খেলাধুলা

শেষ মুহূর্তের গোলে সুইজারল্যান্ডকে স্তব্ধ করে কাতারের প্রথম পয়েন্ট

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬ ০৬:৫৩

দলকে মূল্যবান পয়েন্ট এনে দেওয়া গোলের পর কাতার অধিনায়ক বুয়ালাম খোখির উল্লাস। ছবি: রয়টার্স

ম্যাচ জুড়ে আক্রমণে দাপট দেখাল সুইজারল্যান্ড। জয়ের পথেই ছিল তারা। কিন্তু একেবারে শেষ মুহূর্তে পাল্টে গেল চিত্র। বেশিরভাগ সময় দ্বিতীয় সেরা দল হয়ে থেকেও হারের মুখ থেকে স্মরণীয় এক পয়েন্ট পেল কাতার।

স্যান ফ্রান্সিসকোর বে এরিয়া স্টেডিয়ামে শনিবার ৬৭ হাজারের বেশি দর্শকের সামনে ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছে।

ব্রিল এমবোলোর স্পট কিকে প্রথমার্ধে এগিয়ে যায় সুইজারল্যান্ড। দ্বিতীয়ার্ধের ছয় মিনিট যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে সমতা টানেন কাতার অধিনায়ক বুয়ালাম খোখি।


বিশ্বকাপে কাতারের এটি দ্বিতীয় গোল ও প্রথম পয়েন্ট। ২০২২ সালে স্বাগতিক হিসেবে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পেয়ে তিন ম্যাচেই হারে তারা, গোল করে একটি।

এই নিয়ে নিজেদের সবশেষ সাত বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে অপরাজিত রইল সুইসরা (৩ জয় ও ৪ ড্র)। তবে কাতারের বিপক্ষে জয়ের দুয়ারে থেকে এভাবে পয়েন্ট হারানো নিশ্চয় অনেক পোড়াবে তাদের।

গোটা ম্যাচে ৬৮ শতাংশ পজেশন রেখে গোলের জন্য ২৬টি শট নিয়ে সাতটি লক্ষ্যে রাখতে পারে সুইজারল্যান্ড। কাতারের সাত শটের চারটি লক্ষ্যে ছিল।


টানা ছয় ম্যাচে জয়হীন থেকে বিশ্বকাপে আসা কাতারই পায় ম্যাচের প্রথম সুযোগ। সুইস রক্ষণের দুর্বলতায় বল পেয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন এডমিলসন জুনিয়র। সামনে একমাত্র বাধা গোলরক্ষক, কিন্তু তার শটে জোর ছিল না তেমন। পা দিয়ে আটকে দেন গ্রেগর কোবেল।

ষষ্ঠ মিনিটে প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ পায় সুইজারল্যান্ড। মাঝমাঠ থেকে সতীর্থের পাস বক্সে পেয়ে জোরাল নিচু শট নেন এনদোয়ে, ঝাঁপিয়ে ফিরিয়ে দেন গোলরক্ষক মাহমুদ আবুনাদা। দশম মিনিটে আরেকটি সুযোগ পান তিনি, কিন্তু পেনাল্টি স্পটের কাছ থেকে উড়িয়ে মারেন ২৫ বছর বয়সী উইঙ্গার।

সময়ের সঙ্গে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ মুঠোয় নেয় সুইজারল্যান্ড। সপ্তদশ মিনিটে এমবোলোর সফল স্পট কিকে এগিয়ে যায় তারা। বক্সে দলটির রেমো ফ্রয়লারকে কাতার গোলরক্ষক ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়েছিলেন রেফারি।

কামেরুনে জন্ম নেওয়া ২৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড এমবোলোর সুইজারল্যান্ডের হয়ে গোল হলো ২৫টি।

২১তম মিনিটে আবার সুযোগ আসে সুইসদের সামনে। এবার দেনিস সাকারিয়ার শট ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক। ৩৬তম মিনিটে আরেকটি সুযোগ পেয়ে বাইরে মারেন তিনি।

আক্রমণে সুইজারল্যান্ডের দাপটের মাঝে ৪৩তম মিনিটে দ্বিতীয় সুযোগ পায় কাতার। এডমিলসনের কোনাকুনি শট পা দিয়ে ঠেকান কোবেল।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্যবধান বাড়ানোর তিনটি ভালো সুযোগ পায় সুইজারল্যান্ড। প্রথম দুটি ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক, অন্যটি গোললাইন থেকে ফেরান কাতারের ডিফেন্ডার।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটাও ইতিবাচক করে সুইসরা। ৫০তম মিনিটে দলটির অধিনায়ক গ্রানিত জাকার দূরপাল্লার শট ক্রসবার ঘেঁষে বেরিয়ে যায়।

পরে খেলার গতি কমে আসে। ৭৫তম মিনিটে দ্বিতীয়ার্ধে প্রথম লক্ষ্যে শট রাখতে পারে সুইজারল্যান্ড। বাঁ দিক থেকে বক্সে ঢুকে রুবেন ভার্গাসের শট ঠেকান গোলরক্ষক। কয়েক সেকেন্ড পরই একইরকম পজিশনে থেকে এমবোলোর শট পাশের জালে লাগে।

দ্বিতীয়ার্ধের ৪৫ মিনিটে একটিই বলার মতো সুযোগ পায় কাতার। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে আহমেদ আলার সেই শট সহজেই ঠেকান কোবেল।

সুইজারল্যান্ডের জয় মনে হচ্ছিল কেবল সময়ের ব্যাপার। এরপরই যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে আসে ওই মুহূর্ত। বাঁ দিক থেকে হোমাম আহমেদের ক্রসে ছয় গজ বক্সের বাইরে প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের ওপর লাফিয়ে জোরাল হেডে বল জালে পাঠান খোখি। উল্লাসে ফেটে পড়ে গোটা কাতার শিবির।

খেলাধুলা থেকে আরো পড়ুন