লাইফস্টাইল

নখ সুন্দর হোক প্রাকৃতিকভাবে

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬ ১৬:৪৪

নানান রং, নকশা, ঝকঝকে আবরণ কিংবা দীর্ঘস্থায়ী প্রলেপ দেওয়া নখের ফ্যাশন চলছে এখনও। তবে এর পাশাপাশি একেবারেই খালি, স্বাভাবিক নখ রাখার ভিন্ন এক প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে।

বর্তমানে অনেকেই নখে অতিরিক্ত রং বা সাজসজ্জা না করে স্বাভাবিক সৌন্দর্যকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন। পরিচ্ছন্ন, মসৃণ ও সুস্থ নখ এখন ফ্যাশনের অংশ হয়ে উঠছে। সৌন্দর্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম সাজের চেয়ে স্বাভাবিক সৌন্দর্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে, আর তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে নখের যত্নেও।


রূপবিশারদদের ভাষ্য, সুন্দর নখ মানেই সবসময় রঙিন নখ নয়। বরং সুস্থ, পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি নখ ব্যক্তিত্বকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। তাই এখন অনেকেই নখের স্বাস্থ্য রক্ষাকে প্রাধান্য দিচ্ছেন।

কেন বাড়ছে প্রাকৃতিক নখের জনপ্রিয়তা?

ব্যস্ত জীবনে নিয়মিত নেইল আর্ট, রং পরিবর্তন কিংবা বিভিন্ন ধরনের প্রলেপ ব্যবহারের জন্য সময় বের করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না। ফলে সহজ ও স্বাভাবিক সৌন্দর্যের দিকে ঝুঁকছেন অনেকে। এছাড়া সুস্থ ও পরিচ্ছন্ন নখ নিজেই এক ধরনের সৌন্দর্য বহন করে, যার জন্য বাড়তি সাজসজ্জার প্রয়োজন পড়ে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ‘ন্যাচারাল নেইল’ বা প্রাকৃতিক নখের সৌন্দর্য নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। ফলে তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও এই ধারা জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

সৌন্দর্যের পাশাপাশি স্বাস্থ্যও গুরুত্বপূর্ণ

নখে দীর্ঘদিন বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক প্রলেপ ব্যবহার করলে তা নখের স্বাভাবিক গঠনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ঘন ঘন নেইলপলিশ লাগানো ও রিমুভার ব্যবহারের কারণে নখ শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে নখ পাতলা, ভঙ্গুর কিংবা খসখসে হয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নখকে দীর্ঘসময় ঢেকে না রেখে মাঝে মাঝে স্বাভাবিক অবস্থায় রাখলে তা শ্বাস নেওয়ার সুযোগ পায় এবং নিজের স্বাভাবিক শক্তি ফিরে পায়। এতে নখের স্বাস্থ্য দীর্ঘমেয়াদে ভালো থাকে।

দীর্ঘদিন নেইল কোটিং ব্যবহারের পর কী করবেন?

জেল বা স্থায়ী প্রলেপ দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর তা সরানোর ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। অনেকেই হাত দিয়ে খুঁটে বা জোর করে প্রলেপ তুলে ফেলেন, যা নখের উপরিভাগের ক্ষতি করতে পারে।

প্রলেপ তোলার পর নখের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ছেঁটে ফেলা ভালো। এতে ক্ষয় আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা কমে এবং নতুন নখ সুস্থভাবে গজাতে পারে। পাশাপাশি কয়েক সপ্তাহ নখকে বিশ্রাম দিলে তা দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

শুধু খালি নখ রাখলেই হবে না

অনেকে মনে করেন, প্রাকৃতিক নখ মানেই কোনো ধরনের যত্নের প্রয়োজন নেই। বাস্তবে বিষয়টি উল্টো। সুস্থ নখের জন্য নিয়মিত পরিচর্যা জরুরি।

নখকে মজবুত রাখতে স্বচ্ছ সুরক্ষামূলক কোট বা পুষ্টিকর উপাদান ব্যবহার করা যেতে পারে। এগুলো নখকে ভেঙে যাওয়া থেকে রক্ষা করে এবং বাহ্যিক ক্ষতির ঝুঁকি কমায়। ফলে নখের স্বাভাবিক সৌন্দর্যও বজায় থাকে।

নখের গোড়ার ত্বকের যত্ন নিন

সুন্দর নখের অন্যতম শর্ত হলো নখের গোড়ার ত্বক বা কিউটিকলের সঠিক পরিচর্যা। অনেকেই নখের দিকে যত্ন নিলেও এই অংশটি অবহেলা করেন। অথচ শুষ্ক ও ফাটা কিউটিকল পুরো হাতের সৌন্দর্য নষ্ট করে দিতে পারে।

প্রতিদিন তেল বা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে নখের গোড়ার ত্বক কোমল থাকে। পাশাপাশি নখও নমনীয় ও শক্তিশালী হয়। নারকেল তেল, অলিভ অয়েল বা ভিটামিন-ই সমৃদ্ধ তেল ব্যবহার করা যেতে পারে।

সঠিক আকৃতি নখকে করে আরও আকর্ষণীয়

নখের দৈর্ঘ্য ও আকৃতি সমান না হলে তা দেখতে অগোছালো লাগে। তাই নিয়মিত নখ কেটে সমান রাখা এবং প্রয়োজনমতো ফাইল করে আকৃতি ঠিক করা উচিত।

নখ খুব বেশি বড় না রেখে স্বাভাবিক দৈর্ঘ্যে রাখলে তা যেমন পরিচ্ছন্ন দেখায়, তেমনি ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকিও কম থাকে।

ঘরের কাজের সময় বাড়তি সতর্কতা

বাসন ধোয়া, কাপড় পরিষ্কার করা কিংবা বিভিন্ন পরিষ্কারক রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে নখ দুর্বল হয়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত পানি ও ডিটারজেন্টের সংস্পর্শে নখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা নষ্ট হয়।

তাই ঘরের কাজের সময় গ্লাভস ব্যবহার করা ভালো। এতে নখ ও হাত দুটোই সুরক্ষিত থাকে এবং দীর্ঘদিন সুস্থ ও সুন্দর থাকে।

খাদ্যাভ্যাসেও নজর দিন

শুধু বাহ্যিক পরিচর্যা নয়, নখের সুস্থতার জন্য প্রয়োজন সুষম খাদ্যাভ্যাসও। প্রোটিন, আয়রন, জিঙ্ক, বায়োটিন ও ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার নখকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করে। পর্যাপ্ত পানি পান করাও নখের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।

ফল, শাকসবজি, ডিম, মাছ, বাদাম ও দুধজাতীয় খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে নখের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ও স্বাস্থ্য বজায় থাকে।

বর্তমান সৌন্দর্যচর্চার অন্যতম বার্তা হলো , প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই সবচেয়ে টেকসই সৌন্দর্য। তাই কৃত্রিম সাজের আড়ালে নখকে লুকিয়ে না রেখে তার স্বাভাবিক স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতাকে গুরুত্ব দেওয়াই হতে পারে সুন্দর নখের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

লাইফস্টাইল থেকে আরো পড়ুন