সিলেট-২ আসন
প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৫:৪৩
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি আর মাত্র ১১ দিন। এরইমধ্যে সিলেট-২ আসনে নির্বাচনী মাঠে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা। বিএনপির তাহসিনা রুশদীর লুনা সাংগঠনিক শক্তিতে এগিয়ে থাকলেও কৌশলী প্রচারণায় পাল্টা অবস্থান গড়ছেন ১০ দলীয় জোটের মুহাম্মদ মুনতাছির আলী। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার ভিড়ে কার্যত অনুপস্থিত জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মাহবুবুর রহমান চৌধুরী ও গণফোরামের প্রার্থী মুজিবুল হক। যাদের নির্বাচনী তৎপরতা মাঠপর্যায়ে চোখে পড়ছে না বললেই চলে। আর নামমাত্র প্রচারণায় আছেন ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আমির উদ্দিন।
জানা গেছে, সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে রাজনৈতিক মাঠে একদিকে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী, নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী তাহসিনা রুশদীর লুনা ধারাবাহিক কর্মসূচি ও সাংগঠনিক শক্তি দিয়ে নিজের অবস্থান আরও দৃঢ় করছেন। আর ১০ দলীয় জোট প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মুনতাছির আলী জামায়াতে ইসলামী ও শরিক দলের নেতাদের নিয়ে অত্যন্ত কৌশলী ও হিসেবি প্রচারণার মাধ্যমে নিজস্ব ভোটব্যাংক তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত সিলেট-২ আসনে তাহসিনা রুশদীর লুনার প্রচারণা দিন দিন গতি পাচ্ছে। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকেই তিনি নিয়মিত গণসংযোগ, পথসভা, উঠান বৈঠক ও হাট-বাজারে উপস্থিত হয়ে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলছেন। তার বক্তৃতায় বারবার উঠে আসছে নিখোঁজ নেতা এম. ইলিয়াস আলীর সংগ্রামী রাজনৈতিক জীবন, তার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং ‘অবহেলিত সিলেট-২’কে নতুন করে গড়ে তোলার অঙ্গীকার। লুনার পক্ষে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্য, উদ্দীপনা ও প্রবাসীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ। দীর্ঘদিন পর ইলিয়াস আলীর পরিবারের কেউ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে আবেগী সাড়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এদিকে, মুনতাছির আলী ভিন্ন কৌশলে এগোচ্ছেন। তিনি বড় সমাবেশ ও জোরালো স্লোগাননির্ভর প্রচারণার চেয়ে সীমিত কিন্তু লক্ষ্যভিত্তিক গণসংযোগে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি, তরুণ ভোটার ও পেশাজীবী শ্রেণির সঙ্গে নীরব বৈঠকের মাধ্যমে নিজের অবস্থান সুসংহত করার চেষ্টা করছেন তিনি। মুনতাছিরের প্রচারণায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারও চোখে পড়ার মতো। ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তিনি উন্নয়ন, সুশাসন, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ও বিকল্প রাজনীতির বার্তা তুলে ধরছেন।
অন্যদিকে, সিলেট-২ আসন একসময় জাতীয় পার্টির ঘাটি হিসেবে পরিনিত হয়েছিল। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ তিনবার এ আসনে এমপি পেয়েছিল জাতীয়পার্টি। তবে, ২০২৪ এর ৫ আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে কোনঠাসা হয়ে পড়ে জাতীয় পার্টি। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিলেও মাঠে নেই নেতাকর্মীরা, পাশাপাশি মাঠে দেখা যাচ্ছে না জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান চৌধুরীকে। এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির অনেক নেতা।
আর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন গণফোরামের মোকাব্বির খান। তবে, এমপি নির্বাচিত হলেও স্থানীয় পর্যায়ে গণফোরাম দলের ভীত শক্ত করতে পারেননি দলের কেন্দ্রীয় এ নেতা। আসন্ন নির্বাচনে গণফোরামের প্রার্থী হয়েছেন মুজিবুল হক। এখন পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে গণফোরামের এ প্রার্থীর উদীয়মান সূর্য্য প্রতীকের কোন প্রচারণাই দেখা যায় নি। পাশাপাশি হাতপাখা প্রতীক নিয়ে নামমাত্র প্রচারণায় মাঠে আছেন ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আমির উদ্দিন। নির্বাচনী মাঠে এই তিন প্রার্থীর কোনো উল্লেখযোগ্য তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। পোস্টার, ব্যানার, মাইকিং কিংবা গণসংযোগ, সব ক্ষেত্রেই তারা অনেকটাই অনুপস্থিত। স্থানীয় ভোটারদের একটি বড় অংশ প্রার্থীদের নাম জানতেও পারছেন না।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহবুবুর রহমান চৌধুরী সিলেটের মানচিত্রকে বলেন, ‘প্রতীক পাওয়ার পর থেকেই মাঠে আছি। লাঙ্গল প্রতীক সিলেট-২ আসনের আপোম-জনগনের প্রতীক। আশা রাখি ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে ভোটাররা লাঙ্গল প্রতীকে ভোট দিয়েই নির্বাচিত করবে।’
গণফোরামের প্রার্থী মুজিবুল হকের বক্তব্য পাওয়া না গেলেও সিলেট জেলা গণফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট আনসার খান সিলেটের মানচিত্রকে বলেন, ‘আমাদের প্রার্থী মুজিবুল হ কে নিয়ে আমরা প্রচারণায় মাঠে আছি। সিলেট-২ আসনে বিগত দিনে আমাদের দলের এমপি দলকে শক্তিশালী করতে কোন উদ্যোগ নেননি। ফলে ছোট দল হিসেবে সীমিত কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে যতটুকু সম্ভব আমরা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে লড়ে যাবো।’
ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা মো. আমির উদ্দিন সিলেটের মানচিত্রকে বলেন, ‘হাতপাখা প্রতীক নিয়ে নিয়মিত মাঠে কাজ করছেন নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিনই ছোট ছোট উঠান বৈঠক, পথসভা ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচী অব্যাহত রয়েছে।’
১০ দলীয় জোট প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ মুনতাছির আলী সিলেটের মানচিত্রকে বলেন, ‘ প্রচলিত রাজনৈতিক ধারা থেকে বেরিয়ে এসে নতুন চিন্তাধারার রাজনীতি উপস্থাপন করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। জামায়াতে ইসলামীসহ দশটি দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা নির্বাচনী মাঠে বিরামহীন কাজ করছেন। জনগনও আমাদের প্রচারণায় অনেক বেশি সাড়া দিচ্ছেন। বিজয় হবে ইনশাল্লাহ।
বিএনপি প্রার্থী ইলিয়াসপত্নী তাহসিনা রুশদীর লুনা সিলেটের মানচিত্রকে বলেন, ‘এম. ইলিয়াস আলীকে এ আসনের জনগন অনেক ভালোবাসেন। তাঁর প্রতিনিধি হয়ে সুখে-দুখে আমি ছিলাম, আছি এবং থাকবো। আগামীর সুন্দর দেশ গঠনে ও এলাকার উন্নয়নের জন্য ভোটাররা ধানের শীষেই ভোট দিবে।’
বিশেষ প্রতিবেদন থেকে আরো পড়ুন