সারাদেশ

আলোচিত রামিসা হত্যা মামলা

রামিসা হত্যা মামলায় দুই আসামির ফাঁসির রায়

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬ ১৯:১৪

ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে আসামি সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না খাতুনকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, জরিমানার অর্থ নিহত রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীদের প্রদান করতে হবে।

রায়ে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হলে আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করে বিক্রির মাধ্যমে সেই অর্থ ভুক্তভোগীর পরিবারকে বুঝিয়ে দিতে হবে।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়। ঘটনার পর অভিযুক্ত সোহেল রানা বাসার জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ প্রথমে স্বপ্না খাতুনকে হেফাজতে নেয়। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় রামিসার বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত চলাকালে ২১ মে সোহেল রানা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর উভয় আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান, ২৫ মে দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একই দিন মামলাটি বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ করা হয়।

পরবর্তীতে ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। ২ জুন রাষ্ট্রপক্ষের ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয় এবং ৩ জুন আসামিদের ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

উল্লেখ্য, রামিসা পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার একটি ভাড়া বাসায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করত এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। একই ভবনের অন্য একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন।

ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় আদালতের এ রায় ঘোষণা করা হলো।

 

 

 

সি/মা/ডেস্ক/এসসিজে

সারাদেশ থেকে আরো পড়ুন