সিলেট

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৯ শ্রমিক পরিবারের পাশে এসনিক

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬ ১৭:৩১

দক্ষিণ সুরমার তেলিবাজারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নয় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে এসিড সন্ত্রাস নির্মূল কমিটি (এসনিক)।  ভোরের সড়কে প্রাণ হারানো শ্রমিকদের পরিবারগুলো যখন দিশেহারা, তখন এই সংগঠনের সহযোগিতা তাদের মুখে ফুটিয়েছে একটুখানি আশার আলো।  মানবিক এই উদ্যোগে ভরসা খুঁজে পেল স্বজনরা।

গত ৩ মে আম্বরখানা থেকে লালাবাজারে কাজে যাওয়ার পথে নির্মাণ শ্রমিকদের বহনকারী একটি পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষে নয়জন শ্রমিক প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে ছিলেন দুই নারী শ্রমিক এবং একই পরিবারের দুই ভাই। জীবিকার একমাত্র ভরসা হারিয়ে অনেক পরিবার এখন অনিশ্চয়তার অন্ধকারে।

শনিবার দুপুরে নগরীর জেলরোডে একটি রেস্তোরাঁয় নিহত পরিবারের সদস্যদের হাতে আর্থিক সহযোগিতা তুলে দেয় এসনিক। সাংবাদিক ফয়সল আহমদ বাবলুর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক জুরেজ আব্দুল্লা গুলজার। সাংবাদিক তাইনুল ইসলামের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর মাহবুব।  

এসময় স্বজন হারানো ৯ পরিবারের লোকজন কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তাদের কান্নায় অনুষ্টানে আগত অনেকেই চোখে জল ধরে রাখতে পারেন নি। নিহত নার্গিসের ১২ বছরের মেয়ে মোহিনী কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। সে তার মাকে ফেরত চায়। তার এই বক্তব্যে উপস্থিত সকলের মনে দাগ কাটে।  বাবা-মা হীন নিহত মনি বেগমের তিন সন্তানকে নিয়ে এসেছিলেন বৃদ্ধা নানী। তিনি বললেন যে যাওয়ার চলে গেছে; এখন যারা বেঁচে আছেন তাদের প্রতি সহানুভূতির আহবান জানান। একইভাবে সেদিন মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসা হাফিজা বেগম বক্তব্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। ওই ঘটনায় তার স্বামী প্রান হারান। হাফিজা বলেন, আমি মৃত্যুকে দেখলাম খুব কাছ থেকে। ওই দিন আমার স্বামী বদরুল আমিন তার পাশেই বসা ছিলেন। গাড়ি যখন উল্টে যায় তখন তার স্বামী তাকে ধাক্কা দেন। তখন মিক্সার মেশিন  অনেকের উপর গড়িয়ে পড়ে। আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। সেদিন কোন রকম বেঁচে গেছি এখন চার সন্তান নিয়ে অন্ধকার দেখছি। আগে দুজন মিলে পরিবার সামলেছি এখন এই সন্তানদের সবই আমার উপর। এছাড়াও অপরাপর ৬ নিহত পরিবারের সদস্যরা সহযোগিতার আহবান জানান।

সাধারণ সম্পাদক জুরেজ আব্দুল্লাহ গুলজার বলেন, কোনো কিছুর বিনিময়ে একটি প্রাণ ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তবে যারা স্বজন হারিয়েছেন, তাদের পাশে আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। সমাজের সামর্থ্যবানদের প্রতি আহ্বান জানাই, অসহায় এই পরিবারের পাশে দাঁড়ান।

সভাপতি ফয়সল আহমদ বাবলু বলেন, শ্রমিকরা আমাদের দেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি। তাদের ঘাম ও শ্রমে দাঁড়িয়ে আছে দেশের অবকাঠামো। অথচ মৃত্যুর পর তারা হয়ে ওঠেন অদৃশ্য। নিহত পরিবারের পাশে সরকারের সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা জরুরি। এসনিকের সদস্যরা তাদের পাশে থেকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ঘোষনা দেন।  

নিহত পরিবারের সদস্যরা এসনিকের সহযোগিতায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তাদের চোখে অশ্রু থাকলেও এই সহায়তা এনে দিয়েছে একটুখানি স্বস্তি।
 

সিলেট থেকে আরো পড়ুন


 শিরোনাম
news icon নগর ভবনের সামনে হকারদের অবস্থান ধর্মঘট news icon হবিগঞ্জে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, নিহত বাবা ও ছেলে news icon টেকসই আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগকালে মানুষের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হবে: প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী news icon টোকেনে শেষ সারাদিনের উপার্জন news icon গোয়াইনঘাটে গভীর রাতে ঘরে দুর্বৃত্তদের হানা, ছুরিকাঘাতে বৃদ্ধার মৃত্যু news icon বিছানাকান্দিতে পানিতে ডুবে নিখোঁজ শাবি শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার news icon চামড়া শিল্পকে বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয়কারী খাত হিসেবে গড়ে তোলা হবে news icon ভারতীয় গরুর রমরমা বাণিজ্য সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী পশুর হাটে  news icon খামারি থেকে ট্যানারি পর্যন্ত অনিশ্চয়তা news icon সুরমা ডাইকের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ভাঙনের মুখে