ধান-চাল সংরক্ষণে বিপাকে খাদ্য বিভাগ
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ ১৬:৩৮
সিলেট বিভাগে কোনো কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদাম (সিএসডি) না থাকায় সরকারিভাবে সংগৃহীত বোরো ধান ও চাল সংরক্ষণ নিয়ে তীব্র সংকটে পড়েছে আঞ্চলিক খাদ্য বিভাগ। স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদিত শস্য সংরক্ষণের পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় সংগ্রহ অভিযান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্বৃত্ত শস্য মজুতের জন্য জরুরি ভিত্তিতে একটি বৃহৎ ধারণক্ষমতাসম্পন্ন আধুনিক গুদাম বা সাইলো নির্মাণ করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে খাদ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন মহলে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে প্রতি বছরই ধান-চাল সংগ্রহের পর তা রাখা নিয়ে কর্মকর্তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
কৃষি ও খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দেশের অন্যতম প্রধান শস্য ভাণ্ডারখ্যাত সিলেটের হাওরাঞ্চলে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বোরো ধান উৎপাদিত হয়। চলতি মৌসুমে গত ৩ মে থেকে শুরু হওয়া এই বোরো ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান চলবে আগামী ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত।
বর্তমান বাজারে সরকার নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী প্রতি কেজি সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা, আতপ চাল ৪৮ টাকা এবং প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা দরে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে মাঠ পর্যায়ে ক্রয় করা হচ্ছে।
এবারের সংগ্রহ অভিযানে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বেশ তোড়জোড় চালাচ্ছে খাদ্য বিভাগ। ইতিমধ্যে বিভাগের ৪ হাজার ১৯৩ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে সংগৃহীত হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭২ মেট্রিক টন চাল।
তবে আতপ চাল ও ধান সংগ্রহের ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে। আতপ চালের ৩৪ হাজার ১২৪ মেট্রিক টন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এ পর্যন্ত সংগ্রহ হয়েছে ২৪ হাজার ৬৮৩ মেট্রিক টন এবং ধানের ৪৩ হাজার ৬৯৪ মেট্রিক টন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে মাঠ পর্যায় থেকে সংগৃহীত হয়েছে ৩৬ হাজার ১৯৯ মেট্রিক টন।
সংগৃহীত এই সমস্ত শস্যই চলতি মৌসুমের উচ্চ ফলনশীল বোরো প্রজাতির।
স্থানীয় হাওর এলাকার কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি গুদামগুলোর ধারণক্ষমতা কম থাকায় অনেক সময় ধান বিক্রি করতে এসে তাদের দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হয়।
আবার আর্দ্রতার অজুহাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয় ধান। সিলেটে একটি বড় সাইলো বা কেন্দ্রীয় গুদাম থাকলে তারা আরও সহজে এবং সরাসরি সরকারের কাছে ন্যায্যমূল্যে ধান বিক্রি করতে পারতেন। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমত এবং কৃষকরা সরাসরি লাভবান হতেন।
আঞ্চলিক খাদ্য অধিদপ্তর অবশ্য আশাবাদ ব্যক্ত করেছে যে, নির্দিষ্ট সময়সীমা ৩১ আগস্টের মধ্যেই বোরো ধান ও চাল সংগ্রহের শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে। তবে সিলেট বিভাগের জন্য একটি স্থায়ী ও আধুনিক কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদাম স্থাপন করা না গেলে এই অঞ্চলের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার বিষয়টি দীর্ঘ মেয়াদে ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
এ ব্যাপারে সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. এস এম সাইফুল ইসলাম জানান, বিভাগে কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদাম না থাকায় সংগৃহীত চাল ও ধান স্থানীয় ছোট ছোট উপজেলা ও জেলা খাদ্যগুদামগুলোতে (এলএসডি) গাদাগাদি করে রাখতে হচ্ছে।
অনেক গুদাম পুরোনো ও স্যাঁতসেঁতে হওয়ায় দীর্ঘ মেয়াদে খাদ্যশস্যের গুণগত মান বজায় রাখাও কঠিন হয়ে পড়ছে। তা ছাড়া সিলেট অঞ্চলের আবহাওয়া অত্যন্ত আর্দ্র হওয়ায় শস্য সংরক্ষণে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়, যা আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ছাড়া সাধারণ এলএসডিতে অত্যন্ত দুরূহ।
বিশেষ প্রতিবেদন থেকে আরো পড়ুন