আসামি ফাহিম ও সামাদ (ছবি: সংগৃহীত)
সিলেটের দক্ষিণ সুরমার সিলামে রাসেল আহমদ শাহ হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে সুনামগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী (এসআরবি)। বৃহস্পতিবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ইয়াসিন আহমদ ফাহিম (৩৩) ও আব্দুস সামাদ (৩০)। মামলায় তাঁদের যথাক্রমে ৩ ও ৪ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফাহিম দক্ষিণ সুরমা উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল মুকিতের ছেলে। অন্যদিকে সামাদ উপজেলা ছাত্রদলের সহকারী যুগ্ম সম্পাদক আছির মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২ অক্টোবর শুক্রবার জুমার নামাজের পর দুপুরে দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজার থানাধীন সিলাম চক বাজার এলাকায় শাহ হুমায়ুনের দোকানের সামনে রাসেল আহমদ শাহকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পূর্ববিরোধ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাসেল বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করছিলেন।
এ ঘটনায় নিহতের মা মোছা. রাজনা বেগম বাদী হয়ে ৪ অক্টোবর মোগলাবাজার থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ২২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার তদন্তভার পেয়েছেন মোগলাবাজার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাজীব পাল। তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে আসামিরা আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সুনামগঞ্জ থেকে এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনার পর পুলিশ বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ১২ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেন, স্থানীয় একটি মাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখির জের ধরে রাসেলকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের অনুসারীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও তোলেন তাঁরা। তবে সংসদ সদস্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তার দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদসহ মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলছে। অন্য আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন