নাগরিক সংবাদ

অনন্য উদাহরণ

সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রের দুই সদস্যের বিয়ে সম্পন্ন

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬ ২৩:২৪

সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সিলেট নগরীর লামাপাড়াস্থ ‘সরকারি সমন্বিত শিশু পরিবার’-এ বেড়ে ওঠা দুই সদস্যের বিয়ে বুধবার অনাড়ম্বর ও আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। ছোটবেলা থেকে অভিভাবকহীন অবস্থায় সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে লালিত-পালিত পাত্র ইমন সরকার ও পাত্রী স্বপ্না আক্তার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। 


বিয়ের পুরো আয়োজন জুড়ে ছিল ভালোবাসা আর দায়িত্ববোধের এক অনন্য উদাহরণ। কোথাও কোনো ঘাটতি ছিল না। সাজসজ্জা, অতিথি আপ্যায়ন, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতাÑ সবকিছুই ছিল একটি স্বাভাবিক পরিবারের বিয়ের মতোই। 


বিবাহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানান সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, শ্রম আদালতের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ নুরুল আলম মোহাম্মদ নিপু, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আব্দুর রফিক, সহকারী কমিশনার মো. জুয়েল মিয়া ও নাজিয়া হোসেন এবং সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারের প্রতিনিধি হিসেবে ওসি কামরুজ্জামানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। 


সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের এই মানবিক উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। পরিবারহীন শিশুদের স্নেহ, শিক্ষা ও নিরাপদ পরিবেশে গড়ে তুলে তাদের স্বাভাবিক ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনে প্রতিষ্ঠিত করার যে দায়িত্ব রাষ্ট্র পালন করছে, আজকের এই আয়োজন তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ইমন সরকার ও স্বপ্না আক্তারের নতুন জীবনের সূচনায় আমরা আনন্দিত। আমি আশা করি, তারা পারস্পরিক ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে সুখী ও সুন্দর পরিবার গড়ে তুলবে। 


বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ও সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রের প্রধান এস এম মোক্তার হোসেন বলেন, সমাজসেবা অধিদফতর শুধু আশ্রয়ই নয়, শিশুদের শিক্ষা, মানসিক বিকাশ ও স্বাবলম্বী জীবন গঠনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ইমন ও স্বপ্নার এই শুভসূচনা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের বিষয়। 


এ বিয়ের আয়োজনে এগিয়ে আসেন সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিশিষ্ট ব্যক্তি ও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে, যা এফডিআর করে রাখা হবে। স্থানীয় এক ব্যক্তি উপহার দিয়েছেন প্রয়োজনীয় সব আসবাবপত্র। পুনর্বাসন কেন্দ্রের পক্ষ থেকে অতিথি আপ্যায়নের আয়োজন করা হয়। একটি মিষ্টি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান উপহার দিয়েছে ১০০ কাপ দই। 


সব মিলিয়ে পুরো আয়োজন ছিল আনন্দমুখর ও হৃদয়স্পর্শী। কেউ বুঝতেই পারেননি, এটি অনাথ তরুণ-তরুণীর বিয়ে। বরং মনে হচ্ছিল, বহু আদরে বড় হওয়া সন্তানের বিয়ের অনুষ্ঠান। 


উল্লেখ্য, ২০১২ সাল থেকে ‘সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র’ দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৭টি কেন্দ্রের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত, পথশিশু, ঝুঁকিতে থাকা ও পিতৃহীন শিশুদের নিরাপদ আশ্রয়, ভরণপোষণ এবং পুনর্বাসন সেবা দিয়ে আসছে। 

নাগরিক সংবাদ থেকে আরো পড়ুন


 শিরোনাম
news icon নগর ভবনের সামনে হকারদের অবস্থান ধর্মঘট news icon হবিগঞ্জে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, নিহত বাবা ও ছেলে news icon টেকসই আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগকালে মানুষের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হবে: প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী news icon টোকেনে শেষ সারাদিনের উপার্জন news icon গোয়াইনঘাটে গভীর রাতে ঘরে দুর্বৃত্তদের হানা, ছুরিকাঘাতে বৃদ্ধার মৃত্যু news icon বিছানাকান্দিতে পানিতে ডুবে নিখোঁজ শাবি শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার news icon চামড়া শিল্পকে বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয়কারী খাত হিসেবে গড়ে তোলা হবে news icon ভারতীয় গরুর রমরমা বাণিজ্য সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী পশুর হাটে  news icon খামারি থেকে ট্যানারি পর্যন্ত অনিশ্চয়তা news icon সুরমা ডাইকের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ভাঙনের মুখে