মুক্তচিন্তা

সন্ত্রাসবাদ ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা সংকট

পাহেলগাম হামলা:

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:০৪

কাশ্মীরের পাহেলগাম বাইসারণ উপত্যকা- নয়নভুলানো প্রকৃতির রূপ। প্রকৃতি যেন সব উজার করে দিয়েছে এখানে। তুলিয়ান লেক থেকে বেতাব ভ্যালি, বৈশরণ ভ্যালি থেকে ভ্যালি অব কাশ্মীর...তালিকা দীর্ঘ। এই জায়গাটিকে মিনি সুইজারল্যান্ড বলেন স্থানীয়রা। তাই গরমে পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের জায়গাও এই পাহেলগাম । 
দিনটি ছিল ২২ এপ্রিল ২০২৫। প্রত্যেক বছরের মতো সেবার সেখানে ভিড় জমিয়েছিলেন পর্যটকরা। কিন্তু তাঁরাই যে জঙ্গিদের ভয়ঙ্কর হামলার মুখে পড়বে, তা কে জানত! এ দিনে ভারতের কাশ্মীর অঞ্চলে ঘটে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ সন্ত্রাসী ঘটনা। 
এ হামলা এমন সময় সংঘটিত হয় যখন জম্মু ও কাশ্মীরে একটি সফল নির্বাচন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে দৃপ্ত পায়ে এগিয়ে যাচ্ছিল। তখন সবেমাত্র চাঙ্গা হতে শুরু করেছিল কাশ্মীরের পর্যটন। বিশেষ করে কোভিদ লকডাউনের পর এবং ভারতের সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল হওয়ায় পর আবারও ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল কাশ্মীরের পর্যটন। সেখানকার ব্যবসায়ীরা তো লাভের মুখ দেখছিলেন। এ জঙ্গি হামলা কাশ্মীরের পর্যটনকে একেবারে খাদের কিনারায় এনে ফেলল। একই সঙ্গে ক্ষতির সম্মুখীন দেশ-বিদেশের পর্যটন ব্যবসায়ীরাও।
বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক ছড়াতে এই ঘৃণ্য হামলা চালানো হয়।
ঘটনার দিন সশস্ত্র জঙ্গিরা হঠাৎ করে পর্যটকদের ওপর গুলি চালায়। অত্যন্ত নৃশংসভাবে ধর্মীয় পরিচয় আলাদা করে একজন বিদেশি নাগরিকসহ ২৬ জন নিরীহ পর্যটককে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করেছে তারা। নিহতদের অধিকাংশই ছিলেন সাধারণ পর্যটক, যারা পরিবারসহ ভ্রমণে এসেছিলেন। হামলাকারীরা অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করে এবং পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালায়।
এই আক্রমণের একটি ভয়াবহ দিক ছিল, হামলাকারীরা ভুক্তভোগীদের ধর্মীয় পরিচয় যাচাই করে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু বানায়। এ ধরনের কাজ শুধু সন্ত্রাস নয়, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবেও বিবেচিত হয়।
এই ঘটনার জন্য প্রথমে ‘দ্য রেজিস্ট্যান্ট ফ্রন্ট’ (টিআরএফ) নামের একটি জঙ্গি সংগঠন দায় স্বীকার করে, যদিও পরে তারা সেই দাবি অস্বীকার করে। এই সংগঠনটি পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে যুক্ত। সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীটি কয়েক বছর ধরে এই অঞ্চলে ছোট পরিসরে কাজ করছে। টিআরএফ-কে যুক্তরাষ্ট্র একটি বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন (এফটিও) হিসেবে ঘোষণা করেছে।
ভারতের প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এমএম নারাভানে ২০২১ সালে টিআরএফকে ‘সন্ত্রাস পুনরুজ্জীবনকারী গোষ্ঠী’ (টেরর রিভাইভাল ফ্রন্ট) হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন। 
বিগত বছরগুলিতে জম্মু ও কাশ্মীর জুড়ে অভিবাসী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে বিক্ষিপ্ত ও কম তীব্রতার সন্ত্রাসবাদী হামলার জন্য ইসলামিক স্টেট-সহ বিভিন্ন অ-প্রথাগত গোষ্ঠীকে দায়ী করা হয়েছে। এই সন্ত্রাসবাদী প্রতিশব্দগুলির অনেকগুলিই উপযোগী ছিল, যা এলইটি ও পাকিস্তান-সমর্থিত আর একটি গোষ্ঠী জইশ-ই-মোহাম্মদ-এর (জেইএম) মতো অপ্রচলিত গোষ্ঠী দ্বারা সমর্থিত ছিল, যাতে তাদের প্রবর্তক, কার্যক্রমের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করা যায় এবং দোষ অস্বীকার করার কাজটি সহজ হয়। পাকিস্তান যে দ্রুত পাহেলগাম হামলা থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছিল তা এই বিষয়টিরই প্রমাণ দেয়।
ভারত সরকার বিগত বছরগুলিতে জম্মু ও কাশ্মীর জুড়ে অভিবাসী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে বিক্ষিপ্ত ও কম তীব্রতার সন্ত্রাসবাদী হামলার জন্য ইসলামিক স্টেট-সহ বিভিন্ন অ-প্রথাগত গোষ্ঠীকে দায়ী করছে।
ভারতের অভিযোগ, টিআরএফ-এর মতোই আরেকটি সহযোগী গোষ্ঠী পিপলস অ্যান্টি-ফ্যাসিস্ট ফ্রন্টও (পিএএফএফ) নিজেদের উপস্থিতি জাহির করেছে, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলির অনলাইন প্রচারণা প্রকাশ করেছে এবং এমনকি আফগানিস্তান থেকে সংগ্রহ করা পশ্চিম দ্বারা তৈরি অস্ত্রের প্রদর্শন করেছে। পাহেলগাম সন্ত্রাসবাদীদের হাতে এমন অস্ত্র দেখা গেছে, যা ২০২১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কাবুল থেকে তাদের চূড়ান্ত বাহিনী প্রত্যাহারের আগে সাধারণত সহজলভ্য ছিল না। এর মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো বাহিনী দ্বারা ব্যবহৃত এম-৪ এবং এম-১৬ রাইফেলও অন্তর্ভুক্ত ছিল। সম্প্রতি, জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে অর্ধ মিলিয়ন অস্ত্র ফেলে গিয়েছিল, পরে সেই অস্ত্র তালিবানের নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সেই অস্ত্রই হয় হারিয়ে গেছে, বিক্রি হয়েছে বা পাচার করা হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, টিআরএফ গোষ্ঠীটি একদিকে যেমন কাশ্মীরের তরুণদের মধ্যে জঙ্গি কার্যকলাপের প্রতি আগ্রহ তৈরি করার চেষ্টা করছে, তেমনই পাকিস্তানও তার আন্তর্জাতিক সম্পর্কের যাতে ক্ষতি না-হয়, সেই চেষ্টা করে চলছে। এফএটিএফ (ফাইনান্সিয়াল এ্যাকশন টাস্ক ফোর্স)-এর গ্রে-লিস্টিংয়ে পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার ঝুঁকি রয়েছে, তাই পাকিস্তান কাশ্মীরের যুবকদেরকেই সামনে রেখে এই জঙ্গিগোষ্ঠীটি তৈরি করেছে।

এই হামলার পর ভারতজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। আন্তর্জাতিক মহল এ ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। বিভিন্ন দেশ এই হামলার নিন্দা করে এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানায়। এর হামলার ফলে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বেড়ে যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, পাহেলগাম জঙ্গি হামলা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ২৫ বছরের এক সুপরিকল্পিত রক্তক্ষয়ী ষড়যন্ত্রের অংশ। 
ভারতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, পাহেলগাম হামলায় জঙ্গিরা শুধু সীমান্ত পেরিয়ে এসে হামলা নয়, স্থানীয় এজেন্টদের ব্যবহার করে ‘হাইব্রিড’ মডেল তৈরি করছে। পর্যটকদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে কাশ্মীরের অর্থনীতি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করাই ছিল এদের মূল লক্ষ্য।
ভারতের সিডিএস জেনারেল অনিল চৌহান সম্প্রতি এক আলোচনায় জানিয়েছেন, আধুনিক যুদ্ধের লক্ষ্য হল প্রতিপক্ষকে ‘প্যারালাইজ’ বা স্তব্ধ করে দেওয়া। পাহেলগাম বা সংসদের মতো জায়গায় হামলা সেই পরিকল্পনারই অংশ।
গত ১৫ ডিসেম্বর ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা এনআইএ যে চার্জশিট পেশ করেছে তার প্রতিটি ছত্রে ধরা পড়েছে কীভাবে সীমান্তপার থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে উপত্যকার সন্ত্রাস। ১ হাজার ৫৯৭ পাতার এই চার্জশিট শুধু পাহেলগাম নয়, কালুচক থেকে পুলওয়ামা - পাকিস্তানের মদতপুষ্ট ‘ছায়াযুদ্ধের’ গোটা ইতিহাস তুলে ধরেছে ভারতের পর্যটন মানচিত্রকে রক্তাক্ত করে ২৫ জন পর্যটক এবং এক স্থানীয়কে হত্যার জন্য ‘ভারতবিরোধী যুদ্ধ’ বা ডধমরহম ধিৎ ধমধরহংঃ ওহফরধ-র ধারা প্রয়োগ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
পাহেলগামে পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গিদের বর্বর সন্ত্রাসবাদী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনাটি জম্মু ও কাশ্মীরে পূর্ববর্তী হামলার কৌশলে এক পরিবর্তনকেই দর্শায়। ২০১৬ সালে পাঞ্জাব রাজ্যের পাঠানকোট এবং ২০১৯ সালে পুলওয়ামা- উভয় ক্ষেত্রেই সামরিক বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল। এবার ২০০০ সালের পর প্রথমবারের মতো ভারতীয় নাগরিকদের এ হেন নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার পর ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই শ্রীনগরের উপকণ্ঠে পাহেলগাম হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিন পাকিস্তানি সন্ত্রাসীকে নির্মূল করা হয়। তাদের কাছে থাকা পরিচয়পত্র থেকে স্পষ্ট হয় যে, মূল হোতা হাবিব তাহির পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের খৈগালার কোইয়ান গ্রামের বাসিন্দা এবং দ্বিতীয়জন বিলাল আফজাল। এই ঘটনাটি পাহেলগাম হত্যায় পাকিস্তানি মদদের অকাট্য প্রমাণ দেয়।

এনআইএ চার্জশিটে দেখিয়েছে, ২০০১ সালের পার্লামেন্ট হামলা, ২০০২-এর কালুচক গণহত্যা, ২০০৬-এর মুম্বই ট্রেন বিস্ফোরণ কিংবা ২০০৮-এর ২৬/১১ - প্রতিটির নকশা তৈরি হয়েছে পাকিস্তানি ভূখণ্ডে। এই তালিকায় রয়েছে পাঠানকোট, উরি এবং ২০১৯-এর পুলওয়ামা হামলাও।
১. সংসদ হামলা (২০০১): লস্কর-ই-তইবা ও জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গিরা সংসদে আঘাত হানার চেষ্টা করেছিল। এর ফলে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধের পরিস্থিতি (অপারেশন পরাক্রম) তৈরি হয়।
২. কালুচক গণহত্যা (২০০২): জম্মুর কালুচকে সেনার ফ্যামিলি কোয়ার্টারে এই হামলায় মহিলা ও শিশু মিলিয়ে ৩১ জন প্রাণ হারান। এটি আন্তর্জাতিক স্তরে পাকিস্তানের জঙ্গি মদতের স্বরূপ উন্মোচন করেছিল।
৩. মুম্বই লোকাল ট্রেন বিস্ফোরণ (২০০৬): মাত্র ১১ মিনিটের ব্যবধানে সাতটি আরডিএক্স বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল মুম্বই। এতে ১৮৯ জন সাধারণ যাত্রী প্রাণ হারিয়েছিলেন।
৪. মুম্বই ২৬/১১ হামলা (২০০৮): সমুদ্রপথে এসে ১০ লস্কর জঙ্গি মুম্বইয়ে হামলা চালায়। আজমল কাসভ ধরা পড়ায় পাকিস্তান থেকে আসা জঙ্গিদের সরাসরি প্রমাণ পায় ভারত।
৫. পাঠানকোট ও উরি হামলা (২০১৬): এই দুই হামলায় ভারতীয় সেনাবাহিনী ও বায়ুসেনার ছাউনিকে লক্ষ্য করা হয়। উরি হামলার ১০ দিনের মাথায় ভারত প্রথমবার ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ চালিয়ে নিয়ন্ত্রণ রেখার ওপারে জঙ্গি লঞ্চপ্যাড ধ্বংস করে।
৬. পুলওয়ামা হামলা (২০১৯): সিআরপিএফ কনভয়ে আত্মঘাতী হামলায় ৪০ জন জওয়ান শহিদ হন। এর জবাবে ভারত পাকিস্তানের বালাকোটে জইশ-ই-মহম্মদের প্রশিক্ষণ শিবিরে ‘এয়ার স্ট্রাইক’ চালায়।
তদন্তকারীদের দাবি, প্রতিটি ঘটনায় লস্কর বা জইশ-এর মতো সংগঠনগুলো পাকিস্তানের প্রশ্রয়েই প্রশিক্ষণ, অর্থ এবং রণকৌশল পেয়েছে।

এনআইএ-র এই চার্জশিটে লস্কর-ই-তইবা এবং তাদের শাখা সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’-এর সাতজন অভিযুক্তের নাম রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান হ্যান্ডলার হিসেবে নাম রয়েছে সাজিদ জাট-এর। এছাড়া ফয়সাল জাট, হাবিব তাহির এবং হামজা আফগানির মতো তিন কুখ্যাত জঙ্গির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যারা গত বছরের জুলাই মাসে ‘অপারেশন মহাদেব’-এ মারা যায়।
এনআইএ-র দেওয়া এই তথ্যপ্রমাণগুলি স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, নাম বদলালেও পাকিস্তানের ভারতবিরোধী মানসিকতা বদলায়নি। পাহেলগাম চার্জশিট আদতে সেই অপরাধেরই দস্তাবেজ, যা গত আড়াই দশক ধরে চলে আসছে।

রিপোর্টে আরো জানানো হয়, অ-রাষ্ট্রীয় শক্তিকে ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার কৌশল পাকিস্তান আজও ত্যাগ করেনি। এখন সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের ধরণ বদলেছে; ডিজিটাল ওয়ালেট এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো এনক্রিপ্টেড মাধ্যমের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে, যা বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ। পাকিস্তানে নিষিদ্ধ সংগঠনগুলো নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠছে। জৈশ-ই-মোহাম্মদ তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া বাড়িয়ে ‘জামায়াত-উল-মুমিনাত’ নামে একটি পৃথক নারী শাখা খুলেছে। অন্যদিকে, লস্কর-ই-তৈবা তাদের প্রশিক্ষণ মডিউল উন্নত করে সমুদ্রপথে হামলার জন্য ‘ওয়াটার উইং’ গঠন করেছে। ভারত-বিদ্বেষী প্রচার ও প্রশিক্ষণ ক্যাম্পগুলো সেখানে প্রকাশ্যে চলছে।

২০২৬ সালের গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্স অনুযায়ী, পাকিস্তান আজও বিশ্ব সন্ত্রাসবাদের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। ২০২৬ সালের ২৫শে মার্চ প্রকাশিত মার্কিন কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস রিপোর্টে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, পাকিস্তান দীর্ঘস্থায়ী অসংখ্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পাকিস্তান থেকে রপ্তানি হওয়া সন্ত্রাসবাদ আজ বিশ্বজুড়ে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ৬ই মার্চ, ৪৭ বছর বয়সী আসিফ মার্চেন্ট মার্কিন রাজনৈতিক নেতাদের হত্যার ষড়যন্ত্রে দোষী সাব্যস্ত হন। নিউইয়র্কের একটি ইহুদি কেন্দ্রে আইএসআইএস অনুপ্রাণিত হামলার চেষ্টার কথা স্বীকার করেছেন ২১ বছর বয়সী পাকিস্তানি নাগরিক মুহাম্মদ শাহজেব খান।
২০২৫ সালের আগস্টে দক্ষিণ কোরিয়ায় লস্কর-ই-তৈবার সাথে জড়িত এক পাকিস্তানি নাগরিককে অবৈধ প্রবেশের দায়ে গ্রেপ্তার করা হয়।
এটা বলার অপেক্ষা রাখে না, পাকিস্তান আজ সন্ত্রাসবাদের কারখানায় পরিণত হয়ে আছে। এটি কেবল দক্ষিণ এশিয়ার জন্য নয়, বরং সমগ্র মানবসভ্যতা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শান্তির জন্য এক বড় অন্তরায়। এই অমানবিক নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে বিশ্ববিবেকের সোচ্চার হওয়া এখন সময়ের দাবি। নিরস্ত্র পর্যটকদের ওপর হামলা কোনোভাবেই স্বাধীনতার লড়াই হতে পারে না। এ ধরনের হামলা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে হামলাকারীদের জাতি, ধর্ম, গোষ্ঠী- সবকিছুকেই কলঙ্কিত করে।
পাহেলগাম আক্রমণ শুধু একটি সন্ত্রাসী ঘটনা নয়, বরং এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে সন্ত্রাসবাদ এখনো বিশ্বশান্তির জন্য একটি বড় হুমকি। এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।

সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া, দ্য ওয়াল, হিন্দুস্থান টাইমস ।

মুক্তচিন্তা থেকে আরো পড়ুন


 শিরোনাম
news icon নগর ভবনের সামনে হকারদের অবস্থান ধর্মঘট news icon হবিগঞ্জে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, নিহত বাবা ও ছেলে news icon টেকসই আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগকালে মানুষের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হবে: প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী news icon টোকেনে শেষ সারাদিনের উপার্জন news icon গোয়াইনঘাটে গভীর রাতে ঘরে দুর্বৃত্তদের হানা, ছুরিকাঘাতে বৃদ্ধার মৃত্যু news icon বিছানাকান্দিতে পানিতে ডুবে নিখোঁজ শাবি শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার news icon চামড়া শিল্পকে বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয়কারী খাত হিসেবে গড়ে তোলা হবে news icon ভারতীয় গরুর রমরমা বাণিজ্য সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী পশুর হাটে  news icon খামারি থেকে ট্যানারি পর্যন্ত অনিশ্চয়তা news icon সুরমা ডাইকের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ভাঙনের মুখে