সিলেট

জকিগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে যুবক নিহতের দাবি

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬ ১৬:১৬

জকিগঞ্জ উপজেলার উত্তরকুল সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে ডিপজল আহমদ নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনার পর থেকে ওই যুবকের মরদেহ সীমান্তের ওপারে আটকে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।  

এই ঘটনার জেরে দুই দেশের সীমান্তবর্তী লোকজনের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিখোঁজ ডিপজল আহমদ উপজেলার বারঠাকুরী ইউনিয়নের দিগালি গ্রামের আহমদ আলীর ছেলে। 

স্থানীয় বাসিন্দা ও ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (১৪ জুন) রাতে ডিপজলসহ কয়েকজন যুবক সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে যান। ফেরার পথে বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালান। এ সময় ডিপজলের সঙ্গে থাকা অন্য যুবকেরা পালিয়ে বাংলাদেশে ফিরতে সক্ষম হলেও ডিপজল নিখোঁজ হন। 

পালিয়ে আসা যুবকদের বরাত দিয়ে স্থানীয়রা দাবি করছেন, বিএসএফের গুলিতে ঘটনাস্থলেই ডিপজলের মৃত্যু হয়েছে এবং বিএসএফ তার লাশ নিয়ে গেছে।

এদিকে ডিপজলের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় গত দুদিনে স্থানীয় গ্রামবাসীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে মঙ্গলবার (১৬ জুন) সীমান্ত এলাকা থেকে এক ভারতীয় কৃষককে ধরে নিয়ে আসেন উত্তেজিত বাংলাদেশিরা। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একই দিন সন্ধ্যার দিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মাধ্যমে ওই ভারতীয় নাগরিককে বিএসএফের কাছে ফেরত দেওয়া হয়। 

বারঠাকুরী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. আব্দুল মুকিত বলেন, “সীমান্তের ওপারে বিএসএফ গুলি চালালে তিনজন পালিয়ে এলেও একজন নিখোঁজ হন। যারা ফিরে এসেছেন, তারা দাবি করছেন নিখোঁজ যুবককে গুলি করে মেরে মরদেহ আটকে রেখেছে বিএসএফ। এই ক্ষোভে স্থানীয়রা একজন ভারতীয়কে তুলে এনেছিলেন, পরে তাকে বিজিবির মাধ্যমে ফেরত দেওয়া হয়েছে।”

বারঠাকুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহসিন মর্তুজা চৌধুরী (টিপু) বলেন, “ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভারতীয় নাগরিককে গতকাল সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ফেরত দেওয়া হলেও বাংলাদেশি যুবক নিখোঁজের বিষয়টি এখনো সমাধান হয়নি। সে জীবিত নাকি মৃত, সেটা আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো জানা যায়নি।”

জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, উত্তরকুল সীমান্ত এলাকার লোকজন দাবি করছেন সীমান্তের ওপারে একজনকে গুলি করে মারা হয়েছে। তবে এই নিখোঁজ বা নিহতের ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি।

সীমান্তের এই উত্তেজনা ও বাংলাদেশি যুবক নিখোঁজের বিষয়ে জানতে জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (১৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জুবায়ের আনোয়ারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
 

সিলেট থেকে আরো পড়ুন