বিশ্লেষণ

ভারতের অসম বাধ্যবাধকতা, অসম ছাড় এবং পাকিস্তানের কৌশলগত ব্যবহার

ভারত-পাকিস্তান সিন্ধু পানি চুক্তি:

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬ ২২:১৪

১. পটভূমি: একটি নদী ব্যবস্থার বিভাজন:
সিন্ধু নদী ব্যবস্থা ছয়টি প্রধান নদী নিয়ে গঠিত- সিন্ধু, চেনাব, ঝেলাম, রাভি, বিয়াস এবং শতদ্রু। এই নদীগুলো ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এই নদী ব্যবস্থা সিন্ধু অববাহিকাজুড়ে পানীয় জল, কৃষি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করে এবং দুই দেশের কোটি কোটি মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারতের বিভাজনের সময় সিন্ধু নদী ব্যবস্থাও দুই রাষ্ট্রের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়। ভৌগোলিক বাস্তবতা ছিল স্পষ্ট- উজান রাষ্ট্র হিসেবে ভারত অধিকাংশ নদীর উৎস নিয়ন্ত্রণে রাখে, অন্যদিকে পাকিস্তানের কৃষিনির্ভর পাঞ্জাব অঞ্চল পূর্বদিক থেকে প্রবাহিত পানির ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
ভারত নিজস্ব উন্নয়ন চাহিদা পূরণের জন্য পাঞ্জাব ও রাজস্থানে এই নদী ব্যবস্থার ব্যবহার নিশ্চিত করতে চেয়েছিল এবং একই সঙ্গে নতুন প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে স্থিতিশীল ও স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছিল। নিজ দেশের জরুরি প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও ভারত ১৯৬০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের সঙ্গে এই পানি বণ্টন চুক্তি সম্পাদন করে, যা বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় সম্পন্ন হয়েছিল।

২. আলোচনা: যুক্তিবাদিতার জন্য ভারতের মূল্য প্রদান
২.১ পাকিস্তানের বিলম্ব কৌশল এবং ১৯৫৪ সালের বিশ্বব্যাংক প্রস্তাব
আলোচনার শুরু থেকেই ভারতের যুক্তিসঙ্গত ও গঠনমূলক অবস্থান এবং পাকিস্তানের সর্বোচ্চ দাবি-ভিত্তিক, কখনো কখনো অযৌক্তিক অবস্থানের মধ্যে একটি স্পষ্ট বৈষম্য ছিল। এই বৈষম্যের কারণে আলোচনার ফলাফল ন্যায়সংগত হওয়ার পরিবর্তে পাকিস্তানের পক্ষে বেশি অনুকূল হয়ে ওঠে।
১৯৫৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাংকের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব এই বাস্তবতা স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। প্রাথমিক পর্যায়েই এতে ভারতের ওপর একতরফাভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছাড় আরোপ করা হয়:
(ক) সিন্ধু ও চেনাব নদীর উজান অংশে ভারতের পরিকল্পিত সকল উন্নয়ন কার্যক্রম পরিত্যাগ করতে হবে এবং এর সুবিধা পাকিস্তান পাবে।
(খ) চেনাব নদী থেকে প্রায় ৬ মিলিয়ন একর-ফুট (এমএএফ) পানি সরিয়ে নেওয়ার অধিকার ভারতকে ত্যাগ করতে হবে
(গ) মেরালা (বর্তমানে পাকিস্তানে) এলাকায় চেনাব নদীর পানি ভারতের ব্যবহারের জন্য উপলব্ধ থাকবে না।
(ঘ) কচ্ছ অঞ্চলে এই নদী ব্যবস্থা থেকে কোনো পানি উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না।
এইসব কঠোর শর্ত সত্ত্বেও ভারত সদিচ্ছা থেকে দ্রুত প্রস্তাবটি গ্রহণ করে, যা দ্রুত সমাধানের প্রতি তার আন্তরিকতা প্রকাশ করে। বিপরীতে, পাকিস্তান প্রায় পাঁচ বছর পর, ২২ ডিসেম্বর ১৯৫৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাবটি গ্রহণ করে।
ভারতের এই সদিচ্ছার ফলে তার ওপর বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা আরোপিত হয়, অথচ পাকিস্তান পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলোতে সমপর্যায়ের কোনো বাধা ছাড়াই নতুন নতুন উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়ে যেতে থাকে। পাকিস্তান এ থেকে এই শিক্ষা গ্রহণ করে যে, বাধা সৃষ্টি করলে লাভ হয় এবং সহযোগিতা করলে ক্ষতি হয় এবং পরবর্তীকালে তারা ধারাবাহিকভাবে এই কৌশল অনুসরণ করে।

৩. ভারতের ক্ষতি: ত্যাগের পরিমাণ
৩.১ পানি বণ্টন
চুক্তির পানি বণ্টন সূত্র অনুযায়ী, ভারত তিনটি পূর্বাঞ্চলীয় নদী- শতদ্রু, বিয়াস ও রাভির ওপর একচেটিয়া অধিকার পায়। অন্যদিকে পাকিস্তান পায় তিনটি পশ্চিমাঞ্চলীয় নদী- সিন্ধু, চেনাব ও ঝেলামের পানি ব্যবহারের অধিকার।
ভারত তার নিজস্ব ভূখণ্ডে পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলোর সীমিত, অ-ভোগ্য (non-consumptive) ব্যবহার করতে পারে, বিশেষত ‘রান-অফ-দ্য-রিভার’ ধরনের জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে। তবে এর ওপর কঠোর নকশা ও পরিচালনাগত বিধিনিষেধ আরোপিত রয়েছে।
পরিমাণগতভাবে, পূর্বাঞ্চলীয় নদীগুলোর বার্ষিক প্রবাহ প্রায় ৩৩ মিলিয়ন একর-ফুট (এমএএফ), যেখানে পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলোর প্রবাহ প্রায় ১৩৫ মিলিয়ন একর-ফুট (গঅঋ)। অর্থাৎ, পুরো নদী ব্যবস্থার প্রায় ৮০ শতাংশ পানি পাকিস্তান পেয়েছে, আর ভারত পেয়েছে মাত্র ২০ শতাংশ।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই চুক্তির মাধ্যমে ভারত কোনো নতুন পানি লাভ করেনি। বরং যে পানি সে আগে থেকেই ব্যবহার করত, তার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেয়েছে- এর বিনিময়ে তাকে বৃহত্তর পশ্চিমাঞ্চলীয় নদী ব্যবস্থার ওপর সব দাবি ত্যাগ করতে হয়েছে।
৩.২ আর্থিক ছাড়: পানি ছেড়ে দিয়েও অর্থ প্রদান
এই চুক্তির সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দিকগুলোর একটি হলো এর আর্থিক ব্যবস্থা। ভারত প্রায় ৬২ মিলিয়ন পাউন্ড (বর্তমান মূল্যে প্রায় ২.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) প্রদান করতে সম্মত হয়, যাতে পাকিস্তান পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে পানি অবকাঠামো নির্মাণ করতে পারে।
এটি একটি অনন্য নজির, যেখানে উজান রাষ্ট্র শুধু অধিকাংশ পানি ছেড়ে দেয়নি, বরং তা করার জন্য ভাটির রাষ্ট্রকে অর্থও প্রদান করেছে। অর্থাৎ, ভারত মূলত এমন একটি চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য পাকিস্তানকে অর্থায়ন করেছে, যা মৌলিকভাবে পানি বণ্টনের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের পক্ষেই বেশি অনুকূল ছিল।

৪. চুক্তির কাঠামোগত বৈষম্য
৪.১ ভারতের ওপর একতরফা সীমাবদ্ধতা
চুক্তিটি পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলোর ক্ষেত্রে ভারতের ওপর বেশ কিছু নির্দিষ্ট নকশা ও পরিচালনাগত সীমাবদ্ধতা আরোপ করে, যার সমতুল্য কোনো বাধ্যবাধকতা পাকিস্তানের ওপর নেই। যেমন:
(ক) ভারত তার ভূখণ্ডে সীমিত পরিসরে সেচযোগ্য ফসলি এলাকা (Irrigated Cropped Area - ICA)  উন্নয়ন করতে পারে।
(খ) পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলোতে পানি সংরক্ষণের পরিমাণের ওপর কঠোর সীমা নির্ধারিত।
(গ) জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নকশাগত শর্ত মানতে হয়, যেমন পানি ধারণ ক্ষমতা ও সংরক্ষণ সীমাবদ্ধতা
এই সীমাবদ্ধতাগুলো একমুখী- এগুলো ভারতের নিজস্ব ভূখণ্ডে বৈধ উন্নয়ন কার্যক্রমকে সীমিত করে, কিন্তু পাকিস্তানের ওপর কোনো সমপর্যায়ের স্বচ্ছতা বা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে না।
ফলে চুক্তিটি এমন একটি কাঠামো তৈরি করেছে, যেখানে উজান রাষ্ট্র ভারতকে নিয়ন্ত্রণ ও সীমাবদ্ধতার মধ্যে রাখা হয়েছে, আর ভাটির রাষ্ট্র পাকিস্তান নিশ্চিত পানির প্রবাহের সুবিধা ভোগ করছে।

৫. পাকিস্তানের দ্বারা চুক্তির কৌশলগত ব্যবহার

৫.১ ভারতের উন্নয়নকে পদ্ধতিগতভাবে বাধাগ্রস্ত করা
চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে পাকিস্তান ধারাবাহিকভাবে এর বিরোধ নিষ্পত্তির বিধানগুলোকে প্রকৃত সমাধানের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং উন্নয়ন বিলম্বিত ও কার্যত বাধাগ্রস্ত করার কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছে।
ভারত পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলোর ওপর যে প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প প্রস্তাব করেছে—যেগুলো চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বৈধ—সেগুলোর বিরুদ্ধেই পাকিস্তান আনুষ্ঠানিক আপত্তি, কারিগরি চ্যালেঞ্জ অথবা সালিশি প্রক্রিয়ায় প্রেরণের পথ অবলম্বন করেছে।
বাগলিহার, কিশেনগঙ্গা, পাকাল দুল এবং তুলবুল প্রকল্পসহ একাধিক প্রকল্প দীর্ঘ সময় ধরে পাকিস্তানের আপত্তির মুখে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পাকিস্তান নিজেই স্বীকার করেছে যে এসব প্রকল্প পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং বন্যা প্রশমনসহ কিছু সুবিধা দিতে পারে, তবুও তারা এগুলোর বিরোধিতা করেছে।
এই প্রবণতা স্পষ্টভাবে দেখায় যে পাকিস্তানের আপত্তির মূল কারণ চুক্তি লঙ্ঘন নয়; বরং জম্মু ও কাশ্মীরে ভারতের উন্নয়নকে যেকোনো মূল্যে ঠেকানো।
৫.২ ‘পানি যুদ্ধ’ বর্ণনা এবং তার ব্যবহার
পাকিস্তান একইসঙ্গে চুক্তি মেনে চলার ক্ষেত্রে ভারতের ধারাবাহিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি বর্ণনা তৈরি করেছে, যেখানে ভারতকে সম্ভাব্য “পানি আগ্রাসী” হিসেবে তুলে ধরা হয়।
পাকিস্তানের সরকারি প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ এবং কূটনৈতিক মহল বারবার দাবি করেছে যে ভারত পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে- যে চুক্তিকে ভারত অত্যন্ত সততার সঙ্গে পালন করে এসেছে, সেটিকেই ভিত্তি করে এই অভিযোগ তোলা হয়।
এই বর্ণনাটি আন্তর্জাতিক মহলে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে, বিশেষ করে যারা চুক্তির ইতিহাস সম্পর্কে অবগত নয়। পাকিস্তান এটি ব্যবহার করে কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি, আন্তর্জাতিক সহানুভূতি অর্জন এবং ভারতের বৈধ অধিকার প্রয়োগকে সীমিত করার চেষ্টা করেছে।
এই কৌশলের সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য হলো- চুক্তির ৬৫ বছরের ইতিহাসে ভারত একবারও চুক্তি লঙ্ঘন করেনি।
(ক) ১৯৬৫ সালের যুদ্ধ।
(খ) ১৯৭১ সালের যুদ্ধ।
(গ) ১৯৯৯ সালের কারগিল সংঘাত।
কোনো ক্ষেত্রেই নয়। এমনকি পাকিস্তান যখন তার ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারতের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র-সমর্থিত সন্ত্রাসবাদ চালিয়েছে, তখনও ভারত চুক্তি মেনে চলেছে।

৬. ভারতের জন্য এর পরিণতি
৬.১ অপূর্ণ উন্নয়ন সম্ভাবনা
চুক্তির সীমাবদ্ধতার কারণে সিন্ধু অববাহিকায় ভারতের উন্নয়ন দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজস্থান ও পাঞ্জাবের বিস্তীর্ণ এলাকা, যেগুলো সেচের আওতায় আনা সম্ভব ছিল, সেগুলো এখনও শুষ্ক রয়েছে অথবা ব্যয়বহুল বিকল্প পানির ওপর নির্ভরশীল।
গত ছয় দশকে হারিয়ে যাওয়া কৃষি উৎপাদনের পরিমাণ অর্থনৈতিকভাবে বিশাল ক্ষতির প্রতিনিধিত্ব করে।
৬.২ জম্মু ও কাশ্মীরের জলবিদ্যুৎ সম্ভাবনার সীমাবদ্ধতা
জম্মু ও কাশ্মীরের ওপর এর প্রভাব বিশেষভাবে গভীর। এই অঞ্চল পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলোর ওপর অবস্থিত এবং এখানে বিপুল, প্রায় অপ্রয়োগিত জলবিদ্যুৎ সম্ভাবনা রয়েছে।
কিন্তু চুক্তির নকশাগত সীমাবদ্ধতা, পাকিস্তানের ধারাবাহিক আপত্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ার ঝুঁকির কারণে এই সম্ভাবনা পূর্ণভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্রমশ এই ধারণা তৈরি হয়েছে যে, চুক্তিটি পারস্পরিক সুবিধার কাঠামো নয়; বরং এটি তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং তাদের নিজস্ব প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
৬.৩ জ্বালানি নিরাপত্তার প্রভাব
পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলোর জলবিদ্যুৎ সম্ভাবনা যথাযথভাবে ব্যবহার করতে না পারার ফলে ভারতের জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ছে।
পরিষ্কার, নবায়নযোগ্য এবং অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর শক্তির যে সম্ভাবনা ছিল, তা কেবল পাকিস্তানের কৌশলগত বাধার কারণে সীমিত হয়ে গেছে।

৭. ভারতের অবস্থান
এই চুক্তির উদ্দেশ্য ছিল “সিন্ধু নদী ব্যবস্থার পানির সর্বোচ্চ ও সন্তোষজনক ব্যবহার নিশ্চিত করা” এবং তা “সদিচ্ছা ও বন্ধুত্বের পরিবেশে” বাস্তবায়ন করা—যে পরিবেশ এখন আর বিদ্যমান নেই।
চুক্তির বৈধতা শুধু আইনের ওপর নির্ভর করে না; এটি নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আন্তরিক বাস্তবায়নের ওপরও।
পাকিস্তানের ধারাবাহিকভাবে রাষ্ট্র-সমর্থিত সন্ত্রাসবাদ ব্যবহারের অভিযোগ—যার মধ্যে রয়েছে:
(ক) ২০০১ সালের পার্লামেন্ট হামলা
(খ) ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলা
(গ) ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসের পাহালগাম হামলা
এই সব ঘটনাই চুক্তির ভিত্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
দ্বিপাক্ষিক চুক্তি একতরফাভাবে মানা যায় না। একটি রাষ্ট্র একদিকে আন্তর্জাতিক আচরণের মৌলিক নিয়ম ভঙ্গ করবে, আর অন্যদিকে তার পক্ষে সুবিধাজনক চুক্তি মেনে চলার দাবি করবে—এটি গ্রহণযোগ্য নয়।
চুক্তিটি এমন হতে পারে না যে, একদিকে ভারত সম্পূর্ণভাবে তা মেনে চলবে, আর অন্যদিকে পাকিস্তান বারবার অসৎ আচরণ করবে। ভারতের এই অবস্থান মূলত একটি দীর্ঘদিনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ—যা দেখায় যে আন্তর্জাতিক চুক্তি পারস্পরিক দায়িত্বের বিষয়।

৮. উপসংহার
সিন্ধু পানি চুক্তিকে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক কূটনীতির একটি বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু এই বিশ্লেষণ দেখায় যে, বাস্তবে এটি এমন একটি প্রক্রিয়ার ফল, যেখানে পাকিস্তানের অনমনীয়তা পুরস্কৃত হয়েছে এবং ভারতের সদিচ্ছা বারবার ব্যবহৃত হয়েছে।
ভারত:
(ক) মোট পানির ৮০ শতাংশ ছেড়ে দিয়েছে।
(খ) ৬২ মিলিয়ন পাউন্ড অর্থ প্রদান করেছে।
(গ) একতরফা সীমাবদ্ধতা মেনে নিয়েছে।
(ঘ) ৬৫ বছর ধরে চুক্তি পুরোপুরি মেনে চলেছে।
এর বিনিময়ে ভারত পেয়েছে এমন একটি চুক্তি, যা পাকিস্তান উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, আন্তর্জাতিকভাবে “পানি যুদ্ধ” বর্ণনা প্রচার করছে, এবং ভারতের বিশাল ভূখণ্ডের উন্নয়ন স্থায়ীভাবে সীমিত করছে।
ভারতের সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে সিন্ধু অববাহিকায় তার বৈধ স্বার্থ রক্ষার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি কোনো আগ্রাসন নয়; বরং একটি দীর্ঘদিনের অসম ব্যবস্থার সংশোধন।
যারা প্রশ্ন করেন কেন এখন এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো- তাদের জন্য স্মরণীয় বিষয় হলো, সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কখনোই ভুল সময় নয়।

লেখক: সিন্ধু জলবিষয়ক প্রাক্তন কমিশনার, ভারত।

বিশ্লেষণ থেকে আরো পড়ুন


 শিরোনাম
news icon নগর ভবনের সামনে হকারদের অবস্থান ধর্মঘট news icon হবিগঞ্জে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, নিহত বাবা ও ছেলে news icon টেকসই আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগকালে মানুষের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হবে: প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী news icon টোকেনে শেষ সারাদিনের উপার্জন news icon গোয়াইনঘাটে গভীর রাতে ঘরে দুর্বৃত্তদের হানা, ছুরিকাঘাতে বৃদ্ধার মৃত্যু news icon বিছানাকান্দিতে পানিতে ডুবে নিখোঁজ শাবি শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার news icon চামড়া শিল্পকে বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয়কারী খাত হিসেবে গড়ে তোলা হবে news icon ভারতীয় গরুর রমরমা বাণিজ্য সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী পশুর হাটে  news icon খামারি থেকে ট্যানারি পর্যন্ত অনিশ্চয়তা news icon সুরমা ডাইকের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ভাঙনের মুখে