প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ১৫:৫১
ছবি: সংগৃহীত
সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ডেগে পাওয়া অর্থের ৩৫ শতাংশ উন্নয়নকাজে এবং বাকি ৬৫ শতাংশ দৈনন্দিন ব্যয় ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতায় ব্যয়ের সিদ্ধান্ত আপাতত কার্যকর হচ্ছে না। আপাতত দানের সব অর্থ ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে বলে জানিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।
শনিবার সকালে মাজারের দানবাক্স ও ডেগে ভক্তদের দেওয়া অর্থ পঞ্চমবারের মতো প্রকাশ্যে গণনা শুরু হয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জেলা প্রশাসক, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এ কার্যক্রম শুরু হয়।
এ সময় সাংবাদিকদের জেলা প্রশাসক বলেন, গণনা শেষে দানের অর্থ আগের মতোই ব্যাংক হিসাবে রাখা হবে। সেখান থেকে বিদ্যুৎ বিলসহ বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল পরিশোধ এবং আনসার সদস্যদের বেতন দেওয়া হবে। মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সুশৃঙ্খল করতে একজন ব্যবস্থাপক, একজন হিসাবরক্ষক ও একজন কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হবে।
তিনি জানান, নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আরও প্রায় এক মাস সময় লাগতে পারে। নিয়োগের পর প্রতিদিন দানের অর্থ গণনা করা হবে। এর আগে বর্তমান ব্যবস্থাপনায় আরও একবার অর্থ গণনা হতে পারে।
দানের অর্থ বণ্টন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, মাজার পরিচালনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়। সার্বিক ব্যয় ও প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে উচ্চপর্যায়ের কমিটি সবার সঙ্গে আলোচনা করেই অর্থ বণ্টনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়, মাজারের দানের অর্থের ৩৫ শতাংশ উন্নয়নকাজের জন্য সোনালী ব্যাংকের একটি হিসাবে জমা রাখা হবে। বাকি ৬৫ শতাংশ ব্যয় করা হবে মাজারের দৈনন্দিন কার্যক্রম ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতায়। উন্নয়ন তহবিলের হিসাবটি জেলা প্রশাসক ও মাজারের মোতোয়াল্লির যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হওয়ার কথা রয়েছে।
মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে সাত সদস্যের একটি পরিচালনা কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক এ কমিটির আহ্বায়ক এবং মাজারের মোতোয়াল্লি সদস্যসচিব থাকবেন। কমিটিতে সিলেট সিটি করপোরেশন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিলেট মহানগর পুলিশ, সিলেট জেলা পরিষদ ও পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি থাকবেন।
মাজারের দানবাক্সের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্কের পর গত ২৩ জুন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরকে প্রধান করে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এর আগে ১৮ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের উদ্যোগে মাজারের পুরোনো দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে দানের নগদ অর্থ ও অন্যান্য সামগ্রী রাখার ঐতিহাসিক তিনটি ডেগও সিলগালা করা হয়। এ নিয়ে সিলেটে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
পরে ২১ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। পরদিন তাঁর উপস্থিতিতে দানবাক্সের তালা খুলে জনসমক্ষে অর্থ গণনা করা হয়। এরপর থেকে চার দফায় মাজারের দানের অর্থ গণনা করা হয়েছে।
প্রথম দফায় গত ২২ জুন পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে দেওয়া পাঁচ লাখ টাকার চেক যুক্ত হলে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। দ্বিতীয় দফায় ১১ জুলাই পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। তৃতীয় দফায় ১৫ আগস্ট পাওয়া যায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা।
সর্বশেষ গত ১৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থ দফার গণনায় দানবাক্স ও ডেগ থেকে পাওয়া যায় ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা। ওই দফায় নগদ অর্থের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও রুপাও পাওয়া যায়। চার দফার গণনা শেষে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ কোটি ২৯ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪০ টাকা।
শনিবার পঞ্চম দফায় আবারও মাজারের দানবাক্স ও ডেগে পাওয়া অর্থ গণনা শুরু হয়েছে।
সি/মা/ডেস্ক/এসসিজে
সিলেট থেকে আরো পড়ুন