প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬ ২২:৩৮
স্বতন্ত্র চিন্তার কৃতিমান চিত্রশিল্পী শাহ আলমের ৫৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সিলেটে শুরু হয়েছে “শাহ আলম রেট্রোস্পেকটিভ চিত্র প্রদর্শনী” এবং তিন দিনব্যাপী “শ্রীহট্ট আর্ট ক্যাম্প ২০২৬”।
আয়োজনে অংশ নিয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী ও শিল্পপ্রেমীরা।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য প্রদান করেন হ্যারল্ড রশীদ চৌধুরী (ট্রাস্টি ও সাবেক অধ্যক্ষ, সিলেট আর্টস কলেজ), অধ্যাপক আলাউদ্দিন আহম্মেদ (চেয়ারম্যান, চারুকলা অনুষদ, ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ), শামসুল বাসিত শেরো (ট্রাস্টি, সিলেট আর্টস কলেজ), আব্দুল করিম কীম (পরিবেশ ও নাগরিক আন্দোলনের সংগঠক), আরিফুর রহমান তপু (সভাপতি, বাংলাদেশ ডট আর্টিস্ট গ্রুপ)।
বক্তারা বলেন, শাহ আলম শুধু একজন শিল্পী নন; তিনি ছিলেন এক নীরব সৃষ্টিশীল ব্যক্তিত্ব, যার শিল্পচর্চা সিলেটের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে সমৃদ্ধ করেছে। তার স্মরণে আয়োজিত এই প্রদর্শনী ও আর্ট ক্যাম্প নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তারা আরও জানান, খুব শীঘ্রই বাংলাদেশ ডট আর্টিস্ট গ্রুপের সহযোগিতায় ঢাকায় শাহ আলমের চিত্রকর্ম নিয়ে একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে, যার মাধ্যমে তার শিল্পকর্মের বিস্তৃত প্রচার ও প্রসার ঘটবে।
বুধবার শুরু হওয়া আর্ট ক্যাম্প চলবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত।
১৯৭৩ সালের ৫ মে হবিগঞ্জ জেলার সুলতাশ্রী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শাহ আলম। শৈশব থেকেই গ্রামীণ প্রকৃতি, বর্ষার স্নিগ্ধতা ও সবুজের গভীরতা তার শিল্পচেতনার ভিত গড়ে দেয়। পরবর্তীতে সিলেটের সাংস্কৃতিক পরিবেশে তাঁর শিল্পজীবনের বিকাশ ঘটে। ১৯৯৩ সালে সিলেট শিল্পকলা একাডেমিতে যোগ দিয়ে তিনি শিল্পচর্চা শুরু করেন এবং প্রয়াত শিল্পগুরু অরবিন্দ দাস গুপ্তের দিকনির্দেশনায় জলরং, তৈলরং ও এক্রেলিক মাধ্যম আয়ত্ত করেন।
শাহ আলমের শিল্পকর্মে দেশীয় প্রকৃতি, মানুষের জীবন ও উৎসবের চিত্র বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। ১৯৯৮ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সিলেটের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন- মঞ্চসজ্জা, নাট্যসেট, বৈশাখী র্যালি ও সামাজিক অনুষ্ঠানে তার সক্রিয় উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।
২০০৬ সালের ২৯ মে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। সংক্ষিপ্ত জীবনে তার রেখে যাওয়া শিল্পকর্ম আজও শিল্পপ্রেমীদের মাঝে সমানভাবে সমাদৃত।
শিল্প সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন