বিশেষ প্রতিবেদন

অপরাধের আখড়া ইনডোর স্টেডিয়াম

কিশোর গ্যাংয়ের আড্ডায় উদ্বিগ্ন নগরবাসী

প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬ ১৪:৫০

সন্ধ্যা নামতেই আলো জ্বলে ওঠে সিলেট নগরীর অলিগলিতে গড়ে ওঠা একের পর এক বাণিজ্যিক ইনডোর স্টেডিয়ামের। বল-ব্যাটের শব্দ, দর্শকদের উল্লাস আর তরুণদের ছুটোছুটিতে জমজমাট হয়ে ওঠে জায়গাগুলো। কিন্তু রাত যত গভীর হয়, ততই পাল্টে যেতে থাকে চিত্রÑখেলার মাঠ পরিণত হয় বাগ্বিতণ্ডা, হাতাহাতি আর কিশোর গ্যাংয়ের অবাধ আড্ডাখানায়। নগরবাসীর অভিযোগ, বিনোদনের নামে গড়ে ওঠা এসব স্থাপনার একটি অংশ এখন পরিণত হয়েছে অপরাধের আখড়ায়।


স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, অনেক ইনডোর স্টেডিয়ামে খেলা চলে মধ্যরাত পর্যন্ত। সামান্য বিষয় নিয়ে খেলোয়াড়-দর্শকদের মধ্যে শুরু হওয়া তর্ক গড়ায় হাতাহাতি, এমনকি মারামারি পর্যন্ত। এতে আশপাশের বাসিন্দারা পড়ছেন নিরাপত্তাহীনতায়। আরও উদ্বেগজনক তথ্য দিয়েছেন অভিভাবকদের একাংশÑকিছু স্টেডিয়ামকে কেন্দ্র করে কিশোরদের উদ্দেশ্যহীন আড্ডা দেওয়ার প্রবণতা বেড়ে চলেছে দিনকে দিন। অভিযোগ আছে, এসব জমায়েতে মিশে যাচ্ছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরাও, যা ভবিষ্যতে অপরাধ বৃদ্ধির শঙ্কা জাগাচ্ছে।


ভোগান্তির তালিকা এখানেই শেষ নয়। গভীররাতে মোটরসাইকেলের বিকট শব্দ, উচ্চস্বরে চিৎকার আর যানজটে অতিষ্ঠ স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। আবাসিক এলাকার গা ঘেঁষে গড়ে ওঠা স্টেডিয়ামগুলোর কারণে সবচেয়ে বেশি ভুগছেন শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষেরা।


সচেতন নাগরিকদের মতে, খেলাধুলা তরুণদের জন্য ইতিবাচক হলেও তদারকির অভাবে অনেক স্টেডিয়ামই হারিয়ে ফেলেছে শৃঙ্খলা। নির্ধারিত সময়ের বাইরে গভীররাত পর্যন্ত খেলা চালানো, পরিচয় যাচাই ছাড়াই যে কারও প্রবেশাধিকার এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবÑএই তিন কারণে পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হচ্ছে বলে মনে করেন তাঁরা।


প্রশাসনের কাছে তাই একাধিক দাবি তুলেছেন নগরবাসী: নির্দিষ্ট সময়ের পর খেলা বন্ধ করা, সিসিটিভির কার্যকারিতা নিশ্চিত করা, নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার করা, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে নজরদারি বাড়ানো এবং আবাসিক এলাকায় পরিচালিত ইনডোর স্টেডিয়ামগুলোর লাইসেন্স ও পরিচালনা নীতিমালা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, জনভোগান্তি দূর করতে ইতিমধ্যে সব ইনডোর মালিককে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। ইনডোরকেন্দ্রিক অপরাধ যাতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সেজন্য নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

.......

বিশেষ প্রতিবেদন থেকে আরো পড়ুন