সিলেট

বাকি ধান নিয়ে উদ্বেগ

সুনামগঞ্জে বৃষ্টিতে হাওরে ফের বাড়ছে পানি

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬ ১৬:৩০

টানা বৃষ্টিতে আবারও বাড়তে শুরু করেছে সুনামগঞ্জের নদ-নদী ও হাওরের পানি। এতে নতুন করে বিপাকে পড়েছেন হাওরের কৃষকরা। অবশিষ্ট বোরো ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানো নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে তাদের মধ্যে।


আবহাওয়া অধিদফতর ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পূর্বাভাস বলছে, আগামী কয়েক দিনও ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জিতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় পাহাড়ি ঢল নেমে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।


পাউবো সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল ৯টা থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১১৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার জেলায় ১০৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। সবমিলিয়ে গত তিন দিনে জেলায় ২৪২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।


এ সময়ে সুরমা নদীর পানি বেড়েছে ১৩ সেন্টিমিটার। শুক্রবার সকাল ৯টায় নদীর পানি বিপদসীমার ১ দশমিক ৭২ মিটার নিচে ছিল। বর্ষার আগে সুরমা নদীর বিপদসীমা ৬ দশমিক ৫ মিটার।


সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, সুনামগঞ্জ ও উজানে চেরাপুঞ্জিতে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে। এতে নদী ও হাওরের পানি বাড়বে। কৃষকের ফসলের ক্ষতি হতে পারে। তবে আপাতত বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা নেই।


হাওরের কৃষকেরা জানান, বৈশাখের শুরু থেকেই বৃষ্টির কারণে ধান ঘরে তুলতে ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা। মাঝেমধ্যে এক–দুই দিন রোদ মিললেও আবার বৃষ্টি শুরু হওয়ায় ধান শুকানো যাচ্ছে না। অনেক এলাকায় কাটা ধান ক্ষেতেই পড়ে আছে।


জামালগঞ্জ উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম (৫২) বলেন, গত বুধবার পর্যন্ত টানা চার দিন দিনে রোদ ছিল। এতে কৃষকরা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিলেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার থেকে আবার দিন–রাত বৃষ্টি শুরু হয়েছে।


জেলার হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, দুর্যোগ যেন এ বছর কৃষকদের পিছু ছাড়ছে না। এক দিন আবহাওয়া ভালো থাকলে পরের দুই দিনই বৃষ্টি হচ্ছে। অন্তত এক সপ্তাহ টানা রোদ থাকলে কৃষকেরা অবশিষ্ট ধান তুলতে পারতেন। কিন্তু আবহাওয়ার যে পরিস্থিতি, তাতে সেটি সম্ভব হবে বলে মনে হচ্ছে না।


কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জের ১৩৭টি ছোট–বড় হাওরে এবার বোরো আবাদ হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল প্রায় ১৪ লাখ টন ধান।
এ পর্যন্ত জেলায় গড়ে ৮৭ দশমিক ৪০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। মোট কাটা হয়েছে এক লাখ ৯৪ হাজার ৭৬৮ হেক্টর জমির ধান। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে কাটা হয়েছে এক লাখ ৪৮ হাজার ২৩১ হেক্টর। সেই হিসাবে এখনও প্রায় ১৩ শতাংশ ধান কাটার বাকি রয়েছে।


কৃষি বিভাগের ১০ দিন আগের হিসাব অনুযায়ী, অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে সুনামগঞ্জে ২০ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকার বেশি। তবে এরপর ক্ষয়ক্ষতির হিসাব আর হালনাগাদ করা হয়নি। স্থানীয় কৃষক ও কৃষিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি।


জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, এখনও চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নির্ধারণ করা হয়নি। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।


সুনামগঞ্জে চলতি মৌসুমে মার্চের মাঝামাঝি থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়। এতে অনেক হাওরে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে ধানের ক্ষতি হয়। পরে ২৬ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া অতিভারী বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে জেলার প্রায় সব হাওরেই বোরো ধান তলিয়ে যায়।


 
 

সিলেট থেকে আরো পড়ুন


 শিরোনাম
news icon নগর ভবনের সামনে হকারদের অবস্থান ধর্মঘট news icon হবিগঞ্জে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, নিহত বাবা ও ছেলে news icon টেকসই আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগকালে মানুষের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হবে: প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী news icon টোকেনে শেষ সারাদিনের উপার্জন news icon গোয়াইনঘাটে গভীর রাতে ঘরে দুর্বৃত্তদের হানা, ছুরিকাঘাতে বৃদ্ধার মৃত্যু news icon বিছানাকান্দিতে পানিতে ডুবে নিখোঁজ শাবি শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার news icon চামড়া শিল্পকে বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয়কারী খাত হিসেবে গড়ে তোলা হবে news icon ভারতীয় গরুর রমরমা বাণিজ্য সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী পশুর হাটে  news icon খামারি থেকে ট্যানারি পর্যন্ত অনিশ্চয়তা news icon সুরমা ডাইকের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ভাঙনের মুখে