ফাইল ফটো
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, টমটম ও ইজিবাইকে ভাড়া নৈরাজ্যে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ নিত্যদিনের ঘটনায় রূপ নিয়েছে।
ভাড়ার তালিকা না থাকা এবং ভাড়া নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারির অভাবে এই ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
স্থানীয় যাত্রীদের অভিযোগ, পূর্বে যে দূরত্বের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ ভাড়া নেওয়া হতো, বর্তমানে একই পথে অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করছেন অনেক চালক। বিশেষ করে সকাল-বিকালের ব্যস্ত সময়, বৃষ্টির দিন কিংবা বাজারের দিনে যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গত কয়েক দিন যাবত চালকেরা যাত্রীদের নিকট থেকে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছে। অনেক ক্ষেত্রে ভাড়া নিয়ে যাত্রী ও চালকদের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের ঘটনাও ঘটছে।
জগন্নাথপুর পৌর শহর থেকে বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কে চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত যানবাহন বর্তমানে সাধারণ মানুষের অন্যতম প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও রোগীরা প্রতিদিন এসব যানবাহনে চলাচল করলেও অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়ছেন যাত্রীরা ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন যাত্রী জানান, “ভাড়ার কোনো নির্দিষ্ট তালিকা না থাকায় চালকেরা নিজেদের ইচ্ছামতো ভাড়া নিচ্ছেন। অনেক সময় প্রতিবাদ করলেও লাভ হয় না, কারণ বিকল্প যানবাহন কম।”
তবে চালকদের দাবি, বিদ্যুৎ ও ব্যাটারির দাম বৃদ্ধি, যানবাহনের রক্ষণাবেক্ষণ খরচ এবং দৈনন্দিন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তারা বেশি ভাড়া নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, উপজেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে রুটভিত্তিক ভাড়া নির্ধারণ করে তা প্রকাশ করা জরুরি। পাশাপাশি নিয়মিত তদারকি করা হলে যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে এবং চালক-যাত্রীদের মধ্যে বিরোধও হ্রাস পাবে।
জগন্নাথপুর পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, পৌরসভা এখনও ভাড়া বৃদ্ধি করে নাই। তবে চালকদের পক্ষ থেকে ভাড়া বৃদ্ধি দাবী জানিয়ে পৌর প্রশাসক বরাবর আবেদন করেছে।
জগন্নাথপুর পৌর সভার প্রসাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইসলাম উদ্দিন জানান, ভাড়া বৃদ্ধি বিষয়ে কোন সিন্ধান্ত গ্রহন করা হয়নাই। চালক, মালিক, যাত্রীসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধির সাথে আলোচনা করে ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হবে।
জগন্নাথপুরবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের ভাড়া নির্ধারন করা হবে।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন