খেলাধুলা

বিশ্বকাপে সুইডেনের দাপুটে জয়, চমক আইভরি কোস্টের

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬ ১৫:০৮

৮ বছর পর ফুটবল বিশ্বকাপে ফিরে দুর্দান্ত সূচনা করেছে সুইডেন! বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে সুইডিশরা। অন্যদিকে শেষ মুহূর্তের গোলে ইকুয়েডরকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে স্মরণীয় জয় তুলে নিয়েছে আইভরি কোস্ট।

মন্তেরেই স্টেডিয়ামে আজ অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে সুইডেন। ম্যাচের সপ্তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত শটে দলকে এগিয়ে দেন ইয়াসিন আয়ারি। ৩০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আলেক্সান্দার ইসাক। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে তিউনিসিয়ার হয়ে ব্যবধান কমান ডিফেন্ডার ওমর রেকিক। হানিবাল মেজব্রির অ্যাসিস্ট থেকে গোল করে দলকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন তিনি।


তবে দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে সুইডেন। ৫৯ মিনিটে ভিক্টর গিয়োকেরেস গোল করে ব্যবধান বাড়ান। গোলটি আসে তিউনিসিয়ার রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষকের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে। গোলরক্ষক আবদেলমুহিব শামাখের অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে ইসাক বল বাড়িয়ে দেন গিয়োকেরেসকে, আর তিনি সহজেই বল জালে পাঠান! এরপর আরও একটি গোল করে বড় জয় নিশ্চিত করে সুইডেন।

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে ১৯৫৮ সালে নিজেদের মাটিতে আয়োজিত আসরে একমাত্রবারের মতো ফাইনালে উঠেছিল সুইডেন। সেবার ব্রাজিলের কাছে হেরে রানার্সআপ হয়েছিল তারা। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছানোর পর এবার ৮ বছর পর আবারও বিশ্বমঞ্চে ফিরে দারুণ শুরু করল দলটি!


অন্যদিকে ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে ইকুয়েডরকে হারাতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে আইভরি কোস্টকে। ১-০ গোলে জিতে ইকুয়েডরের ১৯ ম্যাচের অপরাজিত যাত্রা থামিয়ে দিল আইভরিকোস্ট।

ম্যাচজুড়ে দুই দলই একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না। ইকুয়েডর তিনবার পোস্ট ও ক্রসবারে আঘাত করে হতাশ হয়। এনার ভ্যালেন্সিয়া, জন ইয়েবোহ ও অ্যালান মিন্দা গোলের খুব কাছে গিয়েও সফল হতে পারেননি।

আইভরি কোস্টের হয়ে তরুণ ইয়ান দিওমান্দে ছিলেন সবচেয়ে উজ্জ্বল। ডান প্রান্ত দিয়ে একের পর এক আক্রমণ গড়ে তুললেও সতীর্থদের ব্যর্থতায় সেগুলো থেকে গোল আসেনি। নিকোলাস পেপে ও এলি ওয়াহিও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য আফ্রিকার দলটি আরও বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এবং একাধিক ভালো সুযোগ তৈরি করে।

যখন ম্যাচটি গোলশূন্য ড্রয়ের দিকেই এগোচ্ছিল, তখন ৯০তম মিনিটে আসে নির্ণায়ক মুহূর্ত। উইলফ্রিড সিঙ্গোর দারুণ দৌড় ও ক্রস থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সের প্রান্ত থেকে নিখুঁত শটে জাল খুঁজে নেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ফরোয়ার্ড আমাদ দিয়ালো। তার একমাত্র গোলেই জয় নিশ্চিত হয় আইভরি কোস্টের।

এই জয়ের মাধ্যমে ইকুয়েডরের ১৯ ম্যাচের অপরাজিত যাত্রার অবসান ঘটিয়েছে আইভরি কোস্ট। ১২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই শক্তিশালী ও ছন্দে থাকা প্রতিপক্ষকে হারিয়ে দারুণ বার্তা দিয়েছে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা!

এদিকে গ্রুপ ‘ই’-এর অন্য ম্যাচে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছে জার্মানি। বড় ব্যবধানে জয় পাওয়ায় গ্রুপের শীর্ষস্থানেও রয়েছে জার্মানরা।

খেলাধুলা থেকে আরো পড়ুন