আল-জাজিরার বিশ্লেষণ
প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬ ১৬:৫৬
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, যেকোনও ধরনের চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার বলেছেন, ইরানকে কোনওভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া যাবে না। এই লক্ষ্যকেই তিনি ইরানের ওপর সামরিক চাপ বৃদ্ধির একটি প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
অন্যদিকে ইরান দাবি করছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। দেশটির বক্তব্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ উৎপাদন, চিকিৎসা ও শিল্পখাতে ব্যবহারের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রয়োজন।
পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সাধারণত ৩ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ যথেষ্ট। কিন্তু পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধকরণ প্রয়োজন হয়।
জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইএইএ জানিয়েছে, ইরানের কাছে বর্তমানে প্রায় ৪৪০ কেজি (প্রায় ৯৭০ পাউন্ড) ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মাত্রার ইউরেনিয়াম আরও পরিশোধিত করলে তাত্ত্বিকভাবে ১০ থেকে ১১টি প্রাথমিক মানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব হতে পারে।
ইরানের আইনি যুক্তি
ইরান বলছে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না এবং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) আওতায় সব স্বাক্ষরকারী দেশের মতোই শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার তাদের রয়েছে।
তাদের দাবি, বিদ্যুৎ উৎপাদন ছাড়াও কৃষি, শিল্প ও চিকিৎসা গবেষণায় এই প্রযুক্তির ব্যবহার বৈধ ও প্রয়োজনীয়।
২০১৫ সালের ঐতিহাসিক চুক্তি
২০১৫ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রশাসনের সময় ইরান ও ছয় বিশ্বশক্তির মধ্যে একটি ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি হয়। এই চুক্তির অধীনে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখতে সম্মত হয়েছিল, বিনিময়ে দেশটির ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়।
তবে ২০১৮ সালে নিজের প্রথম মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওই চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ান। তিনি এটিকে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন, এতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি উপেক্ষিত ছিল।
বর্তমানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যু সমাধান না হলে মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা আরও গভীর হতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা
বিশ্লেষণ থেকে আরো পড়ুন