তবে মায়ামির এই তপ্ত সন্ধ্যায় ১০ গোলের যে রোমাঞ্চকর প্রদর্শনী তারা ফুটবলবিশ্বকে উপহার দিল, তা বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সেরা একটি ‘তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ’ হিসেবে দীর্ঘদিন ফুটবলপ্রেমীদের মনে গেঁথে থাকবে!
খেলাধুলা থেকে আরো পড়ুন